স্ট্রিম ডেস্ক

ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর। তিন বছর আগে আজকের দিনে রাজ্যে জাতিগত সহিংসতা হয়। ওই সহিংসতায় এখনো সন্ধান মেলেনি ৩০ জনের। তাঁরা সবাই উপত্যকা এলাকার বাসিন্দা। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে পরিবার সরকারের কাঝে জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছে।
গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে পরিবারগুলো জানায়, ২০২৩ সালের ৩ মে সহিংসতা শুরুর পর গত তিন বছর তাদের কাটছে অনিশ্চয়তা ও অন্তহীন অপেক্ষায়।
পরিবারগুলোর ভাষ্য, সহিংসতার শুরুর দিকে অনেকেই বাড়ি ফেরার পথে, নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অথবা বিশৃঙ্খলার মধ্যে প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় এফআইআর হয়েছে। বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি আইনজীবী ও অধিকারকর্মীদের সহায়তায় মণিপুর হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। তবে নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো কোনো অগ্রগতি ন্য়ে বলে অভিযোগ পরিবারের।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো নিখোঁজ ব্যক্তিকে সাত বছর আগে আইনগতভাবে মৃত ঘোষণা করা যায় না। ফলে এর আগে মৃত্যুসনদ পাওয়া সম্ভব নয়। আর মৃত্যুসনদ ছাড়া অনেক পরিবার সরকারি সহায়তা, ক্ষতিপূরণ এবং প্রতিশ্রুত চাকরির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
নিখোঁজ এক ব্যক্তির স্ত্রী কবিতা দেবী জানান, তাঁর স্বামী সহিংসতা শুরুর পর থেকে নিখোঁজ। তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারী। সরকার চাকরি ও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত কিছুই মেলেনি। মৃত্যুসনদ ছাড়া কোনো সুবিধা মিলছে না। সেজন্য সাত বছর অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।
আরেক নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রী রঞ্জিতা দেবী জানান, তাঁর স্বামীও ওই সময় থেকে নিখোঁজ। তিনি বেঁচে আছেন কি না, সেটিও পরিবার জানে না। দীর্ঘ এই অনিশ্চয়তায় সংসার চালানো ও সন্তানদের দেখাশোনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পরিবারগুলোর ভাষ্য, নিখোঁজরা শুধু পরিসংখ্যান নন, তাদের প্রত্যেকেরই পরিবার আছে। তারা এখনো উত্তর খুঁজছে। তাই বিষয়টির গুরুত্ব সহকারে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে, পৃথক বিবৃতিতে মেইতেই অ্যালায়েন্স বলেছে, মণিপুর গভীরভাবে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংগঠনের দাবি, মণিপুরের সহিংসতাকে প্রায়ই অতিরিক্ত সরলীকরণ করা হচ্ছে। এতে সংঘাতের পেছনের গভীর কাঠামোগত টানাপোড়েন, ঐতিহাসিক ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক জটিলতা আড়াল হয়ে যাচ্ছে।
মেইতেই অ্যালায়েন্স বলেছে, জীবন, সম্পদ ও জীবিকা রক্ষায় ব্যর্থতার কারণে নিরাপত্তা কমেছে। এর ফলে বিভিন্ন সম্প্রদায় আত্মরক্ষায় সংগঠিত হয়েছে। দিন দিন সহিংসতা ও অবিশ্বাসের চক্রকে আরও তীব্র হচ্ছে।
মণিপুরে সহিংসতা শুরুর পর প্রথমবারের মতো চলতি বছরের ৮ মার্চ একই প্ল্যাটফর্মে আসে মেইতেই অ্যালায়েন্স এবং থাডৌ ইনপি মণিপুর।
কেন জ্বলছে মণিপুর
একসময় মণিপুর ছিল স্বাধীন রাজ্য। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর ১৯৪৭ সালে এটি ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। ঐতিহাসিকভাবে রাজ্যটির সমতল ও উপত্যকা অঞ্চলে মেইতেই জনগোষ্ঠীর প্রাধান্য বেশি। রাজধানী ইম্ফল এই অঞ্চলে। অন্যদিকে কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস মূলত পাহাড়ি এলাকায়।
রাজ্যে জাতিগত ভারসাম্য বজায় রাখতে ভারত বিশেষ ভূমি আইন প্রণয়ন করে। সেই আইনে মেইতেইদের পাহাড়ি এলাকায় জমি কেনার সুযোগ নেই। পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী কুকি-নাগা সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতির মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষা, চাকরি ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে তারা সংরক্ষিত সুবিধা পেয়ে থাকে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মণিপুরে জাতিগত জাতীয়তাবাদ জোরালো হয়েছে। মেইতেই, কুকি ও নাগা—প্রতিটি সম্প্রদায়ের মধ্যেই সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে। তারা নিজেদের জন্য পৃথক স্বায়ত্তশাসন, এমনকি সার্বভৌমত্বের দাবিও তোলে।
এই টানাপোড়েন ২০২৩ সালের ৩ মে সহিংস রূপ নেয়। এর আগে ২০১৭ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা ও সাবেক ফুটবলার এন বীরেন সিং রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী হন। তিনি মেইতেই সম্প্রদায়ের।
মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে পাহাড়ি উপজাতিদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ ও ‘মাদক সন্ত্রাসী’ বলে উল্লেখ করেন। একই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে মেইতেই জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় ২০২৩ সালের ১৪ এপ্রিল। ওইদিন মণিপুরের উচ্চ আদালত একটি আদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেইদের তফসিলি উপজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া বিবেচনার কথা বলে।
এই সিদ্ধান্তে কুকি-নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়। তাদের আশঙ্কা ছিল, মেইতেইরা তফসিলি উপজাতির স্বীকৃতি পেলে শিক্ষা ও চাকরিতে তাদের জন্য সংরক্ষিত সুযোগ–সুবিধা সংকুচিত হয়ে পড়বে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর। তিন বছর আগে আজকের দিনে রাজ্যে জাতিগত সহিংসতা হয়। ওই সহিংসতায় এখনো সন্ধান মেলেনি ৩০ জনের। তাঁরা সবাই উপত্যকা এলাকার বাসিন্দা। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে পরিবার সরকারের কাঝে জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছে।
গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে পরিবারগুলো জানায়, ২০২৩ সালের ৩ মে সহিংসতা শুরুর পর গত তিন বছর তাদের কাটছে অনিশ্চয়তা ও অন্তহীন অপেক্ষায়।
পরিবারগুলোর ভাষ্য, সহিংসতার শুরুর দিকে অনেকেই বাড়ি ফেরার পথে, নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অথবা বিশৃঙ্খলার মধ্যে প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় এফআইআর হয়েছে। বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি আইনজীবী ও অধিকারকর্মীদের সহায়তায় মণিপুর হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। তবে নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো কোনো অগ্রগতি ন্য়ে বলে অভিযোগ পরিবারের।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো নিখোঁজ ব্যক্তিকে সাত বছর আগে আইনগতভাবে মৃত ঘোষণা করা যায় না। ফলে এর আগে মৃত্যুসনদ পাওয়া সম্ভব নয়। আর মৃত্যুসনদ ছাড়া অনেক পরিবার সরকারি সহায়তা, ক্ষতিপূরণ এবং প্রতিশ্রুত চাকরির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
নিখোঁজ এক ব্যক্তির স্ত্রী কবিতা দেবী জানান, তাঁর স্বামী সহিংসতা শুরুর পর থেকে নিখোঁজ। তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারী। সরকার চাকরি ও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত কিছুই মেলেনি। মৃত্যুসনদ ছাড়া কোনো সুবিধা মিলছে না। সেজন্য সাত বছর অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।
আরেক নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রী রঞ্জিতা দেবী জানান, তাঁর স্বামীও ওই সময় থেকে নিখোঁজ। তিনি বেঁচে আছেন কি না, সেটিও পরিবার জানে না। দীর্ঘ এই অনিশ্চয়তায় সংসার চালানো ও সন্তানদের দেখাশোনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পরিবারগুলোর ভাষ্য, নিখোঁজরা শুধু পরিসংখ্যান নন, তাদের প্রত্যেকেরই পরিবার আছে। তারা এখনো উত্তর খুঁজছে। তাই বিষয়টির গুরুত্ব সহকারে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে, পৃথক বিবৃতিতে মেইতেই অ্যালায়েন্স বলেছে, মণিপুর গভীরভাবে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংগঠনের দাবি, মণিপুরের সহিংসতাকে প্রায়ই অতিরিক্ত সরলীকরণ করা হচ্ছে। এতে সংঘাতের পেছনের গভীর কাঠামোগত টানাপোড়েন, ঐতিহাসিক ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক জটিলতা আড়াল হয়ে যাচ্ছে।
মেইতেই অ্যালায়েন্স বলেছে, জীবন, সম্পদ ও জীবিকা রক্ষায় ব্যর্থতার কারণে নিরাপত্তা কমেছে। এর ফলে বিভিন্ন সম্প্রদায় আত্মরক্ষায় সংগঠিত হয়েছে। দিন দিন সহিংসতা ও অবিশ্বাসের চক্রকে আরও তীব্র হচ্ছে।
মণিপুরে সহিংসতা শুরুর পর প্রথমবারের মতো চলতি বছরের ৮ মার্চ একই প্ল্যাটফর্মে আসে মেইতেই অ্যালায়েন্স এবং থাডৌ ইনপি মণিপুর।
কেন জ্বলছে মণিপুর
একসময় মণিপুর ছিল স্বাধীন রাজ্য। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর ১৯৪৭ সালে এটি ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। ঐতিহাসিকভাবে রাজ্যটির সমতল ও উপত্যকা অঞ্চলে মেইতেই জনগোষ্ঠীর প্রাধান্য বেশি। রাজধানী ইম্ফল এই অঞ্চলে। অন্যদিকে কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস মূলত পাহাড়ি এলাকায়।
রাজ্যে জাতিগত ভারসাম্য বজায় রাখতে ভারত বিশেষ ভূমি আইন প্রণয়ন করে। সেই আইনে মেইতেইদের পাহাড়ি এলাকায় জমি কেনার সুযোগ নেই। পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী কুকি-নাগা সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতির মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষা, চাকরি ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে তারা সংরক্ষিত সুবিধা পেয়ে থাকে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মণিপুরে জাতিগত জাতীয়তাবাদ জোরালো হয়েছে। মেইতেই, কুকি ও নাগা—প্রতিটি সম্প্রদায়ের মধ্যেই সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে। তারা নিজেদের জন্য পৃথক স্বায়ত্তশাসন, এমনকি সার্বভৌমত্বের দাবিও তোলে।
এই টানাপোড়েন ২০২৩ সালের ৩ মে সহিংস রূপ নেয়। এর আগে ২০১৭ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা ও সাবেক ফুটবলার এন বীরেন সিং রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী হন। তিনি মেইতেই সম্প্রদায়ের।
মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে পাহাড়ি উপজাতিদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ ও ‘মাদক সন্ত্রাসী’ বলে উল্লেখ করেন। একই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে মেইতেই জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় ২০২৩ সালের ১৪ এপ্রিল। ওইদিন মণিপুরের উচ্চ আদালত একটি আদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেইদের তফসিলি উপজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া বিবেচনার কথা বলে।
এই সিদ্ধান্তে কুকি-নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়। তাদের আশঙ্কা ছিল, মেইতেইরা তফসিলি উপজাতির স্বীকৃতি পেলে শিক্ষা ও চাকরিতে তাদের জন্য সংরক্ষিত সুযোগ–সুবিধা সংকুচিত হয়ে পড়বে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

সংযুক্ত আরব আমিরাত জোট ছাড়ার পর তেল উৎপাদনের কোটা নির্ধারণে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসছে ওপেক প্লাস সদস্যভুক্ত ৭টি দেশ। খবর আল-জাজিরার।
৬ ঘণ্টা আগে
লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এরমধ্যে রোববার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের ১২টি শহর ও গ্রামে হামলার হুমকি দিয়ে নতুন সতর্কতা জারি করেছে। ওই এলাকার বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশও দিয়েছে। খবর আল-জাজিরার।
৬ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর কাছে ৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার পৃথক ঘোষণায় এসব তথ্য জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। খবর আল-জাজিরার।
৬ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধ এড়িয়ে এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলে পৌঁছেছে ইরানের একটি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকার। রোববার (৩ মে) জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘ট্যাংকারট্র্যাকারস ডটকম’ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল-জাজিরার।
৮ ঘণ্টা আগে