দুই বছর পর নেতা পেল হামাস, গাজায় কী প্রভাব পড়বে

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ১১: ০৪
হামাসের নতুন প্রধান খলিল আল-হাইয়া। ছবি: সংগৃহীত

হামাসের নতুন প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন খলিল আল-হাইয়া। এর মধ্য দিয়ে প্রায় দুই বছর ধরে নেতৃত্ব সংকটে থাকা সংগঠনটির সংকট কাটল।

২০২৪ সালের অক্টোবরে হামাসের সাবেক প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ার নিহত হলে পাঁচ সদস্যের একটি পরিষদের মাধ্যমে সংগঠনটি পরিচালিত হচ্ছিল। যার অন্যতম সদস্য ছিলেন আল-হাইয়া। খবর আলজাজিরার।

নেতৃত্ব নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সাবেক প্রধান খালেদ মেশাল। ৬৯টি ভোটের মধ্যে ৩৫টি পেয়ে মেশালকে হারান আল-হাইয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য একজন নির্দিষ্ট নেতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আল-হাইয়াকে হামাসের একজন বাস্তববাদী নেতা হিসেবে দেখা হয়। গত বছরের অক্টোবরে গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় তিনি যুক্ত ছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও উইটকফের সঙ্গে আলোচনার সময় তার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এটি ভবিষ্যতে গাজার রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আলোচনার সুযোগ বাড়াতে পারে।

ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের (ইসিএফআর) ভিজিটিং ফেলো মুহাম্মদ শেহাদা বলেন, আল-হাইয়াকে ইরান-সমর্থিত হিসেবে দেখা হলেও তিনি আলোচনা ও কূটনৈতিক পথ অনুসরণে আগ্রহী। উইটকফ সরাসরি আল-হাইয়ার সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহী ছিলেন।

আল-হাইয়া হামাসের ভেতরে ‘চার শহীদের বাবা’ হিসেবেও পরিচিত। তার চার ছেলে বিভিন্ন সময়ে নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুজন ৭ অক্টোবরের আগেই নিহত হন। একজন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে উইটকফের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলার সময় দোহায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন এক ছেলে এবং আরেকজন পরে নিহত হন।

উইটকফ এক সাক্ষাৎকারে জানান, আল-হাইয়ার ছেলের মৃত্যুতে তিনি তাকে সমবেদনা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমরা তার ছেলের মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়েছিলাম। আমি তাকে বলেছিলাম, আমিও একজন সন্তান হারিয়েছি। আমরা দুজনই এমন এক দুঃখজনক দলের সদস্য— যে দলের বাবা-মাকে নিজের সন্তানকে কবর দিতে হয়েছে।

‘ধারাবাহিক প্রার্থী’ আল-হাইয়া

গাজায় জন্ম নেওয়া আল-হাইয়া হামাসের গাজার বাইরে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ চলাকালে যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময় আলোচনায় তিনি সংগঠনটির অন্যতম প্রধান আলোচক ছিলেন।

২০২৪ সালে হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়াহ ও ইয়াহিয়া সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর সংগঠনের মধ্যে তার গুরুত্ব বেড়ে যায়। গত বছর দোহায় ইসরায়েলি হামলার সময় লক্ষ্যবস্তু হওয়া হামাস নেতাদের মধ্যেও ছিলেন তিনি।

ইসিএফআরের জ্যেষ্ঠ নীতি বিশ্লেষক হিউ লাভাট বলেন, আল-হাইয়ার নির্বাচন হামাসের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনবে না।

তিনি বলেন, তিনি ধারাবাহিকতার প্রার্থী। সিনওয়ারের অধীনে তিনি গাজায় উপপ্রধান ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। আল-হাইয়াকে কঠোরপন্থী ও ইরানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে দেখা হলেও তিনি যুদ্ধবিরতি আলোচনায় বাস্তববাদী অবস্থান দেখিয়েছেন।

লাভাট বলেন, হামাসের মধ্যে আরও কঠোর অবস্থানের নেতারা রয়েছেন। একইভাবে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সংগঠনটি সব সময় আরব দেশগুলো ও তেহরানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেছে। তাই হামাস ইরানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে— এমন কোনো ইঙ্গিত নেই।

গাজাকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তের বার্তা

ইসরায়েলি হামলায় গাজার বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেলেও হামাস সেখানে প্রশাসনিক উপস্থিতি ধরে রেখেছে। সংগঠনটি স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বেসামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

কাতারের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক খালেদ আল-হরুব বলেন, আল-হাইয়ার নিয়োগ দুটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। প্রথমত, প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পরও হামাসের অভ্যন্তরীণ কাঠামো কার্যকর রয়েছে। দ্বিতীয়ত, সিদ্ধান্ত গ্রহণে গাজার গুরুত্ব এখনো সবচেয়ে বেশি।

তার মতে, এই নিয়োগের অর্থ আরও কঠোর রাজনীতির দিকে যাত্রা নয় বরং এটি দেখায় যে হামাসের অগ্রাধিকার এখনো গাজাকে ঘিরেই।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত