শান্তি বাস্তবায়নে হামাসের সঙ্গে বসলেন ট্রাম্পের জামাতা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮: ৪৮
ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার। সংগৃহীত ছবি

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের প্রধান খলিল আল-হাইয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার। মার্কিন সমর্থিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আলোচনা এগিয়ে নিতে স্থানীয় সময় রোববার (১৬ আগস্ট) মিসরে এই বৈঠক হয়।

এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, গত বছরের ১০ অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের পর দুই পক্ষের মধ্যে এটিই প্রথম উচ্চপর্যায়ের সরাসরি আলোচনা। আলোচনায় ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর বিশেষ প্রতিনিধি নিকোলে ম্লাদেনভ এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসর, কাতার ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠক নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, হামাসের অস্ত্র নিষ্ক্রিয়করণ, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং গাজায় মানবিক সহায়তার পদক্ষেপ আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে।

এর আগে গত জুলাইয়ে ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’ গাজায় হামাসসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর ‘সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ’-এর চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছিল। তবে গত সপ্তাহে ইসরায়েল ট্রাম্পের ১৫ পয়েন্টের ওই শান্তি পরিকল্পনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা গাজাবিষয়ক বোর্ড অব পিসের ১৫ পয়েন্টের নথি প্রত্যাখ্যান করছি। হামাস প্রকৃত অর্থে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল কোনো ধরনের সেনা প্রত্যাহার করবে না।’

রোববার যৌথ বিবৃতিতে ৮টি মুসলিম দেশ—মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব, জর্ডান, তুরস্ক, পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়া—ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। দেশগুলো যৌথভাবে সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েলের একগুঁয়ে অবস্থান ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৭ আগস্ট) কুশনার, ম্লাদেনভ এবং টনি ব্লেয়ার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে নতুন করে বৈঠকে বসবেন।

গত বছরের অক্টোবরে ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার পরেও গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রাণঘাতী হামলা থেমে থাকেনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ৭৩ হাজার ৩০০ জন এবং আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে অন্তত ১ হাজার ২৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইউনিসেফ জানিয়েছে, গাজায় প্রতিদিন গড়ে একটি করে শিশু নিহত হচ্ছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

শান্তি বাস্তবায়নে হামাসের সঙ্গে বসলেন ট্রাম্পের জামাতা