কক্সবাজারে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান মামলা বেড়েছে
স্ট্রিম সংবাদদাতাকক্সবাজার

কক্সবাজারের নয়টি থানায় চলতি বছরের প্রথম আট মাসে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান-সংক্রান্ত মামলা বেড়েছে। তবে কমেছে খুন, ডাকাতি ও অপহরণ মামলা। এ সময়ে মোট মামলা বেড়েছে ২৮২টি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবহিত করতে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এক সভা করে কক্সবাজার পুলিশ সুপারের কার্যালয়। এতে জানানো হয়, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত জেলায় মোট ৩ হাজার ৩৯৯টি মামলা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ১১৭।
আট মাসে জেলায় খুনের মামলা হয়েছে ৯৭টি। ২০টি ঘটনার কারণ এখনো জানতে পারেনি পুলিশ। ২০২৫ সালের একই সময়ে খুনের মামলা হয়েছিল ৯৯টি। এ হিসাবে খুনের মামলা দুটি কমেছে।
জানুয়ারি-আগস্টে ডাকাতির ১৪টি, দস্যুতার ২৩টি, চুরির ১৬০টি, অপহরণের ৪৭টি, মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত ১ হাজার ৪৯টি ও চোরাচালানের ১০২টি মামলা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে মামলার সংখ্যা ছিল ডাকাতির ১৬টি, দস্যুতার ২৫টি, চুরির ১৫৭টি, অপহরণের ৫৫টি, মাদক-সংক্রান্ত ১ হাজার ৫টি ও চোরাচালানের ৪৯টি।
এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ডাকাতি ও দস্যুতার মামলা কমেছে দুটি করে। অপহরণের মামলা কমেছে আটটি। বিপরীতে চুরির মামলা বেড়েছে তিনটি, মাদক ৪৪টি ও চোরাচালান ৫৩টি।
পুলিশ সুপার এম এন সাজেদুর রহমান বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় চলতি বছর খুনের মামলা কমেছে। মাদক ও চোরাচালান মামলা বেড়েছে। মামলা বাড়ার অর্থ যে আইনশৃঙ্খলা খারাপ হচ্ছে, তা নয়। বরং মামলা হলো অপরাধ সংঘটনে বাধা দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া।’
সভায় পুলিশ সুপার ৯৭টি খুনের মামলার কারণভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি জানান, ২০টি মামলায় খুনের কারণ এখনো জানