আসিফ মাহমুদ খান

বিহারের বাঙ্কিপুর বিধানসভা আসনে ১৯৯৫ সালের পর একবারও হারেনি বিজেপি। তবে ৩০ বছর পর সেই ছন্দে পতন হয়েছে। বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতীন নবীনের ছেড়ে দেওয়া আসনটিতে উপনির্বাচনে হেরে গেছে তারই দলের প্রার্থী নীরাজ কুমার। অথচ কেন্দ্রের পাশাপাশি বিহার রাজ্যসভায়ও ক্ষমতায় বিজেপি।
নবাগত জন সুরাজ পার্টির (জেএসপি) প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোরের কাছে বিজেপির দূর্গেই ২০ হাজার ভোটে হেরেছেন নীরাজ। এতে আলোচনা শুরু হয়েছে, এই হার কী শুধুই একটি বিধানসভা আসনে পরাজয়, নাকি আরও বড় পতনের আগমনধ্বনি?
সাধারণত একটি উপনির্বাচনের ফল দিয়ে জাতীয় রাজনীতির গতিপথ পরিমাপ করা যায় না। কিন্তু বাঙ্কিপুরের ফলাফলকে সেই দৃষ্টিতে দেখছেন না অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও ভারতের কয়েকটি শীর্ষ সংবাদমাধ্যম। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বাঙ্কিপুর শুধু বিজেপির একটি নিরাপদ আসন নয়; দলটির জাতীয় সভাপতির রাজনৈতিক ঘাঁটিও। সেই দুর্গ ভেঙে যাওয়ায় বিহারের রাজনীতির পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি, ভোটারদের মনোভাব এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য হিন্দু তাদের বিশ্লেষণে বলেছে, বাঙ্কিপুরে বিজেপির হার কেবল একটি আসন হারানোর ঘটনা নয়; এটি জেন-জি ভোটারদের মনোভাবে পরিবর্তন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে দলীয় অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ।
দ্য ইকোনমিক টাইমস এই ফলকে বিহার ও দিল্লি- উভয় স্তরেই বিজেপির নেতৃত্বের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। আর টাইমস অব ইন্ডিয়ার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রশান্ত কিশোরের এই জয় ভারতের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।
বাঙ্কিপুরে বিজেপির পরাজয়ের পেছনে একাধিক কারণ সামনে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে জেন-জি ভোটারদের ভূমিকা নিয়ে। আসনটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটার এই প্রজন্মের। সম্প্রতি শিক্ষার্থী আন্দোলন, কর্মসংস্থানের সংকট এবং আন্দোলনকারীদের প্রতি সরকারের কঠোর অবস্থান তরুণদের একটি অংশকে বিজেপি থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব কারণে শুধু তরুণরাই নন, তাদের অভিভাবকদের একাংশও এবার ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে নির্বাচনী জরিপে দেখা গেছে।
এর পাশাপাশি বিজেপির অভ্যন্তরীণ অসন্তোষও নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে বলে আলোচনা রয়েছে। বিহারে নীতীশ কুমারের পরিবর্তে সম্রাট চৌধুরীকে মুখ্যমন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ সহজভাবে নেননি। নির্বাচনের মাঝপথে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে দলটি। এ ছাড়া গেরুয়া শিবিরের এক নেতা ‘বিজেপির হয়ে কুকুর-বিড়ালও জিতবে’ বলে যে মন্তব্য করেছেন, তা ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে, এই জয়কে ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে দেখছেন না প্রশান্ত কিশোর। ফল ঘোষণার পর তিনি বলেছেন, এটি কোনো ব্যক্তির লড়াই ছিল না; বরং এটি ছিল বর্তমান শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে বিহারের মানুষের শতস্ফুর্ত মতামত। একই সঙ্গে তিনি বিহারে মুখ্যমন্ত্রী পরিবর্তন এবং যুবকদের রাজ্য ছাড়ার প্রবণতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বাঙ্কিপুরের ফল শুধু বিজেপিকেই নয়, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকেও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। বিরোধী শিবিরের নেতাদের একাংশ মনে করছেন, এই ফলাফল প্রমাণ করেছে যে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রচলিত বিরোধী দলগুলোর বাইরেও নতুন রাজনৈতিক শক্তি জায়গা করে নিতে পারে। আরজেডিও স্বীকার করেছে, এই ফল তাদের জন্যও একটি বার্তা। নিজেদের রাজনৈতিক কৌশলে পরিবর্তন আনার কথাও ভাবছে দলটি।
যদিও একটি উপনির্বাচনের ফল দেখেই ‘বিজেপির পতন শুরু হয়েছে’ ভাবাটা অরেকটা বাহুল্য।তবে নিজেদের তিন দশকের অভেদ্য দুর্গ হারানো, তরুণ ভোটারদের মনোভাবে পরিবর্তন, দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান- সব মিলিয়ে বাঙ্কিপুর যে বিজেপির জন্য বড় একটি সতর্কবার্তা, তা নিয়ে খুব বেশি দ্বিমত করছেন না কেউই। এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের দিকে। বাঙ্কিপুর কি কেবল বিহারের একটি ব্যতিক্রমী ফল, নাকি বিজেপির দীর্ঘ রাজনৈতিক আধিপত্যে চিড় ধরার প্রথম ইঙ্গিত— সেই উত্তরই খুঁজবে ভারতের আগামী কয়েক বছরের রাজনীতি।
সূত্র : দ্য হিন্দু, দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এএনআই ও টাইমস অব ইন্ডিয়া

বিহারের বাঙ্কিপুর বিধানসভা আসনে ১৯৯৫ সালের পর একবারও হারেনি বিজেপি। তবে ৩০ বছর পর সেই ছন্দে পতন হয়েছে। বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতীন নবীনের ছেড়ে দেওয়া আসনটিতে উপনির্বাচনে হেরে গেছে তারই দলের প্রার্থী নীরাজ কুমার। অথচ কেন্দ্রের পাশাপাশি বিহার রাজ্যসভায়ও ক্ষমতায় বিজেপি।
নবাগত জন সুরাজ পার্টির (জেএসপি) প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোরের কাছে বিজেপির দূর্গেই ২০ হাজার ভোটে হেরেছেন নীরাজ। এতে আলোচনা শুরু হয়েছে, এই হার কী শুধুই একটি বিধানসভা আসনে পরাজয়, নাকি আরও বড় পতনের আগমনধ্বনি?
সাধারণত একটি উপনির্বাচনের ফল দিয়ে জাতীয় রাজনীতির গতিপথ পরিমাপ করা যায় না। কিন্তু বাঙ্কিপুরের ফলাফলকে সেই দৃষ্টিতে দেখছেন না অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও ভারতের কয়েকটি শীর্ষ সংবাদমাধ্যম। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বাঙ্কিপুর শুধু বিজেপির একটি নিরাপদ আসন নয়; দলটির জাতীয় সভাপতির রাজনৈতিক ঘাঁটিও। সেই দুর্গ ভেঙে যাওয়ায় বিহারের রাজনীতির পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি, ভোটারদের মনোভাব এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য হিন্দু তাদের বিশ্লেষণে বলেছে, বাঙ্কিপুরে বিজেপির হার কেবল একটি আসন হারানোর ঘটনা নয়; এটি জেন-জি ভোটারদের মনোভাবে পরিবর্তন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে দলীয় অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ।
দ্য ইকোনমিক টাইমস এই ফলকে বিহার ও দিল্লি- উভয় স্তরেই বিজেপির নেতৃত্বের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। আর টাইমস অব ইন্ডিয়ার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রশান্ত কিশোরের এই জয় ভারতের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।
বাঙ্কিপুরে বিজেপির পরাজয়ের পেছনে একাধিক কারণ সামনে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে জেন-জি ভোটারদের ভূমিকা নিয়ে। আসনটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটার এই প্রজন্মের। সম্প্রতি শিক্ষার্থী আন্দোলন, কর্মসংস্থানের সংকট এবং আন্দোলনকারীদের প্রতি সরকারের কঠোর অবস্থান তরুণদের একটি অংশকে বিজেপি থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব কারণে শুধু তরুণরাই নন, তাদের অভিভাবকদের একাংশও এবার ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে নির্বাচনী জরিপে দেখা গেছে।
এর পাশাপাশি বিজেপির অভ্যন্তরীণ অসন্তোষও নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে বলে আলোচনা রয়েছে। বিহারে নীতীশ কুমারের পরিবর্তে সম্রাট চৌধুরীকে মুখ্যমন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ সহজভাবে নেননি। নির্বাচনের মাঝপথে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে দলটি। এ ছাড়া গেরুয়া শিবিরের এক নেতা ‘বিজেপির হয়ে কুকুর-বিড়ালও জিতবে’ বলে যে মন্তব্য করেছেন, তা ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে, এই জয়কে ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে দেখছেন না প্রশান্ত কিশোর। ফল ঘোষণার পর তিনি বলেছেন, এটি কোনো ব্যক্তির লড়াই ছিল না; বরং এটি ছিল বর্তমান শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে বিহারের মানুষের শতস্ফুর্ত মতামত। একই সঙ্গে তিনি বিহারে মুখ্যমন্ত্রী পরিবর্তন এবং যুবকদের রাজ্য ছাড়ার প্রবণতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বাঙ্কিপুরের ফল শুধু বিজেপিকেই নয়, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকেও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। বিরোধী শিবিরের নেতাদের একাংশ মনে করছেন, এই ফলাফল প্রমাণ করেছে যে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রচলিত বিরোধী দলগুলোর বাইরেও নতুন রাজনৈতিক শক্তি জায়গা করে নিতে পারে। আরজেডিও স্বীকার করেছে, এই ফল তাদের জন্যও একটি বার্তা। নিজেদের রাজনৈতিক কৌশলে পরিবর্তন আনার কথাও ভাবছে দলটি।
যদিও একটি উপনির্বাচনের ফল দেখেই ‘বিজেপির পতন শুরু হয়েছে’ ভাবাটা অরেকটা বাহুল্য।তবে নিজেদের তিন দশকের অভেদ্য দুর্গ হারানো, তরুণ ভোটারদের মনোভাবে পরিবর্তন, দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান- সব মিলিয়ে বাঙ্কিপুর যে বিজেপির জন্য বড় একটি সতর্কবার্তা, তা নিয়ে খুব বেশি দ্বিমত করছেন না কেউই। এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের দিকে। বাঙ্কিপুর কি কেবল বিহারের একটি ব্যতিক্রমী ফল, নাকি বিজেপির দীর্ঘ রাজনৈতিক আধিপত্যে চিড় ধরার প্রথম ইঙ্গিত— সেই উত্তরই খুঁজবে ভারতের আগামী কয়েক বছরের রাজনীতি।
সূত্র : দ্য হিন্দু, দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এএনআই ও টাইমস অব ইন্ডিয়া
.png)

ভারতে ছাত্রদের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ আপাতত থেমেছে। শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। দিল্লির যন্তর মন্তর পরিষ্কার করা হয়েছে। দেয়ালের গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ও যেন আপাতত নিজেদের পর্ব শেষ করেছে। অন্যদিকে বিজেপি আবার সংসদে নিজেদের বিল পাস করানোর কাজে ফিরেছে।
১ ঘণ্টা আগে
চতুর্থবারের মতো ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। এবার সম্মেলনের পাশাপাশি আয়োজিত আউটরিচ সেশনগুলোও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
৩ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি ঢাকা সফর করে গেছেন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈন। ডিজিএফআইয়ের আমন্ত্রণে আসা এই সফরে তিনি সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামসুল ইসলামের সঙ্গে।
১ দিন আগে
গত আট বছরে তিনবার বদলেছে বাংলাদেশের ডিজিটাল আইন। ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইন এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের সাইবার সুরক্ষা আইন। প্রতিবারই সরকার বলেছে, নতুন আইন আগের আইনের বিতর্কিত দিকগুলো সংশোধন করবে, অযথা হয়রানির সুযোগ কমাবে এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল সাইবার অপরাধ মোকাবিলায়
১১ আগস্ট ২০২৬