অর্থী দাস

কোনো অঞ্চলে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটি রোগের প্রাদুর্ভাব উচ্চহারে ছড়িয়ে পড়লে এক সময় তা মহামারিতে পরিণত হয়। মহামারির ইতিহাস বলে, রোগটি শ্রেণি নির্বিশেষে একটি ভৌগোলিক অঞ্চলকে রীতিমতো দিশাহারা ও পাগলপ্রায় বানিয়ে ফেলে। রাষ্ট্রব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ধর্ষণকে ‘মহামারি’ বলতে গেলে ঠিক কতটা ছড়িয়ে যেতে হয়? ছড়ানোর বাকি আছে কতটা?
আমরা সমাজের যে স্তরেই বসবাস করি না কেন, সবাই ধর্ষণ ও নিপীড়নে সমান জর্জরিত, আতঙ্কিত ও বিপর্যস্ত। আমরা কোভিড-১৯ মহামারি দেখেছি কয়েক বছর আগে। পৃথিবীর অনেক কিছু উলট-পালট করে দেওয়ার পরই কেবল মহামারিটিকে বশ করা গেছে। কিন্তু পুরুষতন্ত্রের এক ও অদ্বিতীয় অহমের ধ্বজাধারী ধর্ষণ নামের এই মহামারিকে কি আদৌ বশ করা সম্ভব হবে?
বিচারহীনতার সংস্কৃতি কী করে ধর্ষণকে মহামারির রূপ দিতে চলেছে, তা কি আমলাতান্ত্রিক কর্তৃপক্ষের নজরে একটুও পড়ছে না?
বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ও জ্ঞান উৎপাদনের কারখানা। সেখানে নারীরা হরহামেশা নিপীড়িত হচ্ছে। উচ্চশিক্ষা থেকে প্রাক-প্রাথমিক—এমন কোনো স্তর বাকি নেই, যেখানে যৌন নিপীড়ন ঘটছে না! পরিতাপের বিষয় এই, আমাদের দেশে ধর্মীয় শিক্ষাধারার যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেখানেও দেদার চলছে যৌন নিপীড়ন। দেখার কেউই নেই যেন। আইন প্রয়োগ করেও এই ‘উন্মাদনা’র লাগাম টানা যাচ্ছে না।
বিচারব্যবস্থার অবস্থা তথৈবচ সত্য। কিন্তু ততোধিক সত্য হলো, ধর্ষণকে কেবল আইন ও বিচারিক সমস্যার ফ্রেমওয়ার্ক দিয়ে দেখলেও চলবে না। ধর্ষণ একটি মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বাস্তবতার ফল। যার সঙ্গে যুক্ত আছে ক্ষমতার অসমবণ্টন। নৈতিক এবং সেক্স এডুকেশনের অপ্রতুলতা এর মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত।
ধর্ষণ ও যৌনসহিংসতা মোকাবিলায় প্রয়োজন একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরোধমূলক প্রক্রিয়া, যার সঙ্গে সংস্কৃতি ও সমাজের নিবিড় যোগ থাকবে। সমাজের প্রতিটি স্তরে, সকল মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি নিয়ে তুমুল তোলপাড় প্রয়োজন। সংবেদনশীলতা ও সচেতনতা এবং আইন ও বিচারব্যবস্থার সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া এই মহামারি নির্মূল আদৌ সম্ভব নয় আসলে।
ক্রাইসিস ডকুমেন্টেশন সেন্টারের হিসাব অনুযায়ী গত ৮ বছর ৪ মাসে ৪৩৮৭ জন মেয়েশিশু ও ৩৮৫ জন ছেলেশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ২০১৮ সালে ধর্ষণের শিকার মেয়ে ও ছেলে শিশু যথাক্রমে ৪৪৪ ও ৭, ২০১৯ সালে ৯৮৬ ও ৩৭, ২০২০ সালে ১০১৮ ও ৫২, ২০২১ সালে ৭৭৭ ও ৭৮, ২০২২ সালে ১৬১ ও ৫২, ২০২৩ সালে ৩১৪ ও ৭৫, ২০২৪ সালে ২৩৪ ও ৩৬, ২০২৫ সালে ৪৫৬ ও ৪৮ এবং ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৯৪ ও ১৫।
এই সংখ্যার মধ্যে কেবল শিশুরা অন্তর্গত, প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের হিসাব এখানে নেই। সেটি যোগ করলে সংখ্যাটি কোথায় গিয়ে ঠেকবে, একবার ভাবুন। মানুষের মানবিকতা হ্রাস পেয়ে হিংস্ররূপটি বৃদ্ধি পাচ্ছে ক্রমাগত। কিন্তু, বিপরীতে আক্রান্ত কারা? নারী ও শিশুরা? সমাজের চোখে নারীরা দুর্বল, শিশুরা পশুদের মতোই অবলা। অতএব, শক্তিশালী পুরুষতন্ত্রের যথেচ্ছাচার ও ব্যাভিচার তাদের ওপর চালানো জায়েজ এই সমাজে।
এই শক্তিশালী বর্গ তথা ধর্ষক ও নিপীড়ক শ্রেণি শুধু যৌন সহিংসতা করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না। তারা হত্যা করছে এবং নৃশংসভাবে মৃতদেহকে বিকৃত করছে। বীভৎসতম কার্যকলাপের সাক্ষী হচ্ছে সমাজ। এই নপুংশকদের কাছে কে নিরাপদ? কেউই কি নিরাপদ—উত্তর আসবে— না। না নারী, না পুরুষ, না শিশু। ক্ষেত্র বিশেষে পশু পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হচ্ছে! এই মহামারির ভয়ে মেয়েরা ঘর থেকে বের হতে চায় না। নাকি পরিকল্পিতভাবে এই জুজুর সংস্কৃতি তৈরি করাই হচ্ছে যেন মেয়েরা ‘অবরোধবাসিনী’ হয়ে থাকে!
এই লেখার অবতারণা রামিসার জন্য। রামিসা আমাদের আরেক আছিয়ার ছায়া যেন। মাগুরার আছিয়া যেমন, রামিসারও তেমনই—পরিচয় দেয়ার আর বোধহয় প্রয়োজন নেই। সবাই জানেন তার কথা। সাদা নেভি-ব্লু স্কুল পোশাকের রামিসার একটি ছবি দেখলাম। দেবশিশুর মতো মুখ। সেই ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে লেখা, ‘সেবাই লক্ষ্য, সেবাই পথ, সেবাই ধর্ম।’
জগতকে নিজের জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় সেবা করার সুযোগটা কি পেল ছোট্ট মেয়েটা? এক ধর্ষকামী পুরুষ ও আশ্চর্যজনকভাবে তার স্ত্রীর সহযোগী ভূমিকায় এক নিমেষেই ভেঙে খানখান হয়ে গেল একটি তাজা স্বপ্ন, অঙ্কুরেই ঝরে গেল একটি ফুল। পর্নাসক্ত বিকৃত যৌনাচারী এক দম্পতির বলি হলো রামিসা। তাকে ধর্ষণ করার উদ্দেশ্যেই নাকি রাজধানীর পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশন ৭ নম্বর সড়কের ৩৭ নম্বর বাসার তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেয় ধর্ষক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী। ভাবতে পারেন, মানুষের ‘ফেটিশ’ কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে!
ধর্ষণের পর ধারালো ছুরি দিয়ে শরীর থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন করা হয় ছোট্ট বাচ্চাটার। ধর্ষক তার স্ত্রীর সহযোগিতাতেই পালিয়ে যায়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্রেপ্তার করে থানায় এনে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ঘটনার কথা স্বীকার করে। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার রামিসার বাড়িতে দেখা করতে গিয়েছেন, এটা অবশ্যই ভালো দিক। একটি রাষ্ট্রের সরকার প্রধান সংবেদনশীল হবেন, এটাই কাম্য।
একই সাথে এই সংবেদনশীলতা দেশের আইন ও বিচারের যথাযথ প্রয়োগের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করতে হবে। নয়তো রামিসার বাবার মতোই সকলকে বিচারহীনতার সংস্কৃতির প্রতি আস্থা হারিয়ে বলতে হবে, ‘আমি বিচার চাই না। কারণ, আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আমার মেয়েও আর ফিরে আসবে না। আপনাদের বিচারের কোনো উদাহরণ নেই। এটা বড়জোর ১৫ দিন চলবে, আবার কোনো ঘটনা ঘটবে। এরপর এটা ধামাচাপা পড়ে যাবে।’
পরিতাপের বিষয় হলো, রামিসার হত্যাকাণ্ড নিয়ে যখন পুরো দেশ তোলপাড়, তখন গত বৃহস্পতিবারই চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পর্যন্ত চেয়েছে। বিচারহীনতা যখন রাষ্ট্র ও সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়ে, তখন এই বিক্ষুব্ধতার কারণটি বুঝতে রকেট সায়েন্টিস্ট হতে হয় না। সংবেদনশীল মানুষমাত্রই এই অশনিসংকেত থেকে মুক্তি চায়।
দেশজুড়ে ক্রমাগত ঘটতে থাকা এই ঘটনাবলিকে একটু আলাদাভাবে দেখার প্রয়োজন আছে। কেন বিগত কয়েক বছরে ধর্ষণ এভাবে মহামারির আকার ধারণ করেছে? আগে কি এমন ছিল না? হঠাৎ করে ধর্ষণ বা নিপীড়নের উত্থান হয়নি, বরং দীর্ঘদিনের নারীবিদ্বেষ, স্লাটশেমিং, নারীকে উদ্দেশ্য করে রসালো কনটেন্ট তৈরির পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা যখন সংস্কৃতিতে রূপান্তরিত নিয়েছে, তখন এর সর্বোচ্চ প্রায়োগিক রূপান্তর ঘটেছে ধর্ষণের মাধ্যমে। যখন একজন নারীকে মানুষ নয়, বস্তু বা অবজেক্ট হিসেবে কেবল বিনোদন কনটেন্ট হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তখন সমাজও ধীরে ধীরে তাকে সেভাবেই দেখতে শেখে। এই অসুস্থ সংস্কৃতি বন্ধ না হলে ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য মহামারি নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই সম্ভব না।
২০১৮ সালের শুরুর দিকে, ইউনিসেফ তাদের ফেসবুক পেইজে বাল্যবিবাহ রোধে এক কন্যাশিশুর ছবি পোস্ট করে। পোস্টের কমেন্ট সেকশন দেখেই বুঝতে পারা যায়, ধীরে ধীরে মানুষের নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাচ্ছে। আরও একটি ঘটনা মনে পড়ে। কয়েক বছর আগে, হঠাৎ করেই ঢাকা শহরে এক নতুন আতঙ্কের আবির্ভাব ঘটল। পাবলিক বাস কিংবা রাস্তায় চলার সময় সবার আগোচরে কে বা কারা ব্লেড দিয়ে মেয়েদের জামা কেটে দিচ্ছে। শিক্ষিত মেয়েরা এই আক্রমণের শিকার হতো বেশি। ধীরে ধীরে তাদের পাবলিক পরিবহনে যাতায়াত কমে গেল। এ ছাড়া কর্মজীবী নারীদের নিয়ে রিয়েল ও ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে হয়রানি ও নিপীড়নমূলক কথাবার্তা ছড়াছড়ি। মেয়েদের পোশাক নিয়ে কটূক্তির শেষ নেই। সমাজমাধ্যমে এই গোষ্ঠীর সমর্থক ও বট আইডির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ফুলের মতো স্নিগ্ধ নিহত রামিসার ছবির কমেন্ট সেকশনেও একই প্রবণতা। একটি গোষ্ঠী ধর্ষককে রক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ধর্মকে ব্যবহার করে তার আড়ালে প্রতিনিয়ত অন্যায় করে চলেছে তারা। একজন লিখেছে, ‘এই মেয়ে ক্লাস টু তে পড়তো? মিয়া বানোয়াট কাহিনি মনে হচ্ছে।’ আরেকজন লিখেছে ‘এত সাজসচ্চা (সাজসজ্জা) ভালো না!’ ভাবুন, একটি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে, কিন্তু তার মৃত্যুসংবাদে গণমাধ্যমের তৈরিকৃত ফটোকার্ডের নিচে এ ধরণের মন্তব্য।
এ রকম সম্ভাব্য ধর্ষক ও ধর্ষকামীরা সর্বত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের এসব করার সাহস প্রদান করছে বিচারহীনতা ও বিচারের দীর্ঘসূত্রির সংস্কৃতি এবং একই সাথে অতি দক্ষিণপন্থীদের ধর্ষকামী বয়ান। বাল্যবিবাহকে সমর্থন করে নানান অশালীন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য চিনিয়ে দিচ্ছে নিপীড়কদের চরিত্র। এদের সবার চিন্তা একই প্যাটার্ন বা প্রকরণ মেনে চলে। ছেলেশিশু ধর্ষণের শিকার হলে সেটাকে ‘শয়তানের প্ররোচনায় করে ফেলেছে’ বলে।
সম্প্রতি ঢাকার রামপুরায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করা হয়। একই সঙ্গে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশের উপকমিশনার হারুন অর রশিদের বয়ান থেকে জানা যায়, লাশের পায়ুপথে অস্বাভাবিক যৌনাচারের লক্ষণ দেখা গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলেছে, মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী ধর্ষক শিহাব হোসেনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে মাদ্রাসার চারজন ছাত্রের ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ, ঘটনা জানাজানি না হলে শিহাবের অপকর্ম চলতেই থাকত এবং তা ধামাচাপা দিয়ে রাখা হতো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ইভটিজিং করার পর যখন ফুলের মালা পরিয়ে উত্যক্তকারীকে থানা থেকে বের করে আনা হয়, তখন সম্ভাব্য ইভটিজাররা কেন সাহস পাবে না? গত ১২ মে রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক ছাত্রী ধর্ষণচেষ্টা শিকার হলেও এখনও অভিযুক্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে। এর প্রতিবাদে আন্দোলন চলাকালীন আরো তিন-চারটি ইভটিজিংয়ের ঘটনা ঘটেছে সেখানে। কেন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না?
দিনাজপুরের ৮ বছর বয়সী পূজার ধর্ষক যখন জামিনে ছাড়া পায়, তখন কেন ধর্ষণের পরিমাণ বাড়বে না? রাজধানীর গুলশানে মুনিয়ার ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ব্যাপক আলোচিত। অভিযুক্ত আনভীরের প্রতিপত্তি-শক্তির কারণে মেয়েটি বিচার পায়নি। অথচ, সব রেজিমে, সব আমলে আনভীররা টিকে যায়। কেন? কিংবা তনু হত্যাকাণ্ড, এক যুগ পরেও বিচার হয়নি। কার শক্তিতে? চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ৭ বছর বয়সী ইরাকে ধর্ষণ করা হয়, পরে সে মারা যায়। বান্দরবানের জঙ্গলে তিন সন্তানের জননী খিয়াং নারী চিংমা খিয়াংকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন বলছে, ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত ও ৯০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ হতে হবে। হয়েছে?
যে ভূমিতে একটি ফুলকে বাঁচানোর জন্য যুদ্ধ হয়, যেখানে একটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরেছেন এই ভূমির সূর্য-সন্তানেরা, সেই ভূখণ্ডের আজ এ কী হাল! মানুষগুলোর কী হল? আউল-বাউলের দেশে মানুষের ভেতরের মানুষটি আজ কোথায় হারিয়ে গেল? চারিদিকে এত হিংসা, অপরাধ প্রবণতা, অস্থিরতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে কেন? কেন স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশে ক্রমাগত ধর্ষণ, নিপীড়ন ও হত্যাকাণ্ড ঘটেই চলেছে? বিচারের বাণী এখানে আক্ষরিক অর্থেই নিভৃতে কাঁদছে। সন্তানের জন্য, বিশেষত কন্যাসন্তানের জন্য কেন পিতামাতাদের সর্বক্ষণ উৎকন্ঠা নিয়ে দিন পার করতে হচ্ছে? কে দেবে এসব প্রশ্নের উত্তর? রাষ্ট্র? সরকার? সমাজ? সর্বশক্তিমান?
উত্তর জানা না থাকলে শুধু এটুকু বলুন, আছিয়া ও রামিসার পর তাহলে কে, আমি বা আমার পরের প্রজন্মের কন্যারা? বিচার করতে না পারেন, এটুকু শুধু বলুন। আমরা যেন একটু প্রস্তুতির সময় পাই!

কোনো অঞ্চলে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটি রোগের প্রাদুর্ভাব উচ্চহারে ছড়িয়ে পড়লে এক সময় তা মহামারিতে পরিণত হয়। মহামারির ইতিহাস বলে, রোগটি শ্রেণি নির্বিশেষে একটি ভৌগোলিক অঞ্চলকে রীতিমতো দিশাহারা ও পাগলপ্রায় বানিয়ে ফেলে। রাষ্ট্রব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ধর্ষণকে ‘মহামারি’ বলতে গেলে ঠিক কতটা ছড়িয়ে যেতে হয়? ছড়ানোর বাকি আছে কতটা?
আমরা সমাজের যে স্তরেই বসবাস করি না কেন, সবাই ধর্ষণ ও নিপীড়নে সমান জর্জরিত, আতঙ্কিত ও বিপর্যস্ত। আমরা কোভিড-১৯ মহামারি দেখেছি কয়েক বছর আগে। পৃথিবীর অনেক কিছু উলট-পালট করে দেওয়ার পরই কেবল মহামারিটিকে বশ করা গেছে। কিন্তু পুরুষতন্ত্রের এক ও অদ্বিতীয় অহমের ধ্বজাধারী ধর্ষণ নামের এই মহামারিকে কি আদৌ বশ করা সম্ভব হবে?
বিচারহীনতার সংস্কৃতি কী করে ধর্ষণকে মহামারির রূপ দিতে চলেছে, তা কি আমলাতান্ত্রিক কর্তৃপক্ষের নজরে একটুও পড়ছে না?
বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ও জ্ঞান উৎপাদনের কারখানা। সেখানে নারীরা হরহামেশা নিপীড়িত হচ্ছে। উচ্চশিক্ষা থেকে প্রাক-প্রাথমিক—এমন কোনো স্তর বাকি নেই, যেখানে যৌন নিপীড়ন ঘটছে না! পরিতাপের বিষয় এই, আমাদের দেশে ধর্মীয় শিক্ষাধারার যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেখানেও দেদার চলছে যৌন নিপীড়ন। দেখার কেউই নেই যেন। আইন প্রয়োগ করেও এই ‘উন্মাদনা’র লাগাম টানা যাচ্ছে না।
বিচারব্যবস্থার অবস্থা তথৈবচ সত্য। কিন্তু ততোধিক সত্য হলো, ধর্ষণকে কেবল আইন ও বিচারিক সমস্যার ফ্রেমওয়ার্ক দিয়ে দেখলেও চলবে না। ধর্ষণ একটি মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বাস্তবতার ফল। যার সঙ্গে যুক্ত আছে ক্ষমতার অসমবণ্টন। নৈতিক এবং সেক্স এডুকেশনের অপ্রতুলতা এর মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত।
ধর্ষণ ও যৌনসহিংসতা মোকাবিলায় প্রয়োজন একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরোধমূলক প্রক্রিয়া, যার সঙ্গে সংস্কৃতি ও সমাজের নিবিড় যোগ থাকবে। সমাজের প্রতিটি স্তরে, সকল মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি নিয়ে তুমুল তোলপাড় প্রয়োজন। সংবেদনশীলতা ও সচেতনতা এবং আইন ও বিচারব্যবস্থার সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া এই মহামারি নির্মূল আদৌ সম্ভব নয় আসলে।
ক্রাইসিস ডকুমেন্টেশন সেন্টারের হিসাব অনুযায়ী গত ৮ বছর ৪ মাসে ৪৩৮৭ জন মেয়েশিশু ও ৩৮৫ জন ছেলেশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ২০১৮ সালে ধর্ষণের শিকার মেয়ে ও ছেলে শিশু যথাক্রমে ৪৪৪ ও ৭, ২০১৯ সালে ৯৮৬ ও ৩৭, ২০২০ সালে ১০১৮ ও ৫২, ২০২১ সালে ৭৭৭ ও ৭৮, ২০২২ সালে ১৬১ ও ৫২, ২০২৩ সালে ৩১৪ ও ৭৫, ২০২৪ সালে ২৩৪ ও ৩৬, ২০২৫ সালে ৪৫৬ ও ৪৮ এবং ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৯৪ ও ১৫।
এই সংখ্যার মধ্যে কেবল শিশুরা অন্তর্গত, প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের হিসাব এখানে নেই। সেটি যোগ করলে সংখ্যাটি কোথায় গিয়ে ঠেকবে, একবার ভাবুন। মানুষের মানবিকতা হ্রাস পেয়ে হিংস্ররূপটি বৃদ্ধি পাচ্ছে ক্রমাগত। কিন্তু, বিপরীতে আক্রান্ত কারা? নারী ও শিশুরা? সমাজের চোখে নারীরা দুর্বল, শিশুরা পশুদের মতোই অবলা। অতএব, শক্তিশালী পুরুষতন্ত্রের যথেচ্ছাচার ও ব্যাভিচার তাদের ওপর চালানো জায়েজ এই সমাজে।
এই শক্তিশালী বর্গ তথা ধর্ষক ও নিপীড়ক শ্রেণি শুধু যৌন সহিংসতা করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না। তারা হত্যা করছে এবং নৃশংসভাবে মৃতদেহকে বিকৃত করছে। বীভৎসতম কার্যকলাপের সাক্ষী হচ্ছে সমাজ। এই নপুংশকদের কাছে কে নিরাপদ? কেউই কি নিরাপদ—উত্তর আসবে— না। না নারী, না পুরুষ, না শিশু। ক্ষেত্র বিশেষে পশু পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হচ্ছে! এই মহামারির ভয়ে মেয়েরা ঘর থেকে বের হতে চায় না। নাকি পরিকল্পিতভাবে এই জুজুর সংস্কৃতি তৈরি করাই হচ্ছে যেন মেয়েরা ‘অবরোধবাসিনী’ হয়ে থাকে!
এই লেখার অবতারণা রামিসার জন্য। রামিসা আমাদের আরেক আছিয়ার ছায়া যেন। মাগুরার আছিয়া যেমন, রামিসারও তেমনই—পরিচয় দেয়ার আর বোধহয় প্রয়োজন নেই। সবাই জানেন তার কথা। সাদা নেভি-ব্লু স্কুল পোশাকের রামিসার একটি ছবি দেখলাম। দেবশিশুর মতো মুখ। সেই ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে লেখা, ‘সেবাই লক্ষ্য, সেবাই পথ, সেবাই ধর্ম।’
জগতকে নিজের জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় সেবা করার সুযোগটা কি পেল ছোট্ট মেয়েটা? এক ধর্ষকামী পুরুষ ও আশ্চর্যজনকভাবে তার স্ত্রীর সহযোগী ভূমিকায় এক নিমেষেই ভেঙে খানখান হয়ে গেল একটি তাজা স্বপ্ন, অঙ্কুরেই ঝরে গেল একটি ফুল। পর্নাসক্ত বিকৃত যৌনাচারী এক দম্পতির বলি হলো রামিসা। তাকে ধর্ষণ করার উদ্দেশ্যেই নাকি রাজধানীর পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশন ৭ নম্বর সড়কের ৩৭ নম্বর বাসার তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেয় ধর্ষক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী। ভাবতে পারেন, মানুষের ‘ফেটিশ’ কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে!
ধর্ষণের পর ধারালো ছুরি দিয়ে শরীর থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন করা হয় ছোট্ট বাচ্চাটার। ধর্ষক তার স্ত্রীর সহযোগিতাতেই পালিয়ে যায়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্রেপ্তার করে থানায় এনে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ঘটনার কথা স্বীকার করে। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার রামিসার বাড়িতে দেখা করতে গিয়েছেন, এটা অবশ্যই ভালো দিক। একটি রাষ্ট্রের সরকার প্রধান সংবেদনশীল হবেন, এটাই কাম্য।
একই সাথে এই সংবেদনশীলতা দেশের আইন ও বিচারের যথাযথ প্রয়োগের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করতে হবে। নয়তো রামিসার বাবার মতোই সকলকে বিচারহীনতার সংস্কৃতির প্রতি আস্থা হারিয়ে বলতে হবে, ‘আমি বিচার চাই না। কারণ, আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আমার মেয়েও আর ফিরে আসবে না। আপনাদের বিচারের কোনো উদাহরণ নেই। এটা বড়জোর ১৫ দিন চলবে, আবার কোনো ঘটনা ঘটবে। এরপর এটা ধামাচাপা পড়ে যাবে।’
পরিতাপের বিষয় হলো, রামিসার হত্যাকাণ্ড নিয়ে যখন পুরো দেশ তোলপাড়, তখন গত বৃহস্পতিবারই চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পর্যন্ত চেয়েছে। বিচারহীনতা যখন রাষ্ট্র ও সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়ে, তখন এই বিক্ষুব্ধতার কারণটি বুঝতে রকেট সায়েন্টিস্ট হতে হয় না। সংবেদনশীল মানুষমাত্রই এই অশনিসংকেত থেকে মুক্তি চায়।
দেশজুড়ে ক্রমাগত ঘটতে থাকা এই ঘটনাবলিকে একটু আলাদাভাবে দেখার প্রয়োজন আছে। কেন বিগত কয়েক বছরে ধর্ষণ এভাবে মহামারির আকার ধারণ করেছে? আগে কি এমন ছিল না? হঠাৎ করে ধর্ষণ বা নিপীড়নের উত্থান হয়নি, বরং দীর্ঘদিনের নারীবিদ্বেষ, স্লাটশেমিং, নারীকে উদ্দেশ্য করে রসালো কনটেন্ট তৈরির পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা যখন সংস্কৃতিতে রূপান্তরিত নিয়েছে, তখন এর সর্বোচ্চ প্রায়োগিক রূপান্তর ঘটেছে ধর্ষণের মাধ্যমে। যখন একজন নারীকে মানুষ নয়, বস্তু বা অবজেক্ট হিসেবে কেবল বিনোদন কনটেন্ট হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তখন সমাজও ধীরে ধীরে তাকে সেভাবেই দেখতে শেখে। এই অসুস্থ সংস্কৃতি বন্ধ না হলে ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য মহামারি নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই সম্ভব না।
২০১৮ সালের শুরুর দিকে, ইউনিসেফ তাদের ফেসবুক পেইজে বাল্যবিবাহ রোধে এক কন্যাশিশুর ছবি পোস্ট করে। পোস্টের কমেন্ট সেকশন দেখেই বুঝতে পারা যায়, ধীরে ধীরে মানুষের নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাচ্ছে। আরও একটি ঘটনা মনে পড়ে। কয়েক বছর আগে, হঠাৎ করেই ঢাকা শহরে এক নতুন আতঙ্কের আবির্ভাব ঘটল। পাবলিক বাস কিংবা রাস্তায় চলার সময় সবার আগোচরে কে বা কারা ব্লেড দিয়ে মেয়েদের জামা কেটে দিচ্ছে। শিক্ষিত মেয়েরা এই আক্রমণের শিকার হতো বেশি। ধীরে ধীরে তাদের পাবলিক পরিবহনে যাতায়াত কমে গেল। এ ছাড়া কর্মজীবী নারীদের নিয়ে রিয়েল ও ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে হয়রানি ও নিপীড়নমূলক কথাবার্তা ছড়াছড়ি। মেয়েদের পোশাক নিয়ে কটূক্তির শেষ নেই। সমাজমাধ্যমে এই গোষ্ঠীর সমর্থক ও বট আইডির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ফুলের মতো স্নিগ্ধ নিহত রামিসার ছবির কমেন্ট সেকশনেও একই প্রবণতা। একটি গোষ্ঠী ধর্ষককে রক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ধর্মকে ব্যবহার করে তার আড়ালে প্রতিনিয়ত অন্যায় করে চলেছে তারা। একজন লিখেছে, ‘এই মেয়ে ক্লাস টু তে পড়তো? মিয়া বানোয়াট কাহিনি মনে হচ্ছে।’ আরেকজন লিখেছে ‘এত সাজসচ্চা (সাজসজ্জা) ভালো না!’ ভাবুন, একটি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে, কিন্তু তার মৃত্যুসংবাদে গণমাধ্যমের তৈরিকৃত ফটোকার্ডের নিচে এ ধরণের মন্তব্য।
এ রকম সম্ভাব্য ধর্ষক ও ধর্ষকামীরা সর্বত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের এসব করার সাহস প্রদান করছে বিচারহীনতা ও বিচারের দীর্ঘসূত্রির সংস্কৃতি এবং একই সাথে অতি দক্ষিণপন্থীদের ধর্ষকামী বয়ান। বাল্যবিবাহকে সমর্থন করে নানান অশালীন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য চিনিয়ে দিচ্ছে নিপীড়কদের চরিত্র। এদের সবার চিন্তা একই প্যাটার্ন বা প্রকরণ মেনে চলে। ছেলেশিশু ধর্ষণের শিকার হলে সেটাকে ‘শয়তানের প্ররোচনায় করে ফেলেছে’ বলে।
সম্প্রতি ঢাকার রামপুরায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করা হয়। একই সঙ্গে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশের উপকমিশনার হারুন অর রশিদের বয়ান থেকে জানা যায়, লাশের পায়ুপথে অস্বাভাবিক যৌনাচারের লক্ষণ দেখা গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলেছে, মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী ধর্ষক শিহাব হোসেনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে মাদ্রাসার চারজন ছাত্রের ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ, ঘটনা জানাজানি না হলে শিহাবের অপকর্ম চলতেই থাকত এবং তা ধামাচাপা দিয়ে রাখা হতো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ইভটিজিং করার পর যখন ফুলের মালা পরিয়ে উত্যক্তকারীকে থানা থেকে বের করে আনা হয়, তখন সম্ভাব্য ইভটিজাররা কেন সাহস পাবে না? গত ১২ মে রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক ছাত্রী ধর্ষণচেষ্টা শিকার হলেও এখনও অভিযুক্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে। এর প্রতিবাদে আন্দোলন চলাকালীন আরো তিন-চারটি ইভটিজিংয়ের ঘটনা ঘটেছে সেখানে। কেন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না?
দিনাজপুরের ৮ বছর বয়সী পূজার ধর্ষক যখন জামিনে ছাড়া পায়, তখন কেন ধর্ষণের পরিমাণ বাড়বে না? রাজধানীর গুলশানে মুনিয়ার ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ব্যাপক আলোচিত। অভিযুক্ত আনভীরের প্রতিপত্তি-শক্তির কারণে মেয়েটি বিচার পায়নি। অথচ, সব রেজিমে, সব আমলে আনভীররা টিকে যায়। কেন? কিংবা তনু হত্যাকাণ্ড, এক যুগ পরেও বিচার হয়নি। কার শক্তিতে? চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ৭ বছর বয়সী ইরাকে ধর্ষণ করা হয়, পরে সে মারা যায়। বান্দরবানের জঙ্গলে তিন সন্তানের জননী খিয়াং নারী চিংমা খিয়াংকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন বলছে, ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত ও ৯০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ হতে হবে। হয়েছে?
যে ভূমিতে একটি ফুলকে বাঁচানোর জন্য যুদ্ধ হয়, যেখানে একটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরেছেন এই ভূমির সূর্য-সন্তানেরা, সেই ভূখণ্ডের আজ এ কী হাল! মানুষগুলোর কী হল? আউল-বাউলের দেশে মানুষের ভেতরের মানুষটি আজ কোথায় হারিয়ে গেল? চারিদিকে এত হিংসা, অপরাধ প্রবণতা, অস্থিরতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে কেন? কেন স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশে ক্রমাগত ধর্ষণ, নিপীড়ন ও হত্যাকাণ্ড ঘটেই চলেছে? বিচারের বাণী এখানে আক্ষরিক অর্থেই নিভৃতে কাঁদছে। সন্তানের জন্য, বিশেষত কন্যাসন্তানের জন্য কেন পিতামাতাদের সর্বক্ষণ উৎকন্ঠা নিয়ে দিন পার করতে হচ্ছে? কে দেবে এসব প্রশ্নের উত্তর? রাষ্ট্র? সরকার? সমাজ? সর্বশক্তিমান?
উত্তর জানা না থাকলে শুধু এটুকু বলুন, আছিয়া ও রামিসার পর তাহলে কে, আমি বা আমার পরের প্রজন্মের কন্যারা? বিচার করতে না পারেন, এটুকু শুধু বলুন। আমরা যেন একটু প্রস্তুতির সময় পাই!

আজ ২২ মে, আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস। পৃথিবীর কোটি কোটি প্রজাতির উদ্ভিদ, প্রাণী আর অণুজীবের যে মেলবন্ধন এই পৃথিবীকে সচল রেখেছে, তাকে উদযাপনের এবং তা রক্ষায় আত্মদর্শনের দিন আজ। এবারের দিবসে জাতিসংঘের ঘোষিত প্রতিপাদ্য হলো—‘বৈশ্বিক প্রভাব সৃষ্টিতে স্থানীয় স্তরে পদক্ষেপ’।
৯ ঘণ্টা আগে
একটি আধুনিক রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখতে এখন শুধু নির্বাচিত সরকার বা আমলাতন্ত্রই যথেষ্ট নয়। এর জন্য দরকার দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা, গভীর নীতি-বিশ্লেষণ এবং ঝুঁকি-ব্যবস্থাপনায় দক্ষ একটি সংগঠিত ‘রাষ্ট্রীয় মস্তিষ্ক’। এই মস্তিষ্কের একটি দৃশ্যমান অংশ হলো উন্মুক্ত ও গবেষণাধর্মী রাষ্ট্রীয় থিংক ট্যাঙ্ক।
১ দিন আগে
প্রচারণা মতে, গত ১০ মে ছিল বিশ্ব মা দিবস। আর এ দিবসকে ঘিরে বাংলাদেশের গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, এমনকি বাস্তব নাগরিক দেখাসাক্ষাতেও নানামাত্রিক আবেগের প্রকাশ যথেষ্টই দেখা গেছে। তা দেখা যাবেই-বা না কেন!
১ দিন আগে
সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘পদ্মা ব্যারেজ মেগা প্রকল্প’ অনুমোদন পেয়েছে। এটি বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের মানুষ আর কৃষকেরা এমন একটা প্রকল্পের আশায় বুক বেঁধে বসেছিলেন।
১ দিন আগে