জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

পাঁচ দিনের রিমান্ডে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৬, ২১: ৪৯
সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

সিন্ডিকেট করে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগে পল্টন মডেল থানায় করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

এদিন গ্রেপ্তার হওয়া আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী মোর্শেদ হোসেন শাহীন জামিনের আবেদন করেন। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে সাবেক এই এমপির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিন্ডিকেট করে অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় মামলাটি করেন ‘আফিয়া ওভারসিজ’-এর স্বত্বাধিকারী আলতাব খান। মামলায় সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, সাবেক সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, সাবেক সংসদ সদস্য ও ‘এম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (অব.), আহমেদ ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী ও সাবেক এমপি বেনজীর আহমেদ এবং ‘ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের’ স্বত্বাধিকারী মো. রুহুল আমীন স্বপনসহ ১০৩ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, জনশক্তি রপ্তানিতে দুই হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্ট থাকলেও আসামিরা একটি মাফিয়া সিন্ডিকেট চক্র তৈরি করেন। এই চক্রটি ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে সংবিধানের মূলনীতি পরিপন্থী জঘন্য অপরাধ করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় নিজ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সিন্ডিকেট চক্রে তাঁর ছেলেকে সদস্য হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

আর সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ তাঁর পরিবারের সদস্য অর্থাৎ স্ত্রীর বড় ভাইয়ের ছেলেকে বিধিবহির্ভূতভাবে ‘প্রবাসী’ নামক একটি অ্যাপ চালুর অনুমোদন দিয়ে এই চক্রকে সহযোগিতা করেছেন। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে মামলার বাদীর সরলতার সুযোগে ভয়ভীতি ও বলপ্রয়োগ করে মানবপাচারের উদ্দেশ্যে তাঁর কাছ থেকে জোর করে অতিরিক্ত চাঁদা হিসেবে ৮৪১ জনের বিপরীতে ১২ কোটি ৫৬ লাখ ১ হাজার টাকা আদায় করেছেন (জনপ্রতি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হারে)। এ ছাড়া তাঁরা সংঘবদ্ধভাবে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে তা আত্মসাৎ করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্পর্কিত