যন্তরমন্তরে মধ্যরাত পর্যন্ত বিক্ষোভে স্থপতি, অভিনেতাসহ নানা পেশার মানুষ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

জন্তরমন্তরে মধ্যরাত পর্যন্ত বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে রাজধানী দিল্লির যন্তরমন্তরে মধ্যরাত পর্যন্ত বিক্ষোভ করেছেন আন্দোলনকারীরা। ভারী বৃষ্টি ও পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ চালিয়ে যান তারা। এ সময় কেন্দ্রীয় সরকার ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

বিক্ষোভস্থলে বিদ্যুৎ ছিল না। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অন্ধকারে মঞ্চ ও আশপাশের এলাকায় চলাচলের জন্য অনেকে মোবাইল ফোনের টর্চ ব্যবহার করেন। সঙ্গে ছিল পানি, বিস্কুট ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যও মোতায়েন ছিলেন।

উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহর থেকে আসা ২১ বছর বয়সি শিক্ষার্থী আয়ুষ কাশ্যপ বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের খবর শুনে তিনি সেখানে এসেছেন।

কাশ্যপ বলেন, আমি আমার বাবা-মাকে বলেছি, মন্ত্রী পদত্যাগ করার পরই আমি বাড়ি ফিরব। আমি প্রয়োজনীয় সবকিছু নিয়ে এসেছি— বালিশ, চাদর, টুথব্রাশ। আমি শেষ পর্যন্ত এখানে থাকার জন্য প্রস্তুত।

দিল্লির মহারানি বাগের বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সি আয়ুশি গুপ্ত পানি ও বিস্কুট নিয়ে বিক্ষোভস্থলে আসেন। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের লাঠিচার্জের ভিডিও দেখে তিনি সেখানে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

আয়ুশি বলেন, স্বচ্ছ শিক্ষা ব্যবস্থার দাবির জন্য শিক্ষার্থীদের এভাবে পেটানো যায় না। আমার বয়সী একজন শিক্ষার্থীর মাথা থেকে রক্ত ঝরতে দেখেছি। সরকার এমন আচরণ কীভাবে করতে পারে?

সারাদেশ থেকে এসেছেন বিক্ষোভকারীরা

সংসদ অভিমুখে মিছিলের আগে সকাল থেকেই যন্তর মন্তরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়ো হতে থাকেন। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, তরুণ পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ এতে অংশ নেন।

ককক্রোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আয়োজিত এই মিছিলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হয়। তবে মিছিলের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ।

এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়া বা সংসদ পর্যন্ত মিছিল করার জন্য সিজেপি কোনো অনুমতি নেয়নি। তবে এতে বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি কমেনি।

দিল্লির শাহদারা থেকে আসা ৪২ বছরের দীপা স্বামী ও তিন সন্তানকে নিয়ে সকালে যন্তরমন্তরে পৌঁছান। তিনি বলেন, আমার দুটি সন্তান সরকারি স্কুলে পড়ে। তাদের ভবিষ্যৎ এর সঙ্গে জড়িত। আমরা এমন শিক্ষা ব্যবস্থা চাই, যেখানে ধনী-গরিব সব শিক্ষার্থী সমান সুযোগ পাবে।

তার স্বামী প্রহ্লাদ বলেন, আমরা যদি ভয় পেতাম, তাহলে এখানে আসতাম না।

মুম্বাইয়ের অভিনেতা ও শিক্ষক উজয় বলেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই আন্দোলনের খবর দেখে সেখানে এসেছেন। প্রথমে বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি জানতাম না। পরে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমার মনে হয়েছে, কোনো ঘটনার দায় নিতে হলে দায়িত্বশীলদের এগিয়ে আসা উচিত।

তবে বিক্ষোভস্থলে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

দিল্লির এক স্থপতি বলেন, প্রতিবাদ করতে কেন অনুমতি লাগবে? এটি আমাদের মৌলিক অধিকার।

জয়পুর থেকে আসা স্থপতি দুষ্যন্ত বলেন, এই তরুণেরা এমন প্রশ্ন করছে, যা আমাদের প্রজন্ম করেনি। তারা জানতে চাইছে, সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের জন্য কেন অনুমতি প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, অনেকে জানেন, পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। তারপরও তাঁরা এসেছেন, কারণ দীর্ঘদিন চুপ করে থাকা সম্ভব নয়।

উত্তরপ্রদেশের বেরেলি থেকে আসা ১৯ বছর বয়সি ব্লিঙ্কিট ডেলিভারি কর্মী নিতিন, অনিল ও তাঁদের সহকর্মী রঞ্জনও বিক্ষোভে অংশ নেন। জীবিকার কারণে তাঁদের পড়াশোনা ছাড়তে হয়েছে।

রঞ্জন বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ২০ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আমরা চাই, এমন ঘটনা যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে। তাই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি। আমাদের জীবন অনিশ্চিত। আমরা সারাদিন মানুষের কাছে পণ্য পৌঁছে দিই। আমরা জানি, একজন মানুষের জীবনের মূল্য কত।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে নয়াদিল্লিতে সংসদ অভিমুখে সোমবার (২০ জুলাই) বিক্ষোভ মিছিল করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

এ সময় বাধা দিলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষ হয়। সিজেপির কর্মী-সমর্থকদের ওপর টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এতে অর্ধ শতাধিক বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।

এদিন যন্তরমন্তরে সিজেপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় দিল্লি পুলিশ। সংগঠনটির পার্লামেন্টমুখী পদযাত্রা ঠেকাতে জনসমাবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করে দিল্লি পুলিশ।

Ad 300x250

সম্পর্কিত