যিশুর মূর্তি ভাঙচুরের নিন্দা জানাবে না ইসরায়েলের প্রধান ‘ধর্মীয় সংস্থা’

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬, ২৩: ১৮
স্লেজহ্যামার দিয়ে যিশুর মূর্তির মাথায় আঘাত করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে এক ইসরায়েলি সেনার হাতে যিশুর মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় নিন্দা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রধান ধর্মীয় সংস্থা ‘চিফ রাব্বিনেট’। দেশটির গণমাধ্যম আর্মি রেডিওর বরাতে এ খবর জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এপ্রিলে দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা রাব্বিনেটের কাছে আনুষ্ঠানিক নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। সেসময় ঘটনাটি দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

সেনাবাহিনী চেয়েছিল, রাব্বিনেট ঘটনাটিকে ইহুদি আইনের পরিপন্থী উল্লেখ করে নিন্দা জানাক। তবে এমন কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাব্বিনেট ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী এবং ইসরায়েলের প্রচারণা বিভাগ ‘হাসবারা’র সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

দেশটির সেনাবাহিনী জানায়, ধর্মীয় প্রতীকে হামলার বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় আইডিএফ জানাতে চেয়েছিল এ ধরনের ঘটনা তাদের মূল্যবোধের প্রতিফলন নয়।

গত ১৯ এপ্রিল ইসরায়েল সীমান্তের নিকটবর্তী লেবাননের ডেবল নামের একটি খ্রিষ্টান অধ্যুষিত গ্রামে স্লেজ-হ্যামার দিয়ে যিশুর মূর্তি ভাঙচুর করে ইসরায়েলের এক সেনা। পরের দিন ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, এ ঘটনায় তিনি ‘স্তম্ভিত ও মর্মাহত’। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সারও দুঃখ প্রকাশ করে জানান, এতে যেসব খ্রিষ্টানদের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে, তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাঙচুরের ঘটনায় অজ্ঞতার পাশাপাশি কিছু ইসরায়েলি ইহুদির মধ্যে খ্রিস্টানদের প্রতি বিরূপ মনোভাবের প্রতিফলন রয়েছে।

এ ঘটনায় দুই ইসরায়েলি সেনাকে ৩০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের যুদ্ধক্ষেত্রের দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

Ad 300x250

সম্পর্কিত