জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

খার্গে হামলা হলে আক্রমণকারীদের রক্তে পারস্য উপসাগর রাঙিয়ে দেব: ইরান

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬, ১৭: ০৫
খার্গ হলো ইরানের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের খার্গ দ্বীপে হামলা হলে আক্রমণকারীদের রক্তে পারস্য উপসাগর রাঙিয়ে বদলা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ।

আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের দ্বীপে আক্রমণের যেকোনো প্রচেষ্টা কোনো ধরনের বাছবিচারহীন প্রতিক্রিয়া ডেকে আনবে।

পোস্টের শুরুতে ঘালিবাফ লিখেন ‘জন্মভূমি অথবা মৃত্যু’। তিনি লিখেন, ইরানি দ্বীপের মাটিতে যেকোনো আগ্রাসন আমাদের সব সংযমকে ছাড়িয়ে বেপরোয়া করে দেবে। আমরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাবে এবং পারস্য উপসাগরকে আক্রমণকারীদের রক্তে রাঙিয়ে দেব।

প্রসঙ্গত, খার্গ দ্বীপ হলো ইরানের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। দ্বীপটি পারস্য উপসাগরে ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি প্রবালপ্রাচীর। দ্বীপটি ছোট হলেও এর দীর্ঘ জেটিগুলো সুপার ট্যাংকারগুলোকে গভীর জলে প্রবেশের সুযোগ দেয়। কিন্তু মূল ভূখণ্ডের ঢালু ও পরিবর্তনশীল উপকূলরেখায় তা সম্ভব নয়।

দ্বীপটির দীর্ঘ বাণিজ্যিক ইতিহাস রয়েছে। মধ্যযুগে এর বন্দর দিয়ে মুক্তা ও পণ্যসামগ্রী যাতায়াত করত। আর চলতি দশকে এসে এই টার্মিনাল একসঙ্গে ১০টি সুপারট্যাংকারে তেল, সার, তরল গ্যাস ও অন্যান্য পণ্য বোঝাই করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাতে পারে।

ইরানের সবচেয়ে মূল্যবান রপ্তানি পণ্য ও তার ক্রেতাদের মধ্যে খার্গ দ্বীপ একটি অপরিহার্য সংযোগ। দেশটির তেল বাণিজ্যের ৯০ শতাংশ পর্যন্ত এই টার্মিনালের মধ্য দিয়ে যায়। আহওয়াজ, মারুন ও গাচসারানসহ ইরানের বৃহত্তম তেলক্ষেত্রগুলো থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল খার্গ দ্বীপে আসে। সেখান থেকে ট্যাংকারে বোঝাই হয়ে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে আরব সাগরে পাড়ি দেয়। এই দ্বীপ ইরান সরকারকে বিপুল অর্থ এনে দেয়, যা দিয়ে সরকারি চাকরিজীবী ও সেনাদের বেতন মেটানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দ্বীপটি দখলের পরিকল্পনা করছে বলে সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশ দুটির এমন পদক্ষেপ ইরানের অর্থপ্রবাহ বন্ধ করে দিতে পারে। তবে এটি হবে এমন এক পদক্ষেপ যার প্রতিক্রিয়া হবে অত্যন্ত তীব্র এবং বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থাকবে।

অ্যাক্সিওসসহ মার্কিন গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদন ইঙ্গিত দিচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা খার্গ দ্বীপ দখলের বিষয়ে আলোচনা করছেন।

সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সহযোগী অধ্যাপক কামরান মাতিন বলেন, ট্রাম্প সীমিত স্থল হস্তক্ষেপ বা আগ্রাসনের সম্ভাবনা নাকচ করেননি। তারা যদি এই ছোট দ্বীপটি দখল করে নেয়, তাহলে ইরানের রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। অদূর ভবিষ্যতে ইরান সরকারের কোনো আয় থাকবে না বললেই চলে। কিন্তু মূল ভূখণ্ডের খুব কাছের ছোট এ দ্বীপটি রক্ষা করতে গেলে তাদের মূল ভূখণ্ডেরও কিছু অংশ দখল করতে হবে। ফলে অভিযানের পরিধি ক্রমেই বাড়তে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, তাই স্থল মোতায়েনের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তবে এটি অকল্পনীয় নয় এবং এটি সম্ভবত যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেবে।

আর এসবের মধ্যেই ইরানের স্পিকার এই হুঁশিয়ারি দিলেন।

সম্পর্কিত