হেলিকপ্টার হারিয়ে ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোনে জবাব আইআরজিসির

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার। ছবি: সংগৃহীত

সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার অভিযোগে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। খবর সিএনএনের।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানে কয়েক দফায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওমান উপকূলের কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই হামলাকে ‘আত্মরক্ষামূলক’ হিসেবে অভিহিত করেছে সেন্টকম।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, এই নতুন হামলার উদ্দেশ্য ইরানকে একটি সতর্কবার্তা দেওয়া। এই হামলা যুদ্ধ শেষ করার আলোচনায় কোনো বাধা সৃষ্টি করবে বলে যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে না।

হেলিকপ্টার ভূপাতিতের বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, সোমবার ইরানের একটি ‘শাহেদ’ ড্রোন মার্কিন আকাশযানটিতে আঘাত করে। তবে ড্রোনটি হেলিকপ্টারটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল নাকি এটি অসাবধানতাবশত আঘাত করে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরে সামাজিক মাধ্যমে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে লেখেন, হেলিকপ্টারের দুজন পাইলটই অক্ষত রয়েছেন। এই ঘটনায় জবাব দেওয়া অপরিহার্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পরে এবিসি নিউজের জোনাথন কার্লের সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি প্রতিক্রিয়া জানানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে এবং আমরা এই মুহূর্তে তার জবাব দিচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিক্রিয়াটি খুব জোরালো, খুব শক্তিশালী হওয়া উচিত।’

দুটি সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, প্রাথমিক হামলায় হরমুজ প্রণালির আশেপাশের বিমান প্রতিরক্ষা এবং রাডার সিস্টেমগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি তিনটি কৌশলগত এলাকা—কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস এবং জাস্ক কাউন্টিতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) জাস্ক কাউন্টিতে কর্মরত একজনের বরাতে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ২টা ৩৫ মিনিটে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। অন্যান্য বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেশম ও বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে।

কেশম দ্বীপকে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের ‘আর্চ ডিফেন্স’ বা প্রধান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এদিকে আইআরআইবি জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণে মার্কিন হামলায় দুটি পানি সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সিরিকের কাছে বামানি জেলার পানি সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

ইরানের আধা-সরকারি মেহর নিউজকে হরমুজগান এলাকার পানি ও পয়োনিষ্কাশন কোম্পানির সিইও জানিয়েছেন, মার্কিন হামলায় তাদের স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে হামলা আইআরজিসির

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে দেশটির সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে ইসলামিক রেভ্যুলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

বুধবার (১০ জুন) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহর এবং কুয়েতের আলি আল সালেম ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে জর্ডানের আজরাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটিতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।

আইআরজিসির দাবি, তাঁরা মোট ২১টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে চারটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। ধ্বংস হওয়া স্থাপনাগুলোর মধ্যে জর্ডানে বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের একটি হ্যাঙ্গারও রয়েছে।

এ ছাড়া ইরানের জাম শহরের আকাশসীমায় একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে আইআরজিসি।

ইরানের জাস্ক, সিরিক ও কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তথ্যও নিশ্চিত করেছে আইআরজিসি। বাহিনীটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সিরিকে একটি যোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বামানি জেলার দুটি পানির আধার ধ্বংস হয়েছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হামলাই ‘জবাবহীন’ রাখা হবে না।

মঙ্গলবার এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে আরাগচি বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয় সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সংকল্প পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কোনো হামলা বা হুমকিকে জবাবহীন রাখবে না।’

‘নিরাপদে থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যান’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শেষ: সেন্ট্রাল কমান্ড

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জবাবে ইরানের বিরুদ্ধে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ শেষ হয়েছে।

এক্সে এক পোস্টে সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর ফাইটার জেট থেকে নিখুঁত গোলাবারুদ ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা, স্থল নিয়ন্ত্রণ স্টেশন এবং নজরদারি রাডার সাইটগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে।

সম্পর্কিত