
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরপর অনেক প্রতিশ্রুতি সামনে এসেছিল। তার মধ্যে অন্যতম ছিল বিতর্কিত সাইবার আইনের বাতিলের বিষয়টি। এই আইনকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে সাংবাদিক, আন্দোলনকারী ও সমালোচকদের কণ্ঠরোধ করত তৎকালীন আওয়ামী রেজিম।
কিছু সময়ের জন্য মনে হয়েছিল সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটতে চলেছে। ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার তীব্র সমালোচিত সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ বাতিল করে। তার বদলে নিয়ে আসা হয় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫।
২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল জাতীয় সংসদ অধ্যাদেশটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৬ হিসেবে পাস করে। এর কিছুদিন পর ৩০ জুন প্রথম দফা সংশোধনী আনা হয়। আইনের মৌলিক সংস্কার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নতুন প্রস্তাবিত খসড়া সংশোধনী দেশের মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীদের মনে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের ওয়েবসাইটে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সাইবার নিরাপত্তা (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর খসড়া প্রকাশ করা হয়। সেই খসড়া দেখে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, পতিত স্বৈরাচারী সরকারের সবচেয়ে ঘৃণিত সেন্সরশিপের হাতিয়ারগুলোকেই নতুন মোড়কে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
খসড়ায় মানহানির জন্য আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। স্রেফ ‘সন্দেহের’ বশে যেকোনো অনলাইন কন্টেন্ট বন্ধ করার অবাধ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোকে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রের ক্ষমতা প্রয়োগকারীদের সম্পূর্ণ দায়মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) আইন বিশেষজ্ঞ মনীষা বিশ্বাস স্ট্রিমকে জানান, নতুন সংশোধনীর ফলে আমরা কি আবার পুরোনো আইনের কাঠামোর মধ্যেই ফিরে যাচ্ছি কিনা, নাকি নতুন নামে পুরোনো জিনিসগুলোকেই ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, এটাই তাঁদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা।
মনীষা বিশ্বাস আরও বলেন, ‘এখানে ভেগ ডেফিনেশন আর আরবিট্রারি অ্যারেস্টের একটা বড় ঝুঁকি আছে। এটা ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম করেন এমন সাংবাদিকদের একটা বিরূপ পরিস্থিতির মুখে ফেলে দিতে পারে’।
খসড়ায় ‘হেয়প্রতিপন্ন করা’ ও ‘বুলিং’-এর মতো অস্পষ্ট অপরাধ যুক্ত করা হয়েছে। বুলিংয়ের সংজ্ঞা এতটাই বিস্তৃত রাখা হয়েছে যে রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক রচনা, ভোক্তাদের অধিকার সংক্রান্ত অভিযোগ কিংবা জনস্বার্থমূলক সাংবাদিকতাও এর আওতায় পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি কেবল মানসিক ভারসাম্যহীনতা বা মানসিক পীড়ার শিকার হয়েছেন দাবি করলেই এই ধারা সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। অথচ এই ধরনের বিষয় মাপার কোনো মানদণ্ড আইনে নেই।
‘গুজব’ ছড়ানো ও মানহানির কঠোর শাস্তি
খসড়া আইনে ২৫ ধারায় উদ্বেগজনক পরিবর্তন আনা হয়েছে। দেশের দণ্ডবিধিতে মানহানির শাস্তির বিধান আগে থেকেই রয়েছে। অনলাইন দুনিয়ায় মতপ্রকাশ ঠেকাতে এই অপরাধকে নতুন করে ঢাল বানানো হচ্ছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী অনলাইনে মানহানির জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
অপরাধের ক্ষেত্রে ভিকটিম কোনো নারী বা শিশু হয়ে থাকলে শাস্তি দ্বিগুণ করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে ১০ বছরের জেল ও ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব রয়েছে।
আরও বড় উদ্বেগের বিষয় হলো ২৬(ক) নামের নতুন একটি ধারার সংযোজন। ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’ ছড়ানোর দায়ে এই ধারায় সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেলের বিধান রাখা হয়েছে। খসড়ায় গুজবের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, যেকোনো ‘অসমর্থিত বা অযাচাইকৃত তথ্য’ যা জনমনে ‘বিভ্রান্তি, আতঙ্ক, উত্তেজনা বা সামাজিক অস্থিরতা’ তৈরি করে, তা-ই গুজব হিসেবে গণ্য হবে।
বিতর্কিত সাইবার আইনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে অগ্রগন্য সংস্থা ব্লাস্ট এই ২৬(ক) ধারা সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘যাচাই না করা তথ্য মানেই মিথ্যা তথ্য নয়’।
ব্লাস্টের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘জরুরি অবস্থা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মানবাধিকার সংকট ও দ্রুত পরিবর্তনশীল ঘটনার সময় কোনো তথ্য তাৎক্ষণিক ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নাও হতে পারে। এমন তথ্যকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হলে প্রকৃত জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিবেদন করতে সাংবাদিক, গবেষক ও নাগরিকেরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন’।
আইন প্রয়োগকারীদের দায়মুক্তির ঢাল
খসড়ার সবচেয়ে ভয়ংকর সংযোজন হলো ৫২ ধারা। সম্পূর্ণ নতুন এই ধারার মাধ্যমে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কাউন্সিল এবং সরকারের যেকোনো ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ঢালাও আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।
ধারায় বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তা ‘সরল বিশ্বাসে’ (গুড ফেইথ) কোনো কাজ করলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা করা যাবে না।
বিগত সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা বিশেষজ্ঞদের কাছে এই ধারা বড় এক বিপদের সংকেত।
ইনস্টিটিউট অব পলিসি ডায়নামিকসের নির্বাহী পরিচালক আসিফ শাহরিয়ার সুস্মিত এই পরিবর্তনে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তিনি আইনের প্রাথমিক খসড়া তৈরিতে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
সুস্মিত স্ট্রিমকে বলেন, ‘আধুনিক আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় এ ধরনের দায়মুক্তির ধারা থেকে সচেতনভাবে সরে আসার একটা চর্চা আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো কর্মকর্তা যদি তাঁর নিজ নিজ অপারেশনাল গাইডলাইন মেনে কাজ করেন, তাহলে তিনি তাঁর নিজস্ব বিভাগীয় আইনেই পরিচালিত হন। সাইবার আইনে আলাদা করে দায়মুক্তি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই’।
সুস্মিত জানান, ক্ষমতার অপব্যবহার ঠেকাতে ২০২৫ সালের মূল অধ্যাদেশে সচেতনভাবেই এই দায়মুক্তির বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছিল।
আইসিটি আইনের কুখ্যাত ৫৭ ধারার কথাই আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে এই নতুন সংযোজন। মধ্যরাতের অভিযান ও উদ্দেশ্যমূলক গ্রেপ্তারের অজুহাত হিসেবে ওই ৫৭ ধারাকে ব্যবহার করা হতো।
সুস্মিত সতর্ক করে বলেন, ‘খসড়ায় লাল কালিতে করা প্রতিটি এডিটই হলো একেকটি নতুন নিবর্তনের পথ’।
সেন্সরশিপের বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ
বর্তমান আইন অনুযায়ী কোনো কন্টেন্ট বন্ধ করতে হলে কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) অনুরোধ করতে পারে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং আদালতের তদারকি বজায় রাখতে কোন কন্টেন্ট বন্ধ করা হলো, তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল।
৮ ধারায় আনা প্রস্তাবিত সংশোধনী এই সুরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিয়েছে।
কন্টেন্ট সরানোর ক্ষমতা এখন শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়সহ সরকারের মনোনীত যেকোনো সংস্থা বা বাহিনীকে এই ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
কন্টেন্ট বন্ধের শর্তও অনেক শিথিল করা হয়েছে।
কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে আর অপেক্ষা করতে হবে না। স্রেফ ‘আশঙ্কা’র বশেই আগাম কন্টেন্ট আটকে দেওয়া যাবে। গুজব ছড়াতে পারে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মানহানি হতে পারে কিংবা রাষ্ট্রের জন্য অবমাননাকর মনে হলেই কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারবে।
কোন কন্টেন্ট বন্ধ করা হলো তা জনসমক্ষে প্রকাশের বিধান বহাল থাকলেও, ব্লক করার এখতিয়ার ও মানদণ্ড এতটাই প্রশস্ত করা হয়েছে যে বাস্তবে এই স্বচ্ছতার বিধান সামান্যই সুরক্ষা দেবে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
মানহানি ও বুলিং সংক্রান্ত বিষয়গুলো ২৫(১) ও ২৫(২) ধারার অধীনে রাখা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের একচেটিয়া এখতিয়ারের তালিকা থেকে এই ধারাগুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই অপরাধগুলোর বিচার এখন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অথবা সরাসরি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমেও করা যাবে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। ম্যাজিস্ট্রেটরা কোনো স্বাধীন বিচারক নন, তারা সরাসরি সরকারি প্রশাসনের অধীনে কাজ করেন। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মতো ছোটখাটো অপরাধে তাৎক্ষণিক সাজার জন্য সাধারণত ভ্রাম্যমাণ আদালত ব্যবহার করা হয়। বাকস্বাধীনতার মতো জটিল ফৌজদারি অপরাধের বিচারের জন্য এই ব্যবস্থা কোনোভাবেই উপযুক্ত নয়।
সুস্মিত মনে করিয়ে দেন, মানহানি বা বুলিংয়ের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীর উদ্দেশ্য, ঘটনার প্রেক্ষাপট এবং ডিজিটাল প্রমাণের সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণ প্রয়োজন হয়। মাঠে দাঁড়িয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এমন বিষয়ের সুবিচার করা সম্ভব নয়।
প্রশাসনের আমলাদের হাতে এই বিচার তুলে দিয়ে সমালোচকদের তাৎক্ষণিকভাবে শায়েস্তা করার এক বিপজ্জনক হাতিয়ার তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
খসড়ায় ২৯ ধারায় সংযোজন এনে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নতুন ও কঠোর বিধান আনা হয়েছে।
বর্তমান আইনে সাইবার অপরাধের জন্য কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের কোনো নিয়ম নেই। নতুন সংশোধনীতে কোনো প্রতিষ্ঠান দোষী সাব্যস্ত হলে আদালতের মাধ্যমে তার নিবন্ধন, লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত, বাতিল বা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তি কোম্পানি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোর জন্য বড় অস্তিত্বের সংকট তৈরি করেছে এই ধারা। আদালতের চূড়ান্ত রায় হওয়ার আগেই পুরো ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়ে প্ল্যাটফর্মগুলো সরকারের যেকোনো নির্দেশ অন্ধের মতো মেনে চলবে। সরকারের বিরাগভাজন হওয়ার ভয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই নিজেদের সেন্সর করতে বাধ্য হবে।
‘ডিপ স্টেট’-এর ছায়া ও অধিকার হরণের শঙ্কা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি এই সংশোধনীর পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের এক প্রতিনিধি দলের কাছে তিনি দাবি করেন, গঠনমূলক সমালোচনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে চরিত্র হননের মতো বিষয় নয়, আর ডিজিটাল মাধ্যমে শালীনতা রক্ষা এবং নারী ও তরুণদের সাইবার বুলিং থেকে বাঁচাতেই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিষয়ক থিংকট্যাংক ‘টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট’ এই খসড়াকে একটি উদ্বেগজনক ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদের মতে, এর শেকড় ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পর্যন্ত বিস্তৃত। সংস্থাটি জানায়, মানহানি, হেয়প্রতিপন্ন করা ও গুজবের মতো অস্পষ্ট ধারণাগুলো বৈধ মতপ্রকাশ, রাজনৈতিক বক্তব্য ও জনস্বার্থমূলক সাংবাদিকতাকে অপরাধায়নের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, আর এসব শব্দের ব্যাখ্যার দায়িত্ব মূলত রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের হাতেই থেকে যাবে, যা বেছে বেছে ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে।
সুস্মিতের আশঙ্কা, বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতা অপব্যবহার করা এজেন্সিগুলোর হস্তক্ষেপের পুনরাবৃত্তি আইন প্রণয়নের যেকোনো পর্যায়ে আবার ঘটতে পারে।
সুস্মিত সতর্ক করে বলেন, ‘চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের আগপর্যন্ত যেকোনো পর্যায়ে এই ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চাওয়া সংস্থাগুলো কৌশলে এমন নিবর্তনমূলক ধারা ঢুকিয়ে দিতে পারে। এই ভয়টি এখনো প্রবলভাবে রয়ে গেছে’।
২০১৮ সালের কুখ্যাত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের (ডিএসএ) উদাহরণ টানেন তিনি।
সুস্মিত জানান, ২০২৫ সালে আইন সংস্কারের কাজ করার সময় তিনি ডিএসএ ২০১৮-র খসড়া প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত থাকা একজন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। ওই কর্মকর্তা তাঁকে জানান, সংসদে পাসের পর কিন্তু রাষ্ট্রপতির সইয়ের আগের কোনো এক পর্যায়ে পুলিশের একটি দল হস্তক্ষেপ করে আইনের সবচেয়ে বিতর্কিত ধারাগুলো তাতে ঢুকিয়ে দিয়েছিল। সূত্র সুরক্ষার স্বার্থে জনাব সুস্মিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম প্রকাশ করেননি।
স্বৈরাচারকে উৎখাত করতে যে দেশের মানুষ কিছুদিন আগেই প্রাণ দিয়েছে, তাদের জন্য এই নতুন খসড়া আইন এক চরম আঘাত বলে মনে করছেন অধিকারকর্মীরা।
পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে সরকারের মুখগুলো হয়তো বদলে গেছে। রাষ্ট্রের বয়ান নিয়ন্ত্রণ করার এবং সমালোচকদের পিষে ফেলার পুরোনো মানসিকতা বদলায়নি।
.png)

-7c29dd-256x144.webp)







