জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

নিখোঁজের ১ দিন পর মিলল শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ঝিনাইদহ

কালীগঞ্জে নিহত শিশু তাবাসসুম খাতুন। সংগৃহীত ছবি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর শিশু তাবাসসুম খাতুনের (৪) বস্তাবন্দি মরদেহ পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উন্মুক্ত সেপটিক ট্যাংকে মরদেহটি বস্তাবন্দি অবস্থায় দেখেন স্থানীয় এক কৃষক। পরে খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ।

এর আগে বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে তাবাসসুম নিখোঁজ ছিল। এ ঘটনায় আজ দুপুর পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন।

তাবাসসুম জেলার মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে। বর্তমানে তার পরিবার কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজার এলাকার বাদেডিহি গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নজরুল স্থানীয় একটি টেইলারের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। শিশুর মা হালিমা খাতুন বাড়ির পাশের একটি বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান (এনজিও) ওয়েব ফাউন্ডেশনে কর্মরত। বাবা-মায়ের অবর্তমানে শিশুটি তার কিশোরী বড় বোনের কাছে থাকত।

তাবাসসুমের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, গতকাল দুপুরে তাকে গোসলের জন্য খুঁজে পায়নি তার বড় বোন। বিষয়টি তার বাবা-মাকে জানালে বাড়ি ফিরে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি তাঁরা।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাদুরগাছা গ্রামের জলিল রহমান নামে এক কৃষক আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছনের মাঠে যাওয়ার সময় উন্মুক্ত অগভীর সেপটিক ট্যাংকে একটি রক্তাক্ত বস্তা দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে এলাকার অন্যদের জানান তিনি। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বস্তা খুলে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠান তারা।

শিশুর বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, এলাকায় কারও সঙ্গে তাদের বিরোধ নেই। বড় মেয়ের দেওয়া খবরে বাসায় ফিরে গতকাল তিনিও তাবাসুমকে খুঁজেছেন। আজ সকালে গ্রামে মরদেহ উদ্ধারের খবরে গিয়ে দেখেন তাঁর মেয়ের লাশ। কোথায় থেকে কী হয়ে তিনি জানাতে পারেননি।

কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে হত্যা করে বস্তায় ভরে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।’

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত