ইউপি ভোটের তারিখ/সরকারের অবস্থানে পিছু হটল ইসি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ৫২
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন

সরকারের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের ধাপ ও তারিখ ঘোষণার অভিযোগ ওঠার পর অবস্থান পাল্টেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন থেকে জানানো হয়েছে, সাত ধাপে ইউপি নির্বাচনের ঘোষিত তারিখ চূড়ান্ত নয়, ইসির প্রাথমিক সিদ্ধান্ত। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর তারিখ চূড়ান্ত হবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আলোচনা না করার অভিযোগ তোলেন। এরপর নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসউদ ও ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্ট্রিমকে এসব কথা বলেন।

এর আগে সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে দুই দিনের বৈঠক শেষে ইউপি নির্বাচনের ধাপ ও সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি জানান, প্রথম ধাপের নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল ও সপ্তম ধাপের তারিখ ২৭ মে।

এ বিষয়ে সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের কাছে জানতে চাইলে বলেন, ‘আপনাদের মতো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও পত্রিকায়, সামাজিক মাধ্যমে ও টেলিভিশনগুলোতে দেখেছে, নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ধাপ ও তারিখ ঘোষণা করেছে। তবে আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাতে চাই, এ ব্যাপারে সরকার কিছু জানে না। সরকারের সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে চিঠি কিংবা অন্য কোনোভাবে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা আলোচনা হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন। তাদের নির্বাচন করার সাংবিধানিক ক্ষমতা আছে। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর আরও কিছু প্রস্তুতিমূলক সভা করেই ভোটের তারিখ ঘোষণা করে ইসি।

প্রতিমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসউদের কাছে জানতে চাওয়া হলে স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমরা তো বলেছি, যে তারিখ বলা হচ্ছে তা প্রাথমিক। আগামী ১৭ তারিখ যে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা রয়েছে সেখানে এই তারিখ নিয়ে আলোচনা হবে। সেখানে অন্যদের কাছ থেকে যে পরামর্শ বা মতামত পাব তার ভিত্তিতে পরবর্তী কমিশনের সভায় তারিখ চূড়ান্ত হবে।’

একই বিষয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এ সময় তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে বা কোন ধাপে হবে এই বিষয়গুলো নিয়ে গত দুদিন ধরে কমিশনে কিছু প্রাক প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হয়েছে। এরপর প্রাথমিক তারিখ ও ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। এটা পুরোপুরি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত। আগামী ১৭ তারিখ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের স্টেকহোল্ডার এবং ভোটের কার্যক্রমে সরাসরি যুক্তদের নিয়ে আমরা বৈঠক করব। সেখান থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কমিশন পরে তারিখ চূড়ান্ত করবে।

তিনি আরও বলেন, ‘এখন প্রশ্ন হতে পারে ১৭ তারিখের মিটিংয়ের পরে আমরা এটা কেন করলাম না। মিটিংয়ের জন্য তো কিছু উপাত্ত দিতে হবে। এই উপাত্তটাই গতকাল দেওয়া হয়েছে। এখন এই উপাত্তের বেসিসে স্টেক হোল্ডারসরা ইনপুটগুলো দিতে পারবেন। কমিশন সেটার বেসিসে ফাইনালাইজ (তারিখ) করতে পারবে।’

এদিকে, ভোটের তারিখ নিয়ে আলোচনা না করার অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসউদ স্ট্রিমকে বলেন, মন্ত্রী কী বলেছেন তা নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। উনি উনার কথা বলেছেন। আর আলোচনা হলে সচিবের সঙ্গে হবে। এটা সচিবই বলতে পারবেন।

পরে ইসি সচিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি জবাব দেননি। আখতার আহমেদ বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন এর পাল্টা কিছু বলব না। উনি যেটা বলেছেন সেটাই শিরোধার্য। তবে আলোচনা তো একটা চলমান প্রক্রিয়া। এখন কত তারিখে, কোন চিঠিতে কী আলোচনা হয়েছে বা কার সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে, কার সঙ্গে হয়নি আমি এ ব্যাপারে কোনো বাড়তি মন্তব্য করতে রাজি নই।’

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে ইসি বিব্রত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নো কমেন্টস’।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত