কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রে ৭.০ মাত্রার ভূমিকম্প

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১: ৪৯
কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে ভূমিকম্প। ছবি: সংগৃহীত।

কানাডার ইউকন ও যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঞ্চলের দূরবর্তী ও কম জনবসতিপূর্ণ সীমান্তে ৭.০ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল মাত্র ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার। ফলে বিস্তৃত এলাকায় এ কম্পন অনুভূত হয়। ইউকনের হোয়াইটহর্স পর্যন্ত কম্পনের প্রভাব পৌঁছালেও জনবহুল এলাকা থেকে দূরে হওয়ায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বড় ধরনের স্থাপনার ক্ষতির ঘটনাও ঘটেনি। এরপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৮০টির বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি এবং অবকাঠামো পরীক্ষা শেষে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি পাওয়া যায়নি। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও উত্তর আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে এই ভূমিকম্প হয়।

ভূমিকম্পের সময়, স্থান ও পরিমাপ

এই ভূমিকম্প ঘটে শনিবার (৬ ডিসেম্বর ২০২৫) দুপুরের দিকে। ইউএসজিএস প্রথমে মাত্রা ৬.৭ জানালেও পরে তা সংশোধন করে ৭.০ করা হয়। আর্থকোয়েকস কানাডাও ৭.০ মাত্রা ও ৫ কিলোমিটার গভীরতা নিশ্চিত করে। কেন্দ্র ছিল আলাস্কার ইয়াকুটাট থেকে প্রায় ৯১ কিলোমিটার উত্তরে এবং হেইন্স জংশন থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে।

এ অঞ্চল ক্লুয়ানি ন্যাশনাল পার্কের পার্বত্য এলাকায় অবস্থিত। জুনো থেকে দূরত্ব ছিল প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার এবং হোয়াইটহর্স থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। কম গভীর হওয়ায় ভূমিকম্পের কম্পন তীব্র অনুভূত হয়। আশপাশের এলাকায় কম্পনের মাত্রা ছিল মডিফাইড মার্কেলি স্কেলে প্রায় ৪ বা তার বেশি। হোয়াইটহর্সে তা স্থানীয়ভাবে ৫.৩ মাত্রার সমান অনুভূত হয়।

ক্ষয়ক্ষতি ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

অঞ্চলটি জনবসতিহীন হওয়ায় সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি সীমিত ছিল। হোয়াইটহর্সে কয়েক মিনিট ধরে হালকা কাঁপুনি থাকে। কিছু জিনিসপত্র তাক থেকে পড়ে যায়। স্থানীয় পুলিশ দুটি জরুরি কল পায়, তবে কারো আহত হওয়ার খবর আসেনি। কোনো ভবনেও ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কানাডার ন্যাচারাল রিসোর্সেসের সিসমোলজিস্ট অ্যালিসন বার্ড জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার পরেও বাস্তব ক্ষতি খুব সামান্য।

ইউকন এনার্জি তাদের স্থাপনাগুলো পরীক্ষা করে এবং কোনো সমস্যা খুঁজে পায়নি। তবে ভূমিকম্পের পর তুষারধসের ঝুঁকি বাড়ায় সাউথ ক্লনডাইক হাইওয়ে বিকেল ৫টা থেকে বন্ধ রাখা হয়। রাতভর তা পুনর্মূল্যায়নের জন্য বন্ধ থাকে। হেইন্স জংশন (জনসংখ্যা প্রায় ১,০১৮) ও ইয়াকুটাটেও (প্রায় ৬৬২ জন) কম্পন অনুভূত হলেও ক্ষতির খবর নেই। আলাস্কা ও কানাডার বিভিন্ন স্থানের মানুষ অনলাইনে কম্পনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। এক ব্যক্তি জানান, কিছু জিনিস ভেঙে পড়লেও জনবসতি কম হওয়ায় বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে।

এ ভূমিকম্প কানাডার রেকর্ডকৃত শক্তিশালী ভূকম্পনগুলোর একটি। এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকম্পপ্রবণ। ১৮৯৯, ১৯৭৯, ২০০২ ও ২০১৭ সালেও এখানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্প হয়েছিল। বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এডউইন নিসেন জানান, প্রশান্ত ও উত্তর আমেরিকান প্লেটের সংযোগস্থলে অবিরত চাপ সঞ্চিত হওয়ায় এলাকাটি বড় ভূমিকম্পপ্রবণ।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত