নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ৩৩
মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের উখিয়ার ভাঙা সড়ক দিয়ে প্রবেশ করে। ছবি: আশরাফুল আলম

রাখাইনে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে প্রস্তুত মিয়ানমার। দেশটির সামরিক বাহিনী-সমর্থিত সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশে থাকা এসব রোহিঙ্গা পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের ৯ বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নৃশংস দমন-পীড়নের মুখে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। তাদের সঙ্গে আগে থেকেই বাংলাদেশে থাকা আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা যোগ দেন।

ব্যাপক সামরিক অভিযান ও ভয়াবহতার কারণে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের অভিযোগ তোলে।

মিয়ানমারের ১৩৫টি স্বীকৃত জাতিগোষ্ঠী রয়েছে। তবে রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। বরং তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাদের বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বোঝানো হয়।

মিয়ানমার জানিয়েছে, জুলাইয়ের শেষ নাগাদ বাংলাদেশ থেকে দেওয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন শরণার্থীর তালিকা যাচাই করা হয়েছে। যাচাই করা ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনকে সফলভাবে যাচাই করা যায়নি। আর ৪ হাজার ২৪১ জনকে তারা ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত বলে চিহ্নিত করেছে।

রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে—এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের দাবি, ২০১৭ সালের সহিংসতার পর ৫ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। আর ২ লাখের বেশি মানুষ উত্তর রাখাইনে থেকে যান।

মিয়ানমার ও বাংলাদেশ ২০১৮ সালে দুই বছরের একটি প্রত্যাবাসন কাঠামোতে সম্মত হয়েছিল। তবে ২০২১ সালে সামরিক বাহিনী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পর সেই প্রক্রিয়া ভেঙে পড়ে। এরপর দেশটিতে জান্তা শাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু হয়।

২০২৩ সালে রাখাইন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে রাখাইনভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এতে আরও মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। বেঁচে থাকার জন্য আরও শরণার্থী বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশে পালিয়ে যান। বর্তমানে রাখাইনের অধিকাংশ এলাকা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

শরণার্থী শিবিরের পরিস্থিতির অবনতি, আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তায় বড় ধরনের কাটছাঁট এবং মিয়ানমারে নিরাপদে ফেরার সুযোগ না থাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

জুলাইয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, তাঁর দেশে থাকা ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে একটি প্রত্যাবাসন উদ্যোগের আওতায় ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে।

তবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হান উইন অং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছিলেন, কর্মসূচিটি মালয়েশিয়ার আটককেন্দ্রে থাকা যাচাই করা মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য সীমাবদ্ধ। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে—এমন খবরও তিনি নাকচ করেছিলেন।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার