জুলাই-স্মৃতি
শিশির রায়

জুলাইয়ের সেই দিনের স্মৃতি মনে হয় বাকি জীবনে আর ভুলতে পারব না। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাত থেকে কারফিউ দিয়ে দিল সরকার। বাধ্য হয়ে আমাকে সেই রাতেও থাকতে হলো নুরজাহান রোডে আরেকজনের বাসায়। কিন্তু ২০ জুলাই থেকে আমার আর মন টিকছিল না এ বাসায়, ও বাসায়।
সিদ্ধান্ত নিলাম, যেভাবেই হোক, আজ নিজের বাসায় যাব। আমার বাসা তখন বসিলা ওয়েস্ট ধানমন্ডিতে। রিকশা নিলে ১০ মিনিট লাগবে যেতে। কিন্তু আমার এইটুকু রাস্তা যেতে বারবার ভাবতে হচ্ছিল কীভাবে যাব, যেতে পারব তো!
শেষ পর্যন্ত পেরেছি। কিন্তু নুরজাহান রোড থেকে বসিলা ওয়েস্ট ধানমন্ডি আসতে যা কিছুর মুখোমুখি হয়েছি, সেগুলো কীভাবে ভুলে যাই। আমি নুরজাহান রোডের বাসার ব্যালকোনিতে দাঁড়িয়ে বিকেলে দেখছিলাম, হেলিকপ্টার উড়ছে, হেলিকপ্টার এর নিচে কিছু একটা ঝুলছে। আমার বন্ধু বলল, শুট করছে হেলিকপ্টার থেকে, টিয়ারশেল মারছে। আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না কোনোভাবেই।
আমাকে কোনোভাবেই বাসায় আসতে দিচ্ছিল না। কিন্তু আমি আসবই। আমি তার আগের দিন থেকে এ বাড়ি ও বাড়ি থাকছি, শেল্টার নিচ্ছি, ঠান্ডা সর্দি আর একটু জ্বর ভাব নিয়ে ভালো লাগছিল না।
বের হলাম নিজের বাসায় যাব বলে। এক রিকশা মামা আমাকে এগিয়ে দেবে বলল যতটুকু পারে। এদিক সেদিক ঘুরিয়ে মোহাম্মদপুর তিন রাস্তার মোড়ের ঢালে নামিয়ে দিল। আমি জাস্ট মাটিতে পা রাখছি, ওমনি আমার থেকে প্রায় ৩০০ মিটার সামনে হেলিকপ্টার থেকে শুট করল। আমি না পারছি এগোতে, না পারছি পেছাতে। একটা দোকানের নিচে দাঁড়ালাম। কোন দিক দিয়ে এলাম তাও মনে নেই। একজন চাচা রাস্তা দেখিয়ে দিল ভেতর দিয়ে। কারণ মেইন রোডের অবস্থা একদম ভালো না।
চাচা বলল, একটু সামনে গেলে মেইন রোডে উঠলে ওইদিক আর ঝামেলা নাই। লাউতলার ওইপাশে কোনো সমস্যা নাই। আমি সেভাবেই আগালাম।
চাঁদ উদ্যানের ভেতরে ঢুকে দেখি মানুষ আর মানুষ। সবাই বলছে ‘সামনে তিনটা লাশ পড়ছে’। আমি এপাশ ওপাশের কথা কানে নিয়ে হাঁটছি শুধু। এরপর একজনকে আবার বললাম, বসিলা যাব কোন দিক দিয়ে? বলে রাখা ভালো, আমি বসিলার দিকে ভেতরের রোডগুলো চিনতাম না। সেই লোকটা ‘হাক্কার’ কথা বলল। আমি বললাম ওকে, তার মানে হাক্কা পাড় হয়ে যেতে হবে। আমি হাক্কা বলতে একটা গেট ভেবেছিলাম। পাশ থেকে এক লোক আমাকে বলল, আপু আপনি হাক্কা যাবেন, আমিও যাব, আসেন আমার সাথে। আমি কিছু না ভেবেই তাঁর সঙ্গে হাঁটা শুরু করলাম। ভদ্রলোকের সঙ্গে ছিল বাজার থেকে কেনা সবজি।
ওই সময় ওই লোককে বিশ্বাস করা ছাড়া আমার উপায় নেই। আমি হাঁটছি তাঁর সঙ্গে। এভাবে যখন হাক্কার সামনে এলাম, দেখি ওইটা একটা ময়লার নালা। সেখানে প্লাস্টিকের কিছু ড্রাম দিয়ে ভেলা বানানো হয়েছে। সেটাই হাক্কা৷

