ছয় বছর টিকা না দেওয়ায় বর্তমান হাম পরিস্থিতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ২০: ২৯
বক্তৃতা করছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সংগৃহীত ছবি

দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের পেছনে ২০২০ সাল থেকে পরের ছয় বছরের টিকা সংকটকে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের ঘাটতি এবং টিকার তীব্র সংকটের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

আজ রোববার (১৭ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত 'হাম ও ডেঙ্গুরোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধই সর্বোত্তম পন্থা' শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, 'বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশে হামের টিকার কোনো মজুত ছিল না। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে ২০২৬ পর্যন্ত দেশে হামের কোনো টিকা দেওয়া হয়নি। এমনকি আমাদের হাতে একটা টিকাও অবশিষ্ট ছিল না।'

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জরুরি ভিত্তিতে ইউনিসেফ ও গ্যাভির (GAVI) সহায়তায় টিকা সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে।

হামের ভয়াবহতা বৃদ্ধির পেছনে মায়েদের অপুষ্টি ও সচেতনতার অভাবকে দায়ী করে মন্ত্রী বলেন, 'আগে ধারণা ছিল নয় মাস পর্যন্ত শিশুর শরীরে মায়ের দুধের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে। কিন্তু এখন অনেক ছোট শিশুও আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতাল পরিদর্শনে আমি দেখেছি, অনেক মা নিজেই চরম অপুষ্টিতে ভুগছেন এবং শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারছেন না। অনেক শিশু এমনকি জন্মের পর প্রয়োজনীয় শালদুধও পাচ্ছে না।' তিনি আরও সতর্ক করেন যে হাম আক্রান্ত শিশুরা পরবর্তীতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। তাই মায়েদের পুষ্টি ও সন্তানের প্রতি দায়িত্ববোধ বৃদ্ধির ওপর তিনি জোর দেন।

মন্ত্রী জানান, গত ৪ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বর্তমানে চারটি সিটি করপোরেশনসহ সারা দেশে এই কার্যক্রম চলছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দিচ্ছেন। এর ফলে হামের মৃত্যুর হার কমতে শুরু করেছে এবং গতকাল প্রথমবারের মতো নিশ্চিত হাম রোগীর মৃত্যু ‘শূন্য’ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডেঙ্গু প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতি শনিবার সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে এবং মশা নিধনে স্প্রে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে কেবল সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে এবং মশার বংশবিস্তার রোধে ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

সেমিনারে চিকিৎসকদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘকাল ধরে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় ছিল, যারা টেন্ডার ও নিয়োগে হস্তক্ষেপ করে খাতটিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছি। স্বাস্থ্য খাতকে সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত করা হবে।'

সেমিনারে ড্যাবের মহাসচিব মো. জহিরুল ইসলাম জানান, সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি ড্যাবের উদ্যোগে বেসরকারি পর্যায়ে বিশেষ চিকিৎসাসেবা চালু করা হয়েছে। হলি ফ্যামিলি ও বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালে বিশেষায়িত ইউনিট ও পিআইসিইউ চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া দ্রুত একটি 'ন্যাশনাল গাইডলাইন' সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ড্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির সংসদ সদস্য ও ড্যাবের সাবেক মহাসচিব ডা. মো. আব্দুস সালাম এবং ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। সেমিনারে হাম ও ডেঙ্গু বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যথাক্রমে ডা. ফারহানা হক ও ডা. মোহাম্মদ সায়েম।

সম্পর্কিত