দ্বিতীয় ভূমিকম্পে আরও মানুষ আহত হয়েছেন। এতে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্ট্রিম ডেস্ক

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে মঙ্গলবার আবারও ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর আগ গত রোববার মধ্যরাতে একই এলাকায় ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সেই ভূমিকম্পেই নিহতের সংখ্যা বেড়ে সর্বশেষ ১ হাজার ৪২৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবারের ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলও ছিল রবিবার রাতের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত একই অঞ্চলের কাছাকাছি। ওই এলাকা পাকিস্তান সীমান্তসংলগ্ন দুর্গম পার্বত্য প্রদেশ কুনার ও নানগারহারে। মঙ্গলবার মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস নতুন ভূমিকম্পের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আফগানিস্তানে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক থাকা মানবিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম আসিল জানিয়েছে, দ্বিতীয় ভূমিকম্পে আরও মানুষ আহত হয়েছেন। এতে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কুনার প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মুখপাত্র এহসানুল্লাহ এহসান জানান, নতুন ভূমিকম্পও একই এলাকায় অনুভূত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের আফটারশক অব্যাহত রয়েছে, তবে এখনও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’
এদিকে রবিবারের ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। কেবল কুনার প্রদেশেই এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪১১ জন নিহত এবং ৩ হাজার ১২৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। তিনি বলেন, এটি গত কয়েক দশকে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পগুলোর একটি। এছাড়া পার্শ্ববর্তী নানগারহার প্রদেশে আরও এক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক আহত হয়েছেন।
কাবুলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শরাফত জামান আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সহায়তা প্রয়োজন, কারণ এখানে বহু মানুষ জীবন ও ঘরবাড়ি হারিয়েছেন।’

আফগানিস্তান বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোর একটি। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার পর বিদেশি সহায়তা কমে গেছে। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা আরও দুর্বল হয়েছে। জাতিসংঘের আফগানিস্তানবিষয়ক মানবিক সমন্বয়ক ইন্দ্রিকা রাতওয়াতে বলেছেন, এ দুর্যোগে ‘লাখ লাখ মানুষ’ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সরকারি মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, কুনার প্রদেশে উদ্ধারকারীরা দিন-রাত কাজ করছেন। ধসে পড়া বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খোঁজা হচ্ছে। সেখানে ইতোমধ্যে ৫ হাজার ৪০০টির বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ৩৯ হাজার বর্গ কিলোমিটার গমের চাষ ও প্রায় ১৪ লাখ গবাদি পশু ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ভূমিধসের কারণে রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেছে, যা দুর্গম গ্রামগুলোতে পৌঁছানো কঠিন করে তুলেছে। অনেক দুর্গত এলাকায় এখনো সড়কপথে ঢোকা যায়নি। তবে জরুরি সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে এবং কয়েকটি দেশ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, তারা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ১৩০ টন জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠাচ্ছে। পাশাপাশি এক মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) দিচ্ছে।

জাতিসংঘ, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এবং আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি খাদ্য, চিকিৎসা এবং আশ্রয়ের জন্য জরুরি সহায়তা প্রদান করছে। যুক্তরাজ্য ১০ লাখ পাউন্ড (১.৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা জাতিসংঘ এবং রেড ক্রসের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। ভারত ১ হাজার তাঁবু এবং ১৫ টন খাদ্য সামগ্রী পাঠিয়েছে। পাকিস্তান, জাপান, চীন, সুইজারল্যান্ড এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে প্রায় সব ধরনের সাহায্য বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আফগানিস্তানের অন্যতম প্রধান দাতায় পরিণত হয়েছে। তবে সাহায্য কমে যাওয়ায় ভূমিকম্প মোকাবিলায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আফগানিস্তান বহু দশকের সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যেই ভয়াবহ মানবিক সংকটে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মতে, বর্তমান সম্পদের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি। তারা বলেছে, অর্থায়ন কমে যাওয়ায় মানবিক সহায়তা পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত বিমানসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

উদ্ধারকর্মীরা পাহাড়ি অঞ্চলে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন। স্থানীয় মানুষজনও উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছেন। তারা খালি হাতে কাদামাটি ও পাথরের ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন।
২৬ বছরের যুবক ওবায়দুল্লাহ স্তোমান বন্ধুকে খুঁজতে ওয়াদির গ্রামে যান। তিনি বলেন, ‘আমি খুঁজছি, কিন্তু তাকে পাইনি। এখানে পরিস্থিতি দেখা আমার জন্য খুবই কষ্টকর ছিল। এখানে শুধু ধ্বংসস্তূপ পড়ে আছে। ধ্বংসস্তুপের নিচে এখনো বহু মানুষ চাপা পড়ে আছেন।’
নুরগাল জেলার শ্রমিক মুহাম্মদ আজিজ জানান, তার পাঁচ সন্তানসহ দশ জন আত্মীয় ভূমিকম্পে নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এখানে প্রতিটি বাড়িতে মৃত্যু। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে আটকা আছে।’
তালেবান নিরাপত্তা বাহিনী, স্থানীয় স্বেহসেবী এবং সামরিক বাহিনী ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মানুষ উদ্ধারে কাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রে খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরানো হচ্ছে। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আহতদের জালালাবাদের হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কুনার প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতভর উদ্ধার কাজ চললেও অনেক গ্রাম এখনও ধ্বংসস্তুপের নিচে।

দুর্বল অবকাঠামো, সীমিত ইন্টারনেট সংযোগ এবং ভূমিধস উদ্ধার ও সমন্বয় কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। আফগানিস্তানের রক্ষণশীল সংস্কৃতির কারণে নারীদের জন্য ত্রাণ সরবরাহে বিলম্বের আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া, দেশটি ইতোমধ্যে খরা, ক্ষুধা এবং পাকিস্তান ও ইরান থেকে ২৩ লাখেরও বেশি প্রত্যাবাসিত শরণার্থীর সংকটের মধ্যে রয়েছে।
আফগানিস্তানে প্রায়ই ভূমিকম্প আঘাত হানে। দেশটির হিন্দুকুশ পর্বতমালা ইউরেশিয়া ও ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে হওয়ায় এ ঝুঁকি বেশি।
২০২৩ সালের অক্টোবরে পশ্চিম হেরাত প্রদেশে ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয় এবং ৬৩ হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০২২ সালের জুনে পাকতিকা প্রদেশে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয় এবং লাখো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে।

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে মঙ্গলবার আবারও ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর আগ গত রোববার মধ্যরাতে একই এলাকায় ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সেই ভূমিকম্পেই নিহতের সংখ্যা বেড়ে সর্বশেষ ১ হাজার ৪২৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবারের ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলও ছিল রবিবার রাতের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত একই অঞ্চলের কাছাকাছি। ওই এলাকা পাকিস্তান সীমান্তসংলগ্ন দুর্গম পার্বত্য প্রদেশ কুনার ও নানগারহারে। মঙ্গলবার মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস নতুন ভূমিকম্পের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আফগানিস্তানে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক থাকা মানবিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম আসিল জানিয়েছে, দ্বিতীয় ভূমিকম্পে আরও মানুষ আহত হয়েছেন। এতে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কুনার প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মুখপাত্র এহসানুল্লাহ এহসান জানান, নতুন ভূমিকম্পও একই এলাকায় অনুভূত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের আফটারশক অব্যাহত রয়েছে, তবে এখনও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’
এদিকে রবিবারের ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। কেবল কুনার প্রদেশেই এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪১১ জন নিহত এবং ৩ হাজার ১২৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। তিনি বলেন, এটি গত কয়েক দশকে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পগুলোর একটি। এছাড়া পার্শ্ববর্তী নানগারহার প্রদেশে আরও এক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক আহত হয়েছেন।
কাবুলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শরাফত জামান আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সহায়তা প্রয়োজন, কারণ এখানে বহু মানুষ জীবন ও ঘরবাড়ি হারিয়েছেন।’

আফগানিস্তান বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোর একটি। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার পর বিদেশি সহায়তা কমে গেছে। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা আরও দুর্বল হয়েছে। জাতিসংঘের আফগানিস্তানবিষয়ক মানবিক সমন্বয়ক ইন্দ্রিকা রাতওয়াতে বলেছেন, এ দুর্যোগে ‘লাখ লাখ মানুষ’ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সরকারি মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, কুনার প্রদেশে উদ্ধারকারীরা দিন-রাত কাজ করছেন। ধসে পড়া বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খোঁজা হচ্ছে। সেখানে ইতোমধ্যে ৫ হাজার ৪০০টির বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ৩৯ হাজার বর্গ কিলোমিটার গমের চাষ ও প্রায় ১৪ লাখ গবাদি পশু ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ভূমিধসের কারণে রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেছে, যা দুর্গম গ্রামগুলোতে পৌঁছানো কঠিন করে তুলেছে। অনেক দুর্গত এলাকায় এখনো সড়কপথে ঢোকা যায়নি। তবে জরুরি সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে এবং কয়েকটি দেশ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, তারা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ১৩০ টন জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠাচ্ছে। পাশাপাশি এক মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) দিচ্ছে।

জাতিসংঘ, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এবং আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি খাদ্য, চিকিৎসা এবং আশ্রয়ের জন্য জরুরি সহায়তা প্রদান করছে। যুক্তরাজ্য ১০ লাখ পাউন্ড (১.৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা জাতিসংঘ এবং রেড ক্রসের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। ভারত ১ হাজার তাঁবু এবং ১৫ টন খাদ্য সামগ্রী পাঠিয়েছে। পাকিস্তান, জাপান, চীন, সুইজারল্যান্ড এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে প্রায় সব ধরনের সাহায্য বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আফগানিস্তানের অন্যতম প্রধান দাতায় পরিণত হয়েছে। তবে সাহায্য কমে যাওয়ায় ভূমিকম্প মোকাবিলায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আফগানিস্তান বহু দশকের সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যেই ভয়াবহ মানবিক সংকটে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মতে, বর্তমান সম্পদের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি। তারা বলেছে, অর্থায়ন কমে যাওয়ায় মানবিক সহায়তা পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত বিমানসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

উদ্ধারকর্মীরা পাহাড়ি অঞ্চলে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন। স্থানীয় মানুষজনও উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছেন। তারা খালি হাতে কাদামাটি ও পাথরের ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন।
২৬ বছরের যুবক ওবায়দুল্লাহ স্তোমান বন্ধুকে খুঁজতে ওয়াদির গ্রামে যান। তিনি বলেন, ‘আমি খুঁজছি, কিন্তু তাকে পাইনি। এখানে পরিস্থিতি দেখা আমার জন্য খুবই কষ্টকর ছিল। এখানে শুধু ধ্বংসস্তূপ পড়ে আছে। ধ্বংসস্তুপের নিচে এখনো বহু মানুষ চাপা পড়ে আছেন।’
নুরগাল জেলার শ্রমিক মুহাম্মদ আজিজ জানান, তার পাঁচ সন্তানসহ দশ জন আত্মীয় ভূমিকম্পে নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এখানে প্রতিটি বাড়িতে মৃত্যু। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে আটকা আছে।’
তালেবান নিরাপত্তা বাহিনী, স্থানীয় স্বেহসেবী এবং সামরিক বাহিনী ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মানুষ উদ্ধারে কাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রে খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরানো হচ্ছে। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আহতদের জালালাবাদের হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কুনার প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতভর উদ্ধার কাজ চললেও অনেক গ্রাম এখনও ধ্বংসস্তুপের নিচে।

দুর্বল অবকাঠামো, সীমিত ইন্টারনেট সংযোগ এবং ভূমিধস উদ্ধার ও সমন্বয় কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। আফগানিস্তানের রক্ষণশীল সংস্কৃতির কারণে নারীদের জন্য ত্রাণ সরবরাহে বিলম্বের আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া, দেশটি ইতোমধ্যে খরা, ক্ষুধা এবং পাকিস্তান ও ইরান থেকে ২৩ লাখেরও বেশি প্রত্যাবাসিত শরণার্থীর সংকটের মধ্যে রয়েছে।
আফগানিস্তানে প্রায়ই ভূমিকম্প আঘাত হানে। দেশটির হিন্দুকুশ পর্বতমালা ইউরেশিয়া ও ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে হওয়ায় এ ঝুঁকি বেশি।
২০২৩ সালের অক্টোবরে পশ্চিম হেরাত প্রদেশে ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয় এবং ৬৩ হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০২২ সালের জুনে পাকতিকা প্রদেশে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয় এবং লাখো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে।

এক দশক পর মিয়ানমারের উচ্চ পর্যায়ের কোনো প্রতিনিধি দলের পাকিস্তান সফর। আর এই সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশ দুটি।
৬ ঘণ্টা আগে
মেক্সিকোর একটি ফুটবল মাঠে বন্দুকধারীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণে অন্তত ১১ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার (২৫ জানুয়ারি) মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতো রাজ্যের সালামাঙ্কা শহরে একটি ফুটবল ম্যাচ শেষে এই নৃশংস হামলার হয়।
৬ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভয়াবহ তুষারপাত, শিলাবৃষ্টি ও জমাট বৃষ্টি (ফ্রিজিং রেইন) জনজীবনকে কার্যত অচল করে দিয়েছে। দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে রেকর্ড শীত, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা, সড়ক ও আকাশপথে যোগাযোগ বিপর্যয়ের পাশাপাশি একাধিক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
১৪ ঘণ্টা আগে
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির অকৃত্রিম বন্ধু ও বিবিসির দক্ষিণ এশিয়ার সাবেক ব্যুরোপ্রধান সাংবাদিক স্যার মার্ক টালি আর নেই। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে জানিয়েছে বিবিসি হিন্দি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
১ দিন আগে