সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৮, বন্ধ কারখানা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সাভার (ঢাকা)

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ০০
সিলিন্ডারবাহী লরি বিস্ফোরণের পর পিকআপে লাশ স্তূপ করে হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
সিলিন্ডারবাহী লরি বিস্ফোরণের পর পিকআপে লাশ স্তূপ করে হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়ায় তৈরি পোশাক কারখানা চত্বরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে এক যুবকের মৃত্যু হয়।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জামগড়ার এস সুহি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ‘প্রীতি কম্পোজিট টেক্সটাইল’ নামে কারখানার চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারের লরিতে বিস্ফোরণ এবং পরে আগুন ধরে যায়। এই ঘটনায় দগ্ধ অন্তত ২৪ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালের সিনিয়র ম্যানেজার (অপারেশন) হারুন অর রশীদ জানান, দগ্ধ ২৫ জনকে তাদের হাসপাতালে আনা হয়। পরে আশঙ্কাজনক তিনজনকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। তারা হলেন– সুজন মিয়া (৩৫), নজরুল ইসলাম (৩৫) ও নূর ইসলাম (৪০)।

চিকিৎসাধীন তিনজনের মধ্যে রোববার রাতেই একজনের মৃত্যু হয়। আর সোমবার সকালে আরেকজন মারা গেলেন। তবে মৃতদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. সেলিম। তিনি জানান, গুরুতর তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে দুজন মারা গেছেন। তবে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক মেডিকেল অফিসার হারুনুর রশিদ জানান, আশুলিয়া থেকে পাঠানো রোগীদের মধ্যে ৯৫ শতাংশ বার্ন নিয়ে বর্তমানে তাদের হাসপাতালে নূর ইসলাম চিকিৎসাধীন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিস্ফোরণের পর একটি সিলিন্ডার কারখানাটির পার্শ্ববর্তী দর্জি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা জয়নব বেগমের (৫৫) ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর লরির ভেতরে একটি, নিচে তিন ও পাশ থেকে আরেকটি লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি বিস্ফোরণের কারণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে কাজ করছে বিভিন্ন সংস্থা।

চার কারখানা বন্ধ, থমথমে জামগড়

সিলিন্ডারবাহী লরি বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় চারটি পোশাক কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে। এস সুহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ফটকে হাতে লেখা নোটিশে প্রীতি কম্পোজিট টেক্সটাইল, প্রীতি কম্পোজিট গার্মেন্টস, অক্সফোর্ড কালারস ও এস সুহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেড বন্ধ থাকার কথা জানানো হয়।

সোমবার সকালে কাজে এসে অনেকে ফিরে যান। দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ফায়ার সার্ভিস। বিস্ফোরণে আশপাশের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, এলাকায় সরকারি গ্যাসের লাইন থাকার পরও বিপুল পরিমাণ গ্যাস সিলিন্ডার আনা হয়।

এস সুহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের পার্শ্ববর্তী একটি ভবনের মালিক ফারজানা সুলতানা বলেন, ‘বাড়ির দোতলায় থাকি আমরা। এখানে নিয়মিত এ রকম গাড়ি আসে। গ্যাস লোড-আনলোড করা হয়। রোববার বিস্ফোরণে আমাদের থাই গ্লাস ভেঙে ও ছাদ নষ্ট হয়ে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা উচিত।’

জামাল মোস্তফা নামে আরেক বাড়ির মালিক বলেন, ‘মোটা পাইপ দিয়ে সরকারি গ্যাসের লাইন আছে। তারপরও বিপুল পরিমাণ সিলিন্ডার গ্যাস তারা নিয়ে আসে। বিস্ফোরণে অনেক অনেক দূরে গেছে সিলিন্ডার। আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমাদের ভবনের ক্ষতি হয়েছে।’

শ্রমিকদের আতঙ্ক কাটেনি। নাম প্রকাশ না করে প্রীতি গ্রুপের একটি কারখানার শ্রমিক বলেন, কীভাবে আগুন লাগল জানি না। আমরা ছুটির পর কাজ শেষে বেরিয়ে গিয়েছিলাম। পরে দুর্ঘটনার খবর শুনতে পাই। আজকে (সোমবার) সকালে এসে দেখি কারখানা বন্ধ। কাল (মঙ্গলবার) খুলবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পর কারখানায় আগুন ধরে যায়। মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে আগুনের শিখা, যা দেখা যায় কয়েক কিলোমিটার দূরে থেকেও। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কারখানা ছুটি থাকায় কোনো পোশাকশ্রমিক হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। আহতদের অধিকাংশ পথচারী ও আশপাশের বাসিন্দা।

বন্ধ কারখানার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, দুর্ঘটনার কারণে কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে কারখানা খোলা হবে। নিহত কেউই কোনো পোশাক কারখানার শ্রমিক নন বলে আমরা জানতে পেরেছি। নিহতদের অধিকাংশ গ্যাস সরবরাহের শ্রমিক।

বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের ঘটনায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা। আশুলিয়ার কাঠগড়া থেকে আসা জামিলা আক্তার বলেন, আগুনের খবর শুনে দেখতে আসছি। সব পুড়ে গেছে।

জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘সকালে আবার আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। পুরো এলাকা পরিদর্শন করেছি। রোববার লরির ভেতরে একটি, নিচে তিনটি ও পাশ থেকে আরেকটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। এরমধ্যে একটি লাশ বিকৃত হয়ে গেছে।’

আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সংস্থা কাজ করছে। নিহতের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত