কেরানীগঞ্জে গ্যাস লাইটার কারখানায় আগুন, নিহত ৫

কারখানার মালিক কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকার বাসিন্দা আকরাম মিয়া। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তিনি পলাতক। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বছর দুয়েক আগে কারখানাটিতে একবার আগুন লেগেছিল।

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৮: ৪১
ফায়ার সার্ভিসের সাত ইউনিট ঘণ্টাখানেকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি গ্যাস লাইটার তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় আকরাম গ্যাস লাইটার কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, দুপুর ১টা ১১ মিনিটে কারখানায় আগুন লাগার খবর পায় নিয়ন্ত্রণকক্ষ। ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট দুপুর আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ভেতর থেকে একে একে পাঁচটি মরদেহ বের করে আনে কর্মীরা।

উদ্ধার মরদেহগুলো এতটাই পুড়ে গেছে যে, তাঁরা নারী নাকি পুরুষ, তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ভেতরে আরও কেউ আটকে আছেন কিনা জানতে ফায়ার সার্ভিস তল্লাশি চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।

কারখানাটির মালিক কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকার বাসিন্দা আকরাম মিয়া। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তিনি পলাতক। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বছর দুয়েক আগে টিনশেড ও দেয়ালে ঘেরা কারখানাটিতে একবার আগুন লেগেছিল। এরপর প্রশাসন এটি বন্ধ করে দেয়। কিন্তু মাসখানেক পর তারা আবার কারখানা চালু করে। কারখানার ভেতরে আটটি গুদামে গ্যাস লাইট তৈরির কাঁচামাল রাখা ছিল বলে জানা গেছে।

আগুন লাগার খবরে সেখানে অনেকে ভিড় করছেন। স্থানীয়রা বলছেন, কারখানাটিতে ৩৫-৪০ জন কাজ করতেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের পর ঠিক কতজন নিখোঁজ, তা এখনো কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের কদমতলী ডিপজল গলি সড়ক এলাকার কারখানার সামনে আহাজারী করছিলেন কুলসুম বেগম। তিনি জানান, ছেলে নাঈম ইসলামের (১৮) কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না তিনি।

কুলসুম বেগম বলেন, তিন মাস আগে ছেলে এ কারখানায় কাজে ঢোকে। সকাল ৮টার দিকে কাজের জন্য বাসা থেকে বের হয়। আগুন লাগার পর থেকে খোঁজ পাচ্ছি না। আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই।

মেয়ে মনিরা খাতুনের সন্ধান না পেয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন কাওসার সরদার। জ্ঞান ফিরলে তিনি বলেন, বছরখানেক হলো কারখানায় মেয়ে কাজ করছে। লোকমুখে আগুন লাগার কথা জানতে পেরে ছুটে এসেছি। কিন্তু মনিরার কোনো খোঁজ পাচ্ছি না।

ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, নিখোঁজ শ্রমিকদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার পাঁচ লাশ ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত