যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানাল কাতার

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১০: ৩০
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি। ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছে কাতার। দু’পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য কমিয়ে আলোচনার পথ তৈরি করতে মধ্যস্থতাকারীদের কূটনৈতিক উদ্যোগ ইতিবাচক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটি।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) কাতারের এ বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার আশা জোরালো হওয়ায় বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম পাঁচ শতাংশের বেশি কমেছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো কার্যত বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

কাতারের আশাবাদ ব্যক্ত করলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনার বিষয় নাকচ করেছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে চলছে। তবে সেটিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

এর আগে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং সমঝোতায় পৌঁছানোর এটিই ইরানের ‘শেষ সুযোগ’। তবে ট্রাম্পের এ দাবি প্রকাশের পরপরই তা নাকচ করে তেহরান।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। কাতারের আমিরের কার্যালয় জানায়, ফোনালাপে দুই নেতা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মতপার্থক্য কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে গত জুনের সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ থাকা সামরিক অভিযান বন্ধের প্রতিশ্রুতি মেনে চলার গুরুত্বও তুলে ধরেন কাতারের আমির।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, কূটনৈতিক যোগাযোগ এখন ‘খুবই অগ্রসর পর্যায়ে’ রয়েছে। তার দাবি, কাতার, ওমান ও পাকিস্তান খসড়া প্রস্তাব আদান-প্রদান এবং আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে সমন্বয় করছে। পাকিস্তানও জানিয়েছে, তাদের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য বিবাদমান দু’পক্ষকে অন্তত আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা।

এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলেছেন। তাদের আশা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। তবে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি এখনো হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। তাই এই নৌপথে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারে এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে। যদিও মধ্যস্থতাকারীরা অগ্রগতির কথা বলছেন, তবু হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করাই এখনো আলোচনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

সূত্র : আলজাজিরা, রয়টার্স ও আনাদোলু এজেন্সি

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত