সংঘাতের মাঝেই আল-আকসায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের ঈদের নামাজ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৬, ২০: ২৩
আল-আকসার ঈদের নামাজ পড়ছেন মুসল্লিরা। ছবি: আনাদুলু

দখলদার ইসরায়েলের আগ্রাসনের মধ্যে জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মুসল্লি ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটিই এই মসজিদে বৃহত্তম জমায়েত।

সকাল থেকেই পাহাড় ঘেরা এই পবিত্র প্রাঙ্গণে ভিড় করেন হাজার হাজার মুসল্লি। ইসরায়েলি বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। ওল্ড সিটির প্রবেশপথ, সংকীর্ণ গলি এবং মসজিদের প্রধান গেটগুলোতে ইসরায়েলি পুলিশের ভারী উপস্থিতি ও তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছিল।

ইসলামে আল-আকসা মসজিদকে তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রবেশপথ ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ করলেও মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব জর্ডান পরিচালিত ইসলামিক ওয়াকফের। এই দ্বিমুখী নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা কড়াকড়ির কারণে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের সময় প্রায়ই এখানে সংঘাত ও আন্দোলনের ঘটনা ঘটে।

আল-আকসায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের ঈদের নামাজ। ছবি: আনাদুলু
আল-আকসায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের ঈদের নামাজ। ছবি: আনাদুলু

এবারের ঈদুল আজহা ফিলিস্তিনিদের জন্য আনন্দ ও উৎসবের চেয়ে শোক ও কান্নার বার্তা নিয়ে এসেছে বেশি। গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের সহিংসতার মাঝেই ফিলিস্তিনিরা এবারের ঈদ উদযাপন করছেন।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও মানবিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে সংঘাত শুরুর পর থেকে কেবল পশ্চিম তীরেই ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত, ১২ হাজারের বেশি আহত এবং কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

বিশেষ করে ইসরায়েলি সেটেলারদের সহিংসতায় সীমান্ত ও বেদুইন অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদগুলো পুরোপুরি ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজার আশ্রয় শিবির, খোলা রাস্তা বা নিজেদের বিধ্বস্ত বাড়ির ধ্বংসাবশেষের ওপরেই ঈদের নামাজ আদায় করেছেন ফিলিস্তিনিরা।

গাজার মানবিক পরিস্থিতি সংকটাপন্ন। লাখ লাখ মানুষ খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসা সেবার তীব্র সংকটে ভুগছেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজা উপত্যকার শত শত মসজিদ ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আল-আকসায় এবার বিপুল সংখ্যক মুসল্লিকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও, অতীতে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে কড়া বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে মুসল্লিদের প্রবেশাধিকার সীমিত করেছিল ইসরায়েল।

তথ্যসূত্র: আনাদুলু এজেন্সি

সম্পর্কিত