ধর্ষণের ঘটনা ঢাকতে শিশুকে মাটিচাপা দেন সহপাঠীর বাবা
স্ট্রিম সংবাদদাতাজামালপুর

জামালপুরে সাত বছরের মেয়েশিশু হত্যা মামলায় জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি জামিলুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, মেয়ের বান্ধবীকে ধর্ষণের পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তাঁকে নিজঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখেন।
জামিলুল ইসলাম জামালপুরের মাদারগঞ্জের সিধুলী ইউনিয়নের চর লোটাবর গ্রামের বাসিন্দা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ওই শিশু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের বর্ণনা দেন সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা।
তিনি জানান, আসামি জামিলুল ইসলামের বড় মেয়ের সঙ্গে প্রথম শ্রেণিতে পড়ত নিহত শিশু। বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে প্রায় খেলার জন্য সে জামিলুলের বাড়িতে যেত। গত ১০ সেপ্টেম্বর সকালে জামিলুলের স্ত্রী বোনের বাড়িতে বেড়াতে যান। ওইদিন মেয়েটি বাড়িতে এলে জামিলুল তাকে ধর্ষণ করে। এরপর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে শিশুকে হত্যা করে জামিলুল।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আদালতে জামিলুল জবানবন্দিতে বলেছেন– ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে তিনি লাশ গুম করার জন্য নিজঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখেন।

হত্যা রহস্য উদ্ঘাটনের বিষয়ে তিনি বলেন, ১০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয় শিশুটি। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খোঁজ নিতে গিয়ে মা জানতে পারেন, তাঁর মেয়ে বিদ্যালয়ে যায়নি। এরপর খোঁজাখুঁজি, এমনকি ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আশপাশের সব পুকুর ও নালা তল্লাশি করেও তাকে পায়নি। পরে পরিবার মাদারগঞ্জ মডেল থানায় জিডি করলে তদন্তে নামে পুলিশ।
মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গোপন সংবাদে ১২ সেপ্টেম্বর রাতে জামিলুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। একপর্যায়ে ঘরের মাটি খুঁড়ে শিশুর লাশ পাওয়া যায়। পরে জামিলুল ও তাঁর স্ত্রী ববিতা বেগমকে আটক করে পুলিশ। ১৩ সেপ্টেম্বর মাদারগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করে শিশুটির বাবা। আসামিদের আদালতে হাজির করলে জামিলুল ইসলাম ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
নিহত শিশুর বাবা বলেন, আমার মেয়ে পড়াশোনায় খুব আগ্রহী ছিল। একদিনও স্কুল কামাই করত না। সবার আগে স্কুলে যাইত। ওইদিন সকালে স্কুলে গেছে। এরপর আমার মাওকে পাইতেছিলাম না। এহন পাইলাম তার লাশ। আমার নিষ্পাপ সন্তান কী অপরাধ করেছিল? তাকে কেন মারল? আমার মেয়েরে মাইরা পুঁইতে রাখছিল কেন? আমি বিচার চাই।
.png)
-7c29dd-256x144.webp)