যাই হোক, আমার সঙ্গের অপরিচিত মানুষটা আমাকে বারবার বলছে, আপু কিচ্ছু হবে না, ইনশাআল্লাহ বাসায় পোঁছাবো। তিনি হাক্কায় উঠে আমাকে বললেন তাঁর হাতটা ধরতে। আমিও ধরলাম। তারপর হাক্কা পার হয়ে আবার হাঁটা শুরু করলাম। এরপর তিনি একজনের সঙ্গে কথা বলছেন ফোনে। সম্ভবত মুরগি নিতে বলল। তিনি আমাকে বললেন ‘বোন একটু দাঁড়ান’। অপেক্ষা করতে বলে মুরগি কিনল। আমার মনে হচ্ছিল, এই মানুষটা আমার অনেক পরিচিত। তিনি আমাকে ঠান্ডা পানি অফার করলেন। মুরগি নেওয়া শেষে তিনি বারবার রিকশাচালককে বলছেন, একটু এগিয়ে দিতে। রিকশা মামা যাবে না।
ভদ্রলোক আমাকে বার বার ভয় না পাওয়ার জন্য আশ্বস্ত করছিলেন। পরে হাঁটতে হাঁটতে একজন রিকশা মামা আমাদের এগিয়ে দিতে রাজি হলেন। আমরা তখন বসিলা ব্রিজের বাজারের কাছাকাছি। চারদিকে গোলাগুলির শব্দ। এরমধ্যেই রিকশা মামা নামিয়ে দিল।
আমরা একটু হেঁটে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করলাম। সঙ্গে সঙ্গে মনে হচ্ছিল, আমার পেছনে যে তাকেই শুট করল। পাশে একটা গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান। তিনি আমার হাত টেনেহিঁচড়ে ওই দোকানের ভেতর ঢুকলেন। ছোট্ট একটা দোকান, অনেক মানুষ ঢুকে গেছে, শাটার বন্ধ দিল। একটু পরে দোকানদার বলল বের হয়ে যেতে। তারপর আমরা পাশে একটা বাসার কেচি গেটের ভেতরে ঢুকে কিছুক্ষণ লুকিয়ে থাকলাম। তারপর বের হয়ে আর রাস্তা চিনি না। কোন দিকে যাব? একজন বলল, একটা রাস্তা গেছে বসিলা ব্রিজের নিচ দিয়ে। ওইদিক দিয়ে গেলেই ওয়েস্ট ধানমন্ডি উঠতে পারব।
আমার সঙ্গে থাকা সেই ভাই হাসিমুখে বললেন, ‘বোন যাইতে পারবেন না এইটুকু পথ? না হলে আমার বাসায় চলেন, নদীর ওই পাড়ে। আমার পরিবার আছে, কোনো সমস্যা নাই।’
আমি আপ্লুত হয়ে বললাম, ‘ধন্যবাদ ভাই, আমি চিরকৃতজ্ঞ আপনার কাছে। আমি আমার নিজের বাসায় যাই, আপনি সাবধানে যাবেন।’ তাঁর কন্টাক্ট নম্বর নেওয়ার কথা মনে ছিল না। জানি না, তিনি এখন কেমন আছেন, কোথায় আছেন।
আমি ব্রিজের নিচ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে যখন ওয়েস্ট ধানমন্ডি পৌঁছালাম, দেখি, পুরো রাস্তাজুড়ে মানুষ আর মানুষ। আমার বাসার গলিতে ঢুকে দেখি, বাসার একদম পাশে একজন গুলি খেয়ে পড়ে আছে। আশেপাশে সবাই তাকে পানি-টানি দিচ্ছে, বাতাস করছে। ফার্মেসি বন্ধ, রাস্তা বন্ধ, কোথায় নিয়ে যাবে ভাবছে।
বুঝলাম, রাস্তার এপারের মানুষ জানে না, ওই পারে কী হচ্ছে। টুকটাক বাজার করে বাসায় ঢুকলাম। সেদিন রাত থেকে জ্বর। ঘুমালেও স্বপ্নের ভেতর দৌড়াচ্ছি, কোথাও লুকাচ্ছি, ধাওয়া খাচ্ছি। টানা কয়েকদিন জ্বর থাকল। তারপর শুরু হলো পেট ব্যথা। এই পেট ব্যথা কীসের ধরতে পারলাম না। কয়েকদিন বাসায় ওষুধ খেয়ে সহ্য করতে না পেরে শেষে ডাক্তার দেখালাম।
এরপর যেদিন ইন্টারনেট এলো, ফেসবুকে গিয়ে দেখি, আমার পরিচিতরা হারিয়েছে তাদের স্বজনদের, আমি হারিয়েছি আমার বেশ পরিচিত কয়েকজন মানুষকে। আমার কাছের মানুষজন গুলি খেয়েছে, কেউ উথালপাথাল মাইর খেয়েছে, কেউ হাসপাতালে ভর্তি। কেউ কেউ আবার নিখোঁজ।
আমার খোঁজ নিল কত মানুষ। আমি সত্যি আপ্লুত। কেউ কেউ নাম্বার না পেয়ে আমার জন্য চিন্তিত ছিল।
তারপরও শেষে খুব বলতে মন চাইছে, এই যুদ্ধে প্রাণে বেঁচে গিয়ে আসলেই কি বাঁচলাম!

জুলাইয়ের সেই দিনের স্মৃতি মনে হয় বাকি জীবনে আর ভুলতে পারব না। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাত থেকে কারফিউ দিয়ে দিল সরকার। বাধ্য হয়ে আমাকে সেই রাতেও থাকতে হলো নুরজাহান রোডে আরেকজনের বাসায়। কিন্তু ২০ জুলাই থেকে আমার আর মন টিকছিল না এ বাসায়, ও বাসায়।
সিদ্ধান্ত নিলাম, যেভাবেই হোক, আজ নিজের বাসায় যাব। আমার বাসা তখন বসিলা ওয়েস্ট ধানমন্ডিতে। রিকশা নিলে ১০ মিনিট লাগবে যেতে। কিন্তু আমার এইটুকু রাস্তা যেতে বারবার ভাবতে হচ্ছিল কীভাবে যাব, যেতে পারব তো!
শেষ পর্যন্ত পেরেছি। কিন্তু নুরজাহান রোড থেকে বসিলা ওয়েস্ট ধানমন্ডি আসতে যা কিছুর মুখোমুখি হয়েছি, সেগুলো কীভাবে ভুলে যাই। আমি নুরজাহান রোডের বাসার ব্যালকোনিতে দাঁড়িয়ে বিকেলে দেখছিলাম, হেলিকপ্টার উড়ছে, হেলিকপ্টার এর নিচে কিছু একটা ঝুলছে। আমার বন্ধু বলল, শুট করছে হেলিকপ্টার থেকে, টিয়ারশেল মারছে। আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না কোনোভাবেই।
আমাকে কোনোভাবেই বাসায় আসতে দিচ্ছিল না। কিন্তু আমি আসবই। আমি তার আগের দিন থেকে এ বাড়ি ও বাড়ি থাকছি, শেল্টার নিচ্ছি, ঠান্ডা সর্দি আর একটু জ্বর ভাব নিয়ে ভালো লাগছিল না।
বের হলাম নিজের বাসায় যাব বলে। এক রিকশা মামা আমাকে এগিয়ে দেবে বলল যতটুকু পারে। এদিক সেদিক ঘুরিয়ে মোহাম্মদপুর তিন রাস্তার মোড়ের ঢালে নামিয়ে দিল। আমি জাস্ট মাটিতে পা রাখছি, ওমনি আমার থেকে প্রায় ৩০০ মিটার সামনে হেলিকপ্টার থেকে শুট করল। আমি না পারছি এগোতে, না পারছি পেছাতে। একটা দোকানের নিচে দাঁড়ালাম। কোন দিক দিয়ে এলাম তাও মনে নেই। একজন চাচা রাস্তা দেখিয়ে দিল ভেতর দিয়ে। কারণ মেইন রোডের অবস্থা একদম ভালো না।
চাচা বলল, একটু সামনে গেলে মেইন রোডে উঠলে ওইদিক আর ঝামেলা নাই। লাউতলার ওইপাশে কোনো সমস্যা নাই। আমি সেভাবেই আগালাম।
চাঁদ উদ্যানের ভেতরে ঢুকে দেখি মানুষ আর মানুষ। সবাই বলছে ‘সামনে তিনটা লাশ পড়ছে’। আমি এপাশ ওপাশের কথা কানে নিয়ে হাঁটছি শুধু। এরপর একজনকে আবার বললাম, বসিলা যাব কোন দিক দিয়ে? বলে রাখা ভালো, আমি বসিলার দিকে ভেতরের রোডগুলো চিনতাম না। সেই লোকটা ‘হাক্কার’ কথা বলল। আমি বললাম ওকে, তার মানে হাক্কা পাড় হয়ে যেতে হবে। আমি হাক্কা বলতে একটা গেট ভেবেছিলাম। পাশ থেকে এক লোক আমাকে বলল, আপু আপনি হাক্কা যাবেন, আমিও যাব, আসেন আমার সাথে। আমি কিছু না ভেবেই তাঁর সঙ্গে হাঁটা শুরু করলাম। ভদ্রলোকের সঙ্গে ছিল বাজার থেকে কেনা সবজি।
ওই সময় ওই লোককে বিশ্বাস করা ছাড়া আমার উপায় নেই। আমি হাঁটছি তাঁর সঙ্গে। এভাবে যখন হাক্কার সামনে এলাম, দেখি ওইটা একটা ময়লার নালা। সেখানে প্লাস্টিকের কিছু ড্রাম দিয়ে ভেলা বানানো হয়েছে। সেটাই হাক্কা৷

যাই হোক, আমার সঙ্গের অপরিচিত মানুষটা আমাকে বারবার বলছে, আপু কিচ্ছু হবে না, ইনশাআল্লাহ বাসায় পোঁছাবো। তিনি হাক্কায় উঠে আমাকে বললেন তাঁর হাতটা ধরতে। আমিও ধরলাম। তারপর হাক্কা পার হয়ে আবার হাঁটা শুরু করলাম। এরপর তিনি একজনের সঙ্গে কথা বলছেন ফোনে। সম্ভবত মুরগি নিতে বলল। তিনি আমাকে বললেন ‘বোন একটু দাঁড়ান’। অপেক্ষা করতে বলে মুরগি কিনল। আমার মনে হচ্ছিল, এই মানুষটা আমার অনেক পরিচিত। তিনি আমাকে ঠান্ডা পানি অফার করলেন। মুরগি নেওয়া শেষে তিনি বারবার রিকশাচালককে বলছেন, একটু এগিয়ে দিতে। রিকশা মামা যাবে না।
ভদ্রলোক আমাকে বার বার ভয় না পাওয়ার জন্য আশ্বস্ত করছিলেন। পরে হাঁটতে হাঁটতে একজন রিকশা মামা আমাদের এগিয়ে দিতে রাজি হলেন। আমরা তখন বসিলা ব্রিজের বাজারের কাছাকাছি। চারদিকে গোলাগুলির শব্দ। এরমধ্যেই রিকশা মামা নামিয়ে দিল।
আমরা একটু হেঁটে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করলাম। সঙ্গে সঙ্গে মনে হচ্ছিল, আমার পেছনে যে তাকেই শুট করল। পাশে একটা গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান। তিনি আমার হাত টেনেহিঁচড়ে ওই দোকানের ভেতর ঢুকলেন। ছোট্ট একটা দোকান, অনেক মানুষ ঢুকে গেছে, শাটার বন্ধ দিল। একটু পরে দোকানদার বলল বের হয়ে যেতে। তারপর আমরা পাশে একটা বাসার কেচি গেটের ভেতরে ঢুকে কিছুক্ষণ লুকিয়ে থাকলাম। তারপর বের হয়ে আর রাস্তা চিনি না। কোন দিকে যাব? একজন বলল, একটা রাস্তা গেছে বসিলা ব্রিজের নিচ দিয়ে। ওইদিক দিয়ে গেলেই ওয়েস্ট ধানমন্ডি উঠতে পারব।
আমার সঙ্গে থাকা সেই ভাই হাসিমুখে বললেন, ‘বোন যাইতে পারবেন না এইটুকু পথ? না হলে আমার বাসায় চলেন, নদীর ওই পাড়ে। আমার পরিবার আছে, কোনো সমস্যা নাই।’
আমি আপ্লুত হয়ে বললাম, ‘ধন্যবাদ ভাই, আমি চিরকৃতজ্ঞ আপনার কাছে। আমি আমার নিজের বাসায় যাই, আপনি সাবধানে যাবেন।’ তাঁর কন্টাক্ট নম্বর নেওয়ার কথা মনে ছিল না। জানি না, তিনি এখন কেমন আছেন, কোথায় আছেন।
আমি ব্রিজের নিচ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে যখন ওয়েস্ট ধানমন্ডি পৌঁছালাম, দেখি, পুরো রাস্তাজুড়ে মানুষ আর মানুষ। আমার বাসার গলিতে ঢুকে দেখি, বাসার একদম পাশে একজন গুলি খেয়ে পড়ে আছে। আশেপাশে সবাই তাকে পানি-টানি দিচ্ছে, বাতাস করছে। ফার্মেসি বন্ধ, রাস্তা বন্ধ, কোথায় নিয়ে যাবে ভাবছে।
বুঝলাম, রাস্তার এপারের মানুষ জানে না, ওই পারে কী হচ্ছে। টুকটাক বাজার করে বাসায় ঢুকলাম। সেদিন রাত থেকে জ্বর। ঘুমালেও স্বপ্নের ভেতর দৌড়াচ্ছি, কোথাও লুকাচ্ছি, ধাওয়া খাচ্ছি। টানা কয়েকদিন জ্বর থাকল। তারপর শুরু হলো পেট ব্যথা। এই পেট ব্যথা কীসের ধরতে পারলাম না। কয়েকদিন বাসায় ওষুধ খেয়ে সহ্য করতে না পেরে শেষে ডাক্তার দেখালাম।
এরপর যেদিন ইন্টারনেট এলো, ফেসবুকে গিয়ে দেখি, আমার পরিচিতরা হারিয়েছে তাদের স্বজনদের, আমি হারিয়েছি আমার বেশ পরিচিত কয়েকজন মানুষকে। আমার কাছের মানুষজন গুলি খেয়েছে, কেউ উথালপাথাল মাইর খেয়েছে, কেউ হাসপাতালে ভর্তি। কেউ কেউ আবার নিখোঁজ।
আমার খোঁজ নিল কত মানুষ। আমি সত্যি আপ্লুত। কেউ কেউ নাম্বার না পেয়ে আমার জন্য চিন্তিত ছিল।
তারপরও শেষে খুব বলতে মন চাইছে, এই যুদ্ধে প্রাণে বেঁচে গিয়ে আসলেই কি বাঁচলাম!
.png)

১৯৯৫ সালে অ্যামাজন প্রথম যে পণ্যটি বিক্রি করেছিল, সেটি ছিল ডগলাস হফস্ট্যাডারের লেখা বই ‘ফ্লুইড কনসেপ্টস অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ’। তিন দশক পর সেই অনলাইন বইয়ের দোকানটির বাজারমূল্য ৩ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মাত্র তিন মাসেই প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করেছে ২০০ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য
৬ ঘণ্টা আগে
হুমায়ুন আজাদের বহুল আলোচিত এই উক্তিগুলো পাওয়া যায় ‘হুমায়ুন আজাদের প্রবচনগুচ্ছ’ বইয়ে। কিন্তু বইটি কেবল এমন কিছু আপাত-নিরীহ অথচ গভীর সত্য উচ্চারণে ভরা—এমনটা ভাবলে ভুল হবে। বইয়ের পাঁচ নম্বর প্রবচনেই পাঠক থমকে যেতে পারেন। সেখানে লেখা, ‘শামসুর রাহমানকে একটি অভিনেত্রীর সাথে টিভিতে দেখা গেছে।
৯ ঘণ্টা আগে
হোমারের লেখা মহাকাব্য ‘ওডিসি’র প্রধান চরিত্র ওডিসিউস বাড়ি ফেরার পর তার বিশ্বস্ত কুকুর আর্গোস তাকে চিনতে পারে। তাদের পুনর্মিলনের এই আবেগঘন দৃশ্যটি বর্ণনা করতে হোমার ব্যবহার করেছেন মাত্র প্রায় ৪০টি লাইন। অথচ এটি পুরো মহাকাব্যের অন্যতম আবেগঘন ঘটনা। মহাকাব্যের এই দৃশ্যটি পর্দায় নতুন করে তুলে ধরেছেন
১১ আগস্ট ২০২৬
পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচিত বন্য প্রাণীগুলোর একটি সিংহ। ছোটবেলা থেকেই গল্প, সিনেমা আর ছবিতে আমরা তাকে দেখে এসেছি বনের রাজা হিসেবে। তার গর্জন, কেশর আর রাজকীয় উপস্থিতি যেন আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে। ‘বনের রাজা’কে বিশ্ব সিংহ দিবসের পরের দিন একটু অন্যভাবে চেনা যাক।
১১ আগস্ট ২০২৬