ইরান যাচ্ছেন স্পিকার, অংশ নেবেন খামেনির শেষকৃত্যে

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ১৮: ৩৩
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ইরান সরকারের আমন্ত্রণে তিনি আগামী বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) তেহরানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান স্ট্রিমকে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য ও জানাজা ৪ থেকে ৯ জুলাই তেহরান, কোম ও মাশহাদ শহরে হবে। ওই জানাজায় বাংলাদেশ সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অংশ নেবেন।

স্পিকার ছাড়াও সংসদের কয়েক সদস্য নিজ উদ্যোগে জানাজায় অংশ নিতে ইরানে যেতে পারেন বলে জানান শায়রুল কবির।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যের আয়োজন ৪ জুলাই তেহরানে শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান সরকার। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৯ জুলাই জন্মস্থান মাশহাদে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি।

গত মার্চে এই শেষকৃত্য আয়োজনের পরিকল্পনা হলেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলতে থাকায় তা স্থগিত করা হয়। তিন দিনের শেষকৃত্যের আয়োজন হবে তেহরানে এবং কোম নগরীতে শেষকৃত্যের আয়োজন শুরু হবে ৭ জুলাই।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শাসক গোষ্ঠীর পতন ঘটানোর ঘোষণা দিয়ে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে বিমান হামলা শুরু করে। হামলার প্রথম দিনই নিজ বাসভবনে নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী আলি খামেনি।

প্রায় চার দশক ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সর্বময় কর্তৃত্বের কেন্দ্র হিসেবে ছিলেন আলি খামেনি। তিনি ছিলেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা।

ইরানি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালের শেষ দিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আলি খামেনি। ১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবে রেজা শাহ পাহলভির পতনের পেছনে আদর্শিক নেতা ছিলেন রুহুল্লাহ খোমেনি। আর ওই বিপ্লবে সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনীকে সংগঠিত করার পেছনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন আলি খামেনি।

১৯৮১ সাল থেকে দুই মেয়াদে ইরান প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের মধ্যে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব আসেন আলি খামেনি এবং হয়ে ওঠেন ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের মুখ। যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আলি খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মুজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে ইরান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কম্পাউন্ডে ওই হামলায় তিনিও আহত হয়েছিলেন।

আহত হলেও জুনের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনায় মুজতবা খামেনি আগের তুলনায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত