হুথি হামলা/সৌদি তেলের রপ্তানি মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, বিশ্বে ৪% ঘাটতির শঙ্কা
স্ট্রিম ডেস্ক

সৌদি আরবে হুতি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেল সরবরাহ লাইন দ্রুত চালু করা সম্ভব না হলে দেশটির রপ্তানিযোগ্য তেলের মজুত ৫-৭ দিনের মধ্যে ফুরিয়ে যাবে। এতে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে ৪ শতাংশ ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন সৌদি তেলের আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।
গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনটি বন্ধ হওয়ার পর, সৌদি আরবের অবকাঠামোতে নতুন হামলা এবং পারস্য উপসাগরে জাহাজে ইরানি হামলার কারণে সরবরাহ সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। চলমান পরিস্থিতিতে সোমবার জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৩% বৃদ্ধি পেয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সৌদি আরব থেকে জ্বালানি সরবরাহ আরও কমলে তা বিশ্ববাজারে জ্বালানি ঘাটতিকে তীব্র করে তুলবে। এই ঘাটতির কারণেই ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড ছুঁয়েছে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বহুগুণ বেড়েছে। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পর মার্কিন বন্ডের মুনাফার হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরিস্থিতির কারণে পারস্য উপসাগরের 'হরমুজ প্রণালী' কার্যত বন্ধ। এই অবস্থায় সৌদি আরব তাদের দৈনিক প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে নিয়ে রপ্তানি করছিল।
গত ১০ সেপ্টেম্বর সকালে রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ইরাক থেকে একাধিক ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলায় পাইপলাইনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন কর্মী আহত হন। স্যাটেলাইট চিত্রে মদিনার দক্ষিণ-পূর্বে পাইপলাইন অবকাঠামোতে আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।
১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেয়।
দেশটির কারিগরি দল বর্তমানে পাইপলাইনটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
পাইপলাইনটি ঠিক কবে নাগাদ চালু হবে সে বিষয়ে সৌদি সরকার বা রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সময়সূচি দেয়নি। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের সূত্রে রয়টার্স জানিয়েছে, সম্পূর্ণ মেরামত করতে ৫ থেকে ৬ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। যদিও অন্য কিছু সূত্রের মতে, আংশিক পাম্পিং হয়তো আরও দ্রুত শুরু হতে পারে।
রয়টার্সকে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, লোহিত সাগরের আইন সুখনা এবং ভূমধ্যসাগরের সিদি কেরির- মিশরের এই দুই বন্দর ব্যবহার করে আরও কয়েকদিন জ্বালানি রপ্তানি করার মতো পর্যাপ্ত মজুত সৌদি আরবের কাছে আছে।
.png)

-7c29dd-256x144.webp)




