নেপালে বন্যা/দুজনের ‘অলৌকিক’ উদ্ধারে বাকি ৪৬ জনকে নিয়ে বাড়ছে আশা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া আরও অন্তত ৪৬ জনের বেঁচে থাকার আশা করছেন উদ্ধারকারী ও বিশেষজ্ঞরা। সংগৃহীত ছবি
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া আরও অন্তত ৪৬ জনের বেঁচে থাকার আশা করছেন উদ্ধারকারী ও বিশেষজ্ঞরা। সংগৃহীত ছবি

নেপাল-তিব্বতে পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যার ৯ দিন পর জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গ থেকে দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ত্রিশূলি-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে তাঁদের উদ্ধার করে নেপালের সেনাবাহিনী ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া আরও অন্তত ৪৬ জনের বেঁচে থাকার আশা করছেন উদ্ধারকারী ও বিশেষজ্ঞরা।

উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন ৩০ বছর বয়সী যান্ত্রিক বিভাগের ফোরম্যান সঞ্জয় শাহ এবং ৪৫ বছর বয়সী সুপারভাইজার কবির মহারাজন। উদ্ধারের পর কবির মহারাজনকে হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুর ছাউনি সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।

কবিরের শ্যালিকা লক্ষ্মী নাইনি এএফপিকে বলেন, ‘এটা অলৌকিক ঘটনা! আমি খুব খুশি। সামাজিক মাধ্যমে জানতে পেরেছি তিনি বেঁচে আছেন, আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না।’

কবিরের স্ত্রী হীরাশোভা বিবিসি নেপালকে বলেন, ‘দশ দিন ঠিকমতো খেতে বা ঘুমাতে পারিনি। এখন আমরা সবাই এত খুশি যে কাঁদছি।’

নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কবির মহারাজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে আর্মি হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে এবং সঞ্জয় শাহেরও স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামাগুড়ি দিয়ে সুড়ঙ্গ থেকে বের হওয়ার সময় তাঁদের হাত ও পায়ে আঘাত লেগেছে। নেপালের জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যতক্ষণ শ্বাস আছে, ততক্ষণ আশা আছে! ক্ষতিগ্রস্ত সব টানেলে উদ্ধার অভিযান চলছে। আমরা আশা হারাইনি।’

এই উদ্ধারের নেপথ্যে কাজ করেছে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের নির্দেশনায় পরিচালিত অভিযান। ইন্টারন্যাশনাল টানেলিং অ্যান্ড আন্ডারগ্রাউন্ড স্পেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এবং অস্ট্রেলীয় উদ্ধারকাজ বিশেষজ্ঞ আর্নল্ড ডিক্স দূর থেকে এই অভিযানে পরামর্শ দিচ্ছেন। শুক্রবার ভোরে তিনি জানান, উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে ক্ষীণ সাড়া পেয়েছেন।

ডিক্স বলেন, ‘উদ্ধারকারীরা টানেলের ভেতরে চিৎকার করে বলেছেন, “ভয় পাবেন না, আমরা আপনাদের উদ্ধার করছি।” ভেতর থেকে নেপালি ভাষায় মৃদু স্বরে উত্তর এসেছে “হুঞ্চা”, যার অর্থ হ্যাঁ বা ঠিক আছে।’

তাঁর এই ঘোষণার এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে দুই শ্রমিককে নিরাপদে বের করে আনা হয়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, পাহাড়ি ঢলটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার বেগে প্রায় ৬০ মাইল পথ

পাড়ি দিয়ে গ্রাম, সেতু ও জলবিদ্যুৎ বাঁধ ভাসিয়ে নিয়ে যায়। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে অন্তত ২২ লাখ টন ধ্বংসস্তূপের সৃষ্টি হয়েছে। বিশাল পাথর ও কাদামাটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলো প্লাবিত করে প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে।

তবে উদ্ধারকারীরা আশা ছাড়েননি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাসুয়াগাড়ি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ কক্ষে অন্তত ৪৬ জন এখনো জীবিত আছেন বলে তারা ধারণা করছেন।

নেপাল বিদ্যুৎ বিভাগের পর্ষদ সদস্য অংশু কিরণ শাহি বলেন, ‘এক সপ্তাহ পরও তাঁরা বেঁচে আছেন বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী। কারণ, ওই ভবনের ভেতরে তাঁদের জন্য খাবার ও পানি ছিল এবং সুড়ঙ্গের ভেতরে বাতাসের বুদ্বুদ (এয়ার পকেট) তৈরি হয়েছে।’

রাসুয়াগাড়ি প্রকল্পটি তিব্বত সীমান্ত থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং হেলিকপ্টার ছাড়া সেখানে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব।

ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় নেপালের সেনাবাহিনী চারটি বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পাহাড়জুড়ে জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণে ৯০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছিল নেপাল। এই দুর্যোগে যার মধ্যে অন্তত ১২ প্রকল্প ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর ফলে নেপালের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ বন্ধ হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির পুনর্গঠনে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত