এক চিঠিতে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি এমপির স্ত্রী

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সাভার (ঢাকা)

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১১: ৩০
ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু ও তাঁর স্ত্রী সাবিনা সিদ্দিকা। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার অদূরে সাভারের মোফাজ্জল মোমেনা চাকলাদার মহিলা কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে আকস্মিকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর পদে বসানো হয়েছে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর স্ত্রী সাবিনা সিদ্দিকাকে। অথচ সভাপতির মেয়াদ ছিল আরও আট মাস।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের সই করা এক চিঠিতে গত ২৩ জুলাই সভাপতি পদে এই পরিবর্তনের বিষয়টি জানানো হয়। তবে চিঠি পাওয়ার আগে কলেজের অধ্যক্ষ বা পরিচালনা কমিটির কেউই এ বিষয়ে জানতে না বলে জানা গেছে।

কলেজ থেকে জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল দুই বছরের জন্য কলেজটির পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পান। সেই হিসাবে তাঁর পদের মেয়াদ ছিল ২০২৭ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান বলেন, কমিটির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। অথচ কোনো ধরনের পূর্বাভাস, আলোচনা বা কারণ জানানো ছাড়াই হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাউকে কিছু জানানো হয়নি। হঠাৎ করেই চিঠি এল। সেখানে দেখলাম এমপি সাহেবের স্ত্রীকে সভাপতি করা হয়েছে। যদি অন্য কোনো ব্যক্তি হতেন, তাহলে হয়তো এ প্রশ্ন উঠত না। কিন্তু একজন সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।’

তাঁর ভাষ্য, ‘নিয়মে পরিবর্তনের সুযোগ থাকতেই পারে। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই একজন সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে ওই পদে বসানো হয়েছে। আমার কাছে এটি স্বজনপ্রীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার বলেই মনে হয়।’

এ বিষয়ে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে তার স্ত্রী ও নতুন সভাপতি সাবিনা সিদ্দিকা রিতা বলেন, কলেজটিতে নারী নেতৃত্বের প্রয়োজন ছিল। সে কারণেই তিনি আবেদন করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘যতটুকু জানি, কলেজের পক্ষ থেকেই নারী সভাপতি চাওয়া হয়েছিল। আমি আবেদন করেছি। আমার মাস্টার্স ডিগ্রি রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতাও বিবেচনা করা হয়েছে। যোগ্যতা না থাকলে হয়তো আমাকে বিবেচনা করা হতো না।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্য দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। এজন্য রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে ওই পদে বসানো হয়েছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত