স্ট্রিম ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের বিমান হামলার সময় তেহরানের গোলেস্তান প্রাসাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শতাব্দীপ্রাচীন এই প্রাসাদটি কাজার রাজাদের সরকারি আবাসস্থল ছিল। এখানেই রাজ্যাভিষেক, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান এবং কূটনৈতিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হতো।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এরইমধ্যে ইরানের বিভিন্ন অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিমান হামলার ধ্বংসাবশেষে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া তেহরানের এই গোলেস্তান প্রাসাদ ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।
আইএসএনএ জানিয়েছে, ‘রোববার সন্ধ্যায় দক্ষিণ তেহরানের আরাগ স্কয়ারে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গোলেস্তান প্রাসাদের জানালা, দরজা ও আয়নাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
এ ঘটনার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কো। সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউনেস্কো জানায়, তারা ‘বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত এবং জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন স্থানগুলোর ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে জানিয়ে দিয়েছে, যাতে সম্ভাব্য ক্ষতি এড়ানো যায়।’
গোলেস্তান প্রাসাদ তেহরানের ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এবং এটি শহরের প্রাচীনতম প্রাসাদ কমপ্লেক্সগুলোর একটি। এটি মূলত সাফাভি ইরানের দ্বিতীয় শাহ তাহমাস্প প্রথমের শাসনামলে নির্মিত হয়। পরে সাফাভি ইরানের পঞ্চম শাহ আব্বাস দ্য গ্রেট প্রাসাদের উত্তরাংশে একটি বৃহৎ উদ্যান নির্মাণ করেন।
বর্তমানে কমপ্লেক্সটিতে আটটি প্রধান প্রাসাদ ভবন রয়েছে, যেগুলো মূলত জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পুরো এলাকা একটি বাইরের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা এবং সেখানে ফটকযুক্ত প্রবেশপথ রয়েছে।
জান্দ আমলে করিম খানের শাসনকালে প্রাসাদটি সংস্কার করা হয়। পরে তেহরান কাজার রাজবংশের রাজধানী ঘোষিত হলে এটি কাজারদের রাজকীয় আবাসে পরিণত হয়। এর বর্তমান রূপ ১৮৬৫ সালে স্থপতি হাজি আব-ওল-হাসান মিমার নাভাই সম্পন্ন করেন।
পাহলভি আমলে গোলেস্তান প্রাসাদ রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যদিও রাজবংশটি অন্য রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করেছিল, তবুও গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান—যেমন ১৯২৬ সালে রেজা শাহের রাজ্যাভিষেক এবং ১৯৬৭ সালে মোহাম্মদ রেজা শাহ ও শাহবানো ফারাহর রাজ্যাভিষেক—গোলেস্তান প্রাসাদেই অনুষ্ঠিত হয়।
১৯২৫ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে রেজা শাহ কমপ্লেক্সের একটি বড় অংশ ভেঙে ফেলেন, কারণ তার মতে পুরোনো দুর্গটি আধুনিক তেহরানের উন্নয়নে বাধা দিচ্ছিল। ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে পুরোনো স্থাপনাগুলোর জায়গায় আধুনিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মিত হয়।
গোলেস্তান প্রাসাদ কমপ্লেক্সে মোট ১৭টি স্থাপনা রয়েছে—জাদুঘর, প্রাসাদ ও বিশাল হলসহ। অধিকাংশ স্থাপনা কাজারদের ১৩১ বছরের শাসনামলের। রাজ্যাভিষেক ও রাষ্ট্রীয় উৎসবসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজকীয় অনুষ্ঠানের প্রধান স্থান ছিল এটি। বিমান হামলার আগে এখানে একটি মূল্যবান পাণ্ডুলিপি গ্রন্থাগার, ফটোগ্রাফ ও দলিলের সংরক্ষণাগার ছিল।
কমপ্লেক্সের উল্লেখযোগ্য স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্বেল সিংহাসন, পন্ড হাউস, ব্রিলিয়্যান্ট হল, আইভরি হল, সালাম হল এবং উইন্ডক্যাচার ম্যানশন। সালাম হলটি জাদুঘর হিসেবে নকশা করা হয়েছিল এবং এখানে সাময়িকভাবে পিকক সিংহাসন রাখা হয়েছিল, যা নাদির শাহ ভারতের দিল্লি থেকে নিয়ে গিয়েছিলেন।
প্রাসাদ কমপ্লেক্সটি কাজার যুগের শিল্প ও স্থাপত্য কৃতিত্বের প্রতিফলন, যেখানে ইউরোপীয় প্রভাব পারস্য নকশার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। কাজার শাসকদের রাজনৈতিক কেন্দ্র হওয়ার পাশাপাশি এটি ছিল আবাসিক ও বিনোদনমূলক স্থান এবং শিল্পচর্চার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এর মাধ্যমে কাজার শিল্প ও স্থাপত্যের ধারা গড়ে ওঠে ও সংজ্ঞায়িত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলা শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) শুরু হয়। এই হামলায় প্রায় চার দশক ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন, যা দেশটিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেয়। ইরান পশ্চিম এশিয়ার বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সহ যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে সেখানে পালটা হামলা চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের বিমান হামলার সময় তেহরানের গোলেস্তান প্রাসাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শতাব্দীপ্রাচীন এই প্রাসাদটি কাজার রাজাদের সরকারি আবাসস্থল ছিল। এখানেই রাজ্যাভিষেক, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান এবং কূটনৈতিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হতো।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এরইমধ্যে ইরানের বিভিন্ন অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিমান হামলার ধ্বংসাবশেষে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া তেহরানের এই গোলেস্তান প্রাসাদ ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।
আইএসএনএ জানিয়েছে, ‘রোববার সন্ধ্যায় দক্ষিণ তেহরানের আরাগ স্কয়ারে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গোলেস্তান প্রাসাদের জানালা, দরজা ও আয়নাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
এ ঘটনার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কো। সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউনেস্কো জানায়, তারা ‘বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত এবং জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন স্থানগুলোর ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে জানিয়ে দিয়েছে, যাতে সম্ভাব্য ক্ষতি এড়ানো যায়।’
গোলেস্তান প্রাসাদ তেহরানের ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এবং এটি শহরের প্রাচীনতম প্রাসাদ কমপ্লেক্সগুলোর একটি। এটি মূলত সাফাভি ইরানের দ্বিতীয় শাহ তাহমাস্প প্রথমের শাসনামলে নির্মিত হয়। পরে সাফাভি ইরানের পঞ্চম শাহ আব্বাস দ্য গ্রেট প্রাসাদের উত্তরাংশে একটি বৃহৎ উদ্যান নির্মাণ করেন।
বর্তমানে কমপ্লেক্সটিতে আটটি প্রধান প্রাসাদ ভবন রয়েছে, যেগুলো মূলত জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পুরো এলাকা একটি বাইরের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা এবং সেখানে ফটকযুক্ত প্রবেশপথ রয়েছে।
জান্দ আমলে করিম খানের শাসনকালে প্রাসাদটি সংস্কার করা হয়। পরে তেহরান কাজার রাজবংশের রাজধানী ঘোষিত হলে এটি কাজারদের রাজকীয় আবাসে পরিণত হয়। এর বর্তমান রূপ ১৮৬৫ সালে স্থপতি হাজি আব-ওল-হাসান মিমার নাভাই সম্পন্ন করেন।
পাহলভি আমলে গোলেস্তান প্রাসাদ রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যদিও রাজবংশটি অন্য রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করেছিল, তবুও গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান—যেমন ১৯২৬ সালে রেজা শাহের রাজ্যাভিষেক এবং ১৯৬৭ সালে মোহাম্মদ রেজা শাহ ও শাহবানো ফারাহর রাজ্যাভিষেক—গোলেস্তান প্রাসাদেই অনুষ্ঠিত হয়।
১৯২৫ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে রেজা শাহ কমপ্লেক্সের একটি বড় অংশ ভেঙে ফেলেন, কারণ তার মতে পুরোনো দুর্গটি আধুনিক তেহরানের উন্নয়নে বাধা দিচ্ছিল। ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে পুরোনো স্থাপনাগুলোর জায়গায় আধুনিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মিত হয়।
গোলেস্তান প্রাসাদ কমপ্লেক্সে মোট ১৭টি স্থাপনা রয়েছে—জাদুঘর, প্রাসাদ ও বিশাল হলসহ। অধিকাংশ স্থাপনা কাজারদের ১৩১ বছরের শাসনামলের। রাজ্যাভিষেক ও রাষ্ট্রীয় উৎসবসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজকীয় অনুষ্ঠানের প্রধান স্থান ছিল এটি। বিমান হামলার আগে এখানে একটি মূল্যবান পাণ্ডুলিপি গ্রন্থাগার, ফটোগ্রাফ ও দলিলের সংরক্ষণাগার ছিল।
কমপ্লেক্সের উল্লেখযোগ্য স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্বেল সিংহাসন, পন্ড হাউস, ব্রিলিয়্যান্ট হল, আইভরি হল, সালাম হল এবং উইন্ডক্যাচার ম্যানশন। সালাম হলটি জাদুঘর হিসেবে নকশা করা হয়েছিল এবং এখানে সাময়িকভাবে পিকক সিংহাসন রাখা হয়েছিল, যা নাদির শাহ ভারতের দিল্লি থেকে নিয়ে গিয়েছিলেন।
প্রাসাদ কমপ্লেক্সটি কাজার যুগের শিল্প ও স্থাপত্য কৃতিত্বের প্রতিফলন, যেখানে ইউরোপীয় প্রভাব পারস্য নকশার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। কাজার শাসকদের রাজনৈতিক কেন্দ্র হওয়ার পাশাপাশি এটি ছিল আবাসিক ও বিনোদনমূলক স্থান এবং শিল্পচর্চার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এর মাধ্যমে কাজার শিল্প ও স্থাপত্যের ধারা গড়ে ওঠে ও সংজ্ঞায়িত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলা শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) শুরু হয়। এই হামলায় প্রায় চার দশক ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন, যা দেশটিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেয়। ইরান পশ্চিম এশিয়ার বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সহ যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে সেখানে পালটা হামলা চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা অব্যাহত রেখেছে। সঙ্গে তেহরানের মিত্র লেবালনেও হামলা চালাচ্ছে। প্রতিরোধ হিসেবে ইরান ইসরায়েল ছাড়াও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি এবং স্থাপনায় হামলা করে চলেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধের খবর বাংলা স্ট্রিম লাইভে...
৫ ঘণ্টা আগে
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ লেবাননের ভেতরে প্রবেশ করে আরও ভূমি ‘দখল’ (সিজ) করতে তাদের বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন।
১৭ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় কাতার এলএনজি উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে ভারত ও ইউরোপে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং গ্যাসের দাম একলাফে ৩০ শতাংশ বেড়েছে।
২০ ঘণ্টা আগে
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলে হামলা করতে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। তবে দেশটি সরাসরি আক্রমণে অংশগ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টামার।
২ দিন আগে