এসএসসিতে ঢাকা বোর্ডের বাইরে বড় অবনতি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, যশোর, রংপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, সিলেট

এসএসসির ফল প্রকাশের পর ময়নমনসিংহে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস। স্ট্রিম ছবি

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে এ বছর পাসের হার ও জিপিএ–৫ পাওয়ায় সংখ্যায় বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। কয়েকটি শিক্ষা বোর্ডে গত পাঁচ-সাত বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম পাসের হার দেখা গেছে।

পাসের হারের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এরমধ্যে জিপিএ–৫ পেয়েছে ৩৩ হাজার ২৫৩ জন। অন্যদিকে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার সর্বনিম্ন, ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ–৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৭০০ জন।

পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন চট্টগ্রাম বোর্ডে, মানবিকে বিপর্যয়

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে; যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এতে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন। এতে মানবিক বিভাগে সর্বনিম্ন মাত্র ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছে।

পাসের হার কমেছে চট্টগ্রাম মহানগরেও। নগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গড়ে ৭৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর এই হার ছিল ৮১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলার পাসের হার এবার ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ।

চট্টগ্রামে বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলও এবার আগের বছরের তুলনায় দুর্বল। এবার ২১টি বিদ্যালয়ের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৩টি। অন্যদিকে ৮টি বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। গত বছর শূন্য পাসের বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল মাত্র একটি।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৯১.১৩ শতাংশ, ২০২২ সালে ৮৭.৫৩, ২০২৩ সালে ৭৮.২৯, ২০২৪ সালে ৮২.৮০ ও গত বছর পাসের হার ছিল ৭২.০৭ শতাংশ।

সোমবার সকালে শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে ফলাফল প্রকাশের সময় এসব তথ্য জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী।

রাজশাহী বোর্ডে বছরের সর্বনিম্ন পাসের হার

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছরে পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ, যা গত ৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছর এই পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পাওয়ার শিক্ষার্থী ১৬ হাজার ১১৩ জন। ফলাফলে ছাত্রদের তুলনায় ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ এগিয়ে ছাত্রীদের পাসের হার ৭০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। একইভাবে ছাত্রদের চেয়ে ১ হাজার ৮৬৯টি বেশি জিপিএ-৫ পেয়ে ছাত্রীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৯৯১ জনে।

এর আগে ২০২৫ সালে এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৭.৬৬ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৮৯.২৬, ২০২৩ সালে ৮৭.৮৯, ২০২২ সালে ৮৫.৮৮, ২০২১ সালে ৯৪.৯১ এবং ২০২০ সালে ৯০.৭৯ শতাংশ। গত সাত বছরের তুলনায় এবারই সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।

এ বছর রাজশাহী বোর্ডের মাত্র ৩৫টি বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৯৯টি। এর আগে ২০২৪ সালে ২৮৯টি, ২০২৩ সালে ১৭৮টি, ২০২২ সালে ১৪৭টি, ২০২১ সালে ৩৬৮টি ও ২০২০ সালে ৩০৮টি বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছিল।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ইফফাত জেরিন বলেন, বর্তমান সরকার কোয়ানটিটির চেয়ে কোয়ালিটিতে জোর দিয়েছে। এ জন্য শুরুতে একটু ধাক্কা তো খেতেই হবে। আশা করছি, সামনে বোর্ডের ফলাফল আরও ভাল হবে।

বরিশালে বেড়েছে পাসের হার, কমেছে জিপিএ

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এ বছর পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৭৭৮ জন। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে হার ছিল ৫৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। সেই তুলনায় এবার পাসের হার বেড়েছে ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ১১৪ জন থেকে ৩৩৬ জন কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৭৮ জনে।

এর আগের ২০২৪ সালে এই বোর্ডে ৮৯ দশমিক ১৩ শতাংশ পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ছিল ৬ হাজার ১৪৫ জন। এর আগের বছর, ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ১৮ শতাংশ। সে বছর ৬ হাজার শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ফলাফলে গত বছরের তুলনায় পাসের হার কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও, কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছানো যায়নি। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

যশোর বোর্ডে পাস কমেছে, বেড়েছে শূন্য পাসের বিদ্যালয়

যশোর বোর্ডে গত বছরের তুলনায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে। তবে বেড়েছে শূন্য পাসের বিদ্যালয়ের সংখ্যা। বোর্ডের তথ্য মতে, এবার পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন। এসএসসি পরীক্ষায় ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৮৮ হাজার ৯৭ জন।

গত বছর এই বোর্ডে পাশের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৫ হাজার ৪১০ জন। এ বছর শূন্য পাসের বিদ্যালয় দাঁড়িয়েছে ১১টি। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ২টি।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর আব্দুল মতিন বলেন, শিক্ষার্থীদের খাতার যথার্থ মূল্যায়ন হয়েছে। অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে আমরা বেড়িয়ে এসেছি। ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতার কারণে পাসের হার কমলেও ফলাফল সন্তোষজনক। তবে শূন্য পাসের বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দিনাজপুর বোর্ডে সাত বছরে সর্বনিম্ন পাসের হার

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার নেমে এসেছে ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশে, যা গত সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছর পাসের হার ছিল ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৯৪.৮০ শতাংশ, ২০২২ সালে ৮১.১৬, ২০২৩ সালে ৭৬.৮৭, ২০২৪ সালে ৭৮.৪৩ ও ২০২৫ সালে ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এতে ২০২১ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে পাসের হার কমেছে ৩৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আর গত বছরের তুলনায় কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

পাসের হারের পাশাপাশি দিনাজপুর বোর্ডে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাতেও পতন হয়েছে। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৬২ জন। এক বছরের ব্যবধানে এই শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১ হাজার ৪২৩ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে অবশ্য এবারও ছাত্রীরা এগিয়ে।

বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস আহমেদ বলেন, ‘আমি তো দুই মাসে হলো চেয়ারম্যান। আমি শুধু ফলাফলটা দিলাম আরকি। আসলে কোথায় সমস্যাটা হচ্ছে, তা খতিয়ে না দেখে কিছু বলা যাবে না।

ময়মনসিংহ বোর্ডে পাস ৫৭.৩৯ শতাংশ

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা গত বছরের চেয়ে কম। গত বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ২২ শতাংশ। এর আগে ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৮৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৮৫ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৫৮ দশমিক ২২ শতাংশ।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১ লাখ ৫ হাজার ২৮ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৬০ হাজার ২৭৪ জন। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫ হাজার ৭০০ জন। এর মধ্যে ২ হাজার ৬২১ ছাত্র ও ৩ হাজার ৭৯ জন ছাত্রী।

এবার ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার মধ্যে নেত্রকোনায় পাসের হার সবচেয়ে বেশি, ৬০ দশমিক ৪১ শতাংশ। ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের ১০টি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। অন্যদিকে চারটি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করেননি।

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এনামুল হক বলেন, বোর্ডের আওতাধীন প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে কাজ করা হচ্ছে। নিয়মিত ক্লাস ও পড়াশোনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এবার ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের ফলাফল তুলনামূলক খারাপ হয়েছে। এ দুটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কুমিল্লায় শূন্য পাস নেই কোনো বিদ্যালয়

কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৮১৪ শিক্ষার্থী। এই বোর্ডের অধীন ছয় জেলার ১ হাজার ৮২৩টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৪টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। তবে শূন্য ভাগ পাস করা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ৫৮ হাজার ৮২৫ জন এবং ছাত্রী ৮৭ হাজার ১০ জন। জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩ হাজার ৯৬৬ জন ছাত্র ও ৫ হাজার ৮৪৮ ছাত্রী।

বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর সব সূচকে ফলাফল সন্তোষজনক। গণিতে মোট পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ৭৫ শতাংশ ও ইংরেজিতে ৮১ দশমিক ২৯ শতাংশ। এ দুই বিষয়ে ফল আরও ভালো হলে পাসের হার বাড়ত।

সিলেটে পাসের হার কমেছে ১০ শতাংশ

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার নেমে এসেছে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশে। গত বছর পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এতে এক বছরে পাসের হার কমেছে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ।

তবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬১৪ জন শিক্ষার্থী।

চলিত বছর সিলেট বোর্ডের অধীনে ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৯ হাজার ৭৯ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫ হাজার ৪৭১ জন।

বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন জানান, পাসের হারে এবার সিলেট জেলা শীর্ষে রয়েছে। আর সর্বনিম্ন পাসের হার সুনামগঞ্জ জেলায়। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১২ হাজার ৭৯৮ জন। এসব বিষয়ে নজর দেওয়া হবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত