খালের বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ধানখেত, ঘরে তোলার আগমুহূর্তে বিপাকে কৃষক

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
টঙ্গী (গাজীপুর)

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ২০: ২৬
কালিয়াকৈরে বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটছেন কৃষকেরা। স্ট্রিম ছবি

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তুরাগ নদের শাখা খালের বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গতকাল রোববার (১৯ এপ্রিল) বোয়ালী এলাকায় খাল ও বিলের মধ্যবর্তী স্থানে বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে পানিতে তলিয়ে গেছে কয়েক শত বিঘা ধানখেত। ফসল ঘরে তোলার আগমুহূর্তে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

উপজেলার বোয়ালী এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তুরাগ নদের খালটি মিলিত হয়েছে চাপাইর ইউনিয়নের চানপাত্তা বিল, মৌচাক ইউনিয়নের মকস বিল ও কালিয়াদহ বিলের সাথে। এসব এলাকায় বাসিন্দারা মূলত বিলেই সারা বছরে ফসল উৎপাদন করে। রোববার বাঁধ ভেঙে একে একে প্লাবিত হয়েছে সব এলাকা।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বোয়ালী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খালের বাঁধ ভেঙে আশপাশের বিলজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে পানি। আধাপাকা ধান ডুবে যাওয়ায় কৃষকেরা বাধ্য হয়ে পানির মধ্যেই নেমে কাঁচা ধান কাটছেন। অনেক জমির ধান ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ ডুবে গেছে, ফলে সেসব জমি থেকে ফসল তোলার সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দিন পরই ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাঁরা। কিন্তু হঠাৎ বাঁধ ভাঙা পানিতে মুহূর্তেই ডুবে যায় পুরো বিল এলাকা। এতে মৌসুমের শেষ সময়ে এসে বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তাঁরা।

বোয়ালী এলাকার কৃষক আব্দুল বারিক বলেন, অনেক কষ্ট করে ধান ফলিয়েছিলাম। আর কয়েক দিন পর কাটার কথা ছিল। এখন পানির মধ্যে নেমে কাঁচা ধান কাটতে হচ্ছে। এতে কতটা ঘরে তুলতে পারব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

একই এলাকার আরেক কৃষক আওলাদ মিয়া জানান, তাঁদের এই বিলে উৎপাদিত ধানই সারা বছরের প্রধান খাদ্যের জোগান দেয়। কিন্তু এবার সেই ধানই পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরা বাঁধ দিয়েছিলাম, কিন্তু পানির চাপ সামলাতে পারেনি। সব ডুবে গেল।’

এদিকে উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের চানপাত্তা বিল, মৌচাক ইউনিয়নের মকস বিল এবং কালিয়াদহ বিলেও ধানখেত পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এসব এলাকার কৃষকেরা জানান, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার মণ ধান নষ্ট হতে পারে।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সম্পর্কে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় স্থানে দ্রুত বাঁধ নির্মাণসহ ফসল রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোথাও সমস্যা দেখা দিলে প্রশাসনকে জানাতে কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সম্পর্কিত