রয়টার্স এক্সক্লুসিভ

চীন থেকে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ইরান

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩: ৫৪
চীনের বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে উড়ছে চীন ও ইরানের জাতীয় পতাকা। ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েক মাসের সংঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সে সক্ষমতা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে চীনের তৈরি কয়েকশ কাঁধে বহনযোগ্য বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র (ম্যানপ্যাডস) কিনছে ইরান। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এর প্রথম চালান তেহরানে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬ থেকে ৭ কোটি ডলার মূল্যের এ চুক্তির আওতায় চীনের তৈরি ৩০০ থেকে ৪০০টি কিউডব্লিউ-১২ (QW-12) ও এফএন-১৬ (FN-16) ম্যানপ্যাডস সংগ্রহ করবে ইরান। যুদ্ধ শুরুর পর স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে এটিই তেহরানের প্রথম বড় উদ্যোগ।

রয়টার্সের দাবি, হংকংভিত্তিক ঝংছিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই চুক্তির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে চীনা সরবরাহকারীর চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়টার্সের প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে। বেইজিং দাবি করেছে, ‘চীন সবসময় শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাতের অবসানে ভূমিকা রেখে এসেছে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে স্থায়ী সামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় ইরানের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ কারণেই দ্রুত স্বল্পপাল্লার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে চাইছে দেশটি।

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে পশ্চিম চীনের উরুমকি থেকে আকাশপথে অস্ত্র পাঠানো হবে। এরপর পাকিস্তান হয়ে তা ইরানে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পরিবহন পুরোপুরি আকাশপথে হবে নাকি সড়কপথও ব্যবহার করা হবে, তা নিশ্চিত হতে পারেনি রয়টার্স।

যদিও পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ দাবি নাকচ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, চীন থেকে পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানে আকাশ প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কোনো অস্ত্র সরবরাহের খবর ‘সম্পূর্ণ মনগড়া ও মিথ্যা’। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কাঁধে বহনযোগ্য এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে মোতায়েন করা যায়। ফলে স্থায়ী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় এগুলো ধ্বংস করা শত্রুপক্ষের জন্য কঠিন। ড্রোন, হেলিকপ্টার ও নিচু দিয়ে উড়ে আসা যুদ্ধবিমান প্রতিহত করতে এগুলো বিশেষভাবে কার্যকর।

এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, চীনের কাছ থেকে জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়েও আলোচনা চালাচ্ছিল ইরান। তবে সেই চুক্তি শেষ পর্যন্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সূত্র : রয়টার্স

Ad 300x250

সম্পর্কিত