ইরান যুদ্ধে অংশ না নেওয়ার শাস্তি, কোরীয় মহড়া কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১১: ৪৫
‘ফ্রিডম শিল্ড’ সামরিক প্রশিক্ষণে নদী পারাপারের অনুশীলনে ব্যস্ত মার্কিন সেনারা। ছবি: রয়টার্স

ইরান যুদ্ধে অংশ না নেওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিসর ‘উল্লেখযোগ্য কমানোর’ নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্ধারিত ১০ দিনব্যাপী বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এমন ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, এই মহড়াগুলো শুধু ব্যয়বহুলই নয়, বরং উত্তর কোরিয়ার প্রতি ভুল ও শত্রুতাপূর্ণ বার্তা পাঠায়। আমি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে দেশটি এখন পর্যন্ত শ্রদ্ধাশীল রয়েছে।

ট্রাম্প জানান, ইরানকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।

ট্রাম্প আরও লেখেন, আগে সম্মত হওয়া এই মহড়ায় অংশ নিতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে। তবে এ নিয়ে তিনি একেবারেই সন্তুষ্ট নন।

২০১৭ সালে প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় আসার সময় থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়াকে ‘উসকানিমূলক ও ব্যয়বহুল’ আখ্যা দিয়ে বন্ধের চেষ্টা করছিলেন ট্রাম্প।

বাৎসরিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ যৌথ সামরিক মহড়া ১৭ থেকে ২৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ১৮ হাজার সামরিক সদস্য অংশ নিচ্ছেন। ড্রোন মোকাবিলা, জিপিএস সংকেত আটকানো এবং সাইবার আক্রমণ প্রতিরোধের ওপর ভিত্তি করে এই মহড়া পরিচালনা হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সোমবার মহড়া শুরু হয়েছে। তবে ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়ে তারা কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি। এ ছাড়া দেশটির প্রেসিডেন্ট কার্যালয় বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া এই মহড়াকে প্রতিবারই আক্রমণের প্রস্তুতি হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। গত ৬ ও ১২ আগস্ট নিজেদের পূর্ব উপকূলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে দলটি।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টিমসন সেন্টারের '৩৮ নর্থ' প্রোগ্রামের প্রধান জেনি টাউন রয়টার্সকে বলেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক সুযোগ তৈরির প্রচেষ্টা হতে পারে।

অতীতে ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং আনের সম্পর্কে বেশ ওঠানামা দেখা গেছে। ট্রাম্প কিমকে 'লিটল রকেট ম্যান' এবং কিম ট্রাম্পকে 'মানসিকভাবে বিকৃত' বলে গালি দিয়েছিলেন। যদিও এসবের ফলে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

ইরান যুদ্ধে অংশ না নেওয়ার শাস্তি, কোরীয় মহড়া কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র