শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা: ঢাবি শিক্ষক সুদীপ ৩ দিনের রিমান্ডে

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬, ১৬: ৪৮
ঢাবি শিক্ষার্থী মুনিরা মেহজাবিন মিমোর আত্মহত্যার মামলায় গ্রেপ্তার তাঁর শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার (৩ মে) রিমান্ড শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনজুরুল ইসলাম এই আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ২৮ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী ইকবাল হোসেন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড চান। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ৩ মে দিন ধার্য করেছিলেন।

আজ রোববার শুনানিকালে সুদীপ চক্রবর্তীকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট ফুল মোহাম্মদ ও অ্যাডভোকেট আবু সায়েম রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। প্রয়োজনে তাঁকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানান তাঁরা। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন সর্বোচ্চ রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

নিহত মুনিরা মাহজাবিন মিমো ঢাবির থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর বাড্ডা এলাকার একটি বাসায় থাকতেন। গত ২৬ এপ্রিল সকালে বাদ্দার ওই বাসার নিজ কক্ষ থেকে মিমোকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করে।

ওই চিরকুটে লেখা ছিল, 'সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো। স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া...।' পুলিশ জানিয়েছে, চিরকুটে ব্যক্তিগত বিষয় ও আর্থিক লেনদেনের সুস্পষ্ট উল্লেখ পাওয়া গেছে।

চিরকুট উদ্ধারের পর ওই দিন (২৬ এপ্রিল) দুপুরেই নিহত শিক্ষার্থীর বাবা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় মামলা করেন। মামলা করার পরপরই পুলিশ সুদীপ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে। ওই দিন আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে সুদীপকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। রিমান্ড শেষে এই মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত