জাবিতে ঐতিহ্য উৎসবে ঢাকা স্ট্রিম সম্পাদক

ব্যবসা ও বাজারে দেশীয় মৌলিকত্ব টিকিয়ে রাখতে হবে

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ৪৫
জাবিতে ঐতিহ্য উৎসবে কস্টিউম প্লেতে অংশ নেন ঢাকা স্ট্রিম সম্পাদক গোলাম ইফতেখার মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত
জাবিতে ঐতিহ্য উৎসবে কস্টিউম প্লেতে অংশ নেন ঢাকা স্ট্রিম সম্পাদক গোলাম ইফতেখার মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

ব্যবসায়িক উদ্যোগ ও বাজারের মধ্য দিয়ে দেশীয় ঐতিহ্যের মৌলিক বিষয়গুলো টিকিয়ে রাখা দরকার। তা না হলে বাংলাদেশের নিজস্ব ঐতিহ্যগুলো একসময় হারিয়ে যাবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আয়োজিত এক ঐতিহ্য উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন ঢাকা স্ট্রিমের সম্পাদক গোলাম ইফতেখার মাহমুদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ‘চেরিশিং আওয়ার হেরিটেজ’ শীর্ষক এই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ইফতেখার মাহমুদ বলেন, ‘ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে না পারলে একসময় আমাদের জিনিস অন্যরা তাদের হিসেবে দাবি করবে এবং নিজেদের মতো করে উপস্থাপন করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সারা বিশ্বে প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে ধারণা হলো—মাটি খুঁড়ে পুরনো সভ্যতা ও অবকাঠামো তুলে ধরাই এর কাজ। একটা বিতর্কও চলে আসছে—আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে আর্কিওলজির ভূমিকাটা আসলে কি? এটা আমার নিজের কাছেও পরিষ্কার ছিল না।’

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সম্পাদক বলেন, ‘পুরান ঢাকায় ঐতিহ্য বলতে, বিশেষ করে ফুড হেরিটেজের ক্ষেত্রে এখন যেটা সামনে আসছে, তা হলো এক ধরনের ভয়াবহ হাইব্রিড ফিউশন। যেমন ওয়ারিতে গেলে দেখি খুব জনপ্রিয় হচ্ছে পরীদের চা। তারপর মরিচ দিয়ে, হলুদ দিয়ে চা বানাচ্ছে। পোশাকেও আমরা বিভিন্ন ধরনের ফিউশন ও হাইব্রিড লুক দেখছি। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের অথেন্টিক হেরিটেজটা যদি শুধু জাদুঘরে বেঁচে থাকে, তাহলে এই হাইব্রিড লুকের কারণে একসময় আমাদের মৌলিকত্ব হারিয়ে যাবে।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘সারা বিশ্বে এখন ঐতিহ্য ও খাবার রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে। সাম্প্রতিক ব্রিকস সম্মেলনে খাবারের মেনু নিয়ে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে প্রচুর আলোচনা হয়েছে যে, ওই খাবার ভারতীয় হেরিটেজ ফুড কিনা। ফলে দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পোশাকের সঠিক তালিকা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।’

বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে ইফতেখার মাহমুদ বলেন, ‘আজ থেকে সাত-আট বছর আগে ৩৫৬টি ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টির (আইপি) তালিকা হয়েছিল। সেখান থেকে আমাদের প্যাটেন্ট অধিদপ্তর কিছু কাজ করার চেষ্টা করেছিল। আবার ইউনেস্কো অন্য একটি মডেলে কাজ করেছিল। এই সত্যায়ন প্রক্রিয়াগুলো (অ্যাক্রেডিটেশন প্রসেস) বিক্ষিপ্ত না রেখে যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগের শিক্ষার্থীদের থিসিস ও গবেষণার মাধ্যমে একটি সঠিক তালিকা করা হয়, তাহলে সেখান থেকে সরকারি দপ্তর, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বেসরকারি উদ্যোগ রেফারেন্স নিতে পারে। এ ধরনের কাজের একটি বড় একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব এবং বাজারমূল্য রয়েছে।’

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইউনেস্কোর আবাসিক প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ, বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল (মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিভাগ) সাবভীনা মনির চিঠি, প্রথম আলোর ‘হাল ফ্যাশন’-এর কনসালট্যান্ট এসকে সাইফুর রহমান এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক।

অনুষ্ঠানে হেরিটেজ টক ও কস্টিউম প্লে (কসপ্লে) ছাড়াও ঐতিহ্যবাহী খাবার নিয়ে ‘হেরিটেজ কালিনারি আর্ট’ ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে ‘হেরিটেজ অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ’ আয়োজিত হয়।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত