leadT1ad

সিরিয়ায় অভিযানে তুরস্কের সমর্থন, শঙ্কায় কুর্দি শান্তি প্রক্রিয়া

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ২৫
দিয়ারবাকিরে সিরিয়ার সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে ও এসডিএফ-এর সংহতিতে কুর্দিদের বিক্ষোভ।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে দামেস্কের অভিযানে সমর্থন দিয়েছে তুরস্ক। এতে তুরস্কের কুর্দি জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, এই ঘটনা নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সঙ্গে আঙ্কারার চলমান শান্তি আলোচনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সংবাদ সংস্থা এএফপি ও তুর্কি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়ায় কুর্দিদের কোণঠাসা করার ঘটনায় তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। কুর্দি অধ্যুষিত দিয়ারবাকিরে তুষারপাত উপেক্ষা করে অন্তত ৫০০ মানুষ বিক্ষোভে নামেন। পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সেখান থেকে অন্তত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এছাড়া, ইস্তাম্বুলে কুর্দিপন্থী ডিইএম পার্টির সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দমানোর সময় পুলিশ একজন ফরাসি সাংবাদিকসহ ১০ জনকে আটক করে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) ওই সাংবাদিকের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছে।

কারাবন্দী পিকেকে নেতা আবদুল্লাহ ওজালান এই সহিংসতাকে চলমান শান্তি প্রক্রিয়া ‘স্যাবোটাজ’ বা বানচালের চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন।

ডিইএম পার্টি তুরস্ক সরকারের আচরণকে ‘ভণ্ডামি’ বলে উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আপনারা সীমান্তের একপাশে যাদের নাগরিক বলছেন, অন্যপাশে তাদের শত্রু হিসেবে গণ্য করতে পারেন না।’

দলের নেতা আব্বাস শাহিন বলেন, এই অভিযান শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি হলেও আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।

দিয়ারবাকির ভিত্তিক কুর্দিস্তান সোশ্যালিস্ট পার্টির (পিএসকে) প্রধান বায়রাম বোজিয়েল বলেন, আঙ্কারার এই নীতি কুর্দিদের মধ্যে গভীর অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে। পিকেকে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে তা নিয়ে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।

তবে বোজিয়েল মনে করেন, তুরস্কের হাতে শান্তি প্রক্রিয়া ও পিকেকের নিরস্ত্রীকরণ চালিয়ে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘অন্যথায় পিকেকে তুরস্কের জন্য আরও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।’

গত বছর ওজালানের আহ্বানে পিকেকে সশস্ত্র সংগ্রাম ত্যাগের ঘোষণা দিলেও সম্প্রতি তারা জানিয়েছে, তুরস্কের পক্ষ থেকে পাল্টা পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তারা আর এগোবে না।

এএফপির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাশার আল-আসাদ পরবর্তী সিরীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আঙ্কারার ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। একই সঙ্গে পিকেকের কারাবন্দী প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ ওজালানের সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক সরকার।

এদিকে, সপ্তাহব্যাপী সংঘর্ষের পর সিরীয় সেনারা কুর্দি নিয়ন্ত্রিত আলেপ্পো ও রাক্কার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো দখল করে নেয়। এরপর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসকে (এসডিএফ) কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে একীভূত করার লক্ষ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এই যুদ্ধবিরতি ও একীভূতকরণ চুক্তিকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্জন’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি সিরীয় সেনাবাহিনীর অভিযানকে ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তুরস্ক দীর্ঘ দিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত এসডিএফকে পিকেকের শাখা এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে আসছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত