জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি মামুন ৫ দিনের রিমান্ডে

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) পুলিশের আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ এ আদেশ দেন।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম স্ট্রিমকে জানান, মিরপুরের একটি হত্যা মামলায় শেখ মামুন খালেদের জড়িত থাকার বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) এসআই কফিল উদ্দিন আদালতে হাজির করে শেখ মামুন খালেদের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বেলা ৩টা ২০ মিনিটে দেলোয়ার হোসেন (৪০) জুলাই ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টিতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় এজাহারভুক্ত আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৫০০ থেকে ৭০০ জন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসীরা মামুন খালেদের নির্দেশে নির্বিচার গুলি চালায়। এতে দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই দেলোয়ার মারা যান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা করে। এ মামলার ঘটনার সঙ্গে মামুন খালেদের জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনসহ সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামুন খালেদকে নিবিড়ভাবে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড দরকার।

বুধবার (২৫ মার্চ) গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের বাসা থেকে শেখ মামুন খালেদকে আটক করে ডিবি। পরে রাজধানীর মিরপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় ডিবি।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স শাখার সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফা আখতার প্রীতির সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রিমান্ডে শেখ মামুনের কাছ থেকে ওই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা এবং এ ঘটনার নেপথ্যে আরও কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা করা হবে।

শেখ মামুন খালেদ ২০০৭-০৮ সালের সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের শেষ দিকে ডিজিএফআইয়ের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (সিআইবি) পরিচালক ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরও তিনি একই পদে ছিলেন। এরপর ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হন এবং ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক ছিলেন।

গত বছরের মে মাসে শেখ মামুন খালেদ ও তাঁর স্ত্রী নিগার সুলতানার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। ওই সময় দুদক তাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে শেয়ার ব্যবসা, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের কথা জানিয়েছিল।

সম্পর্কিত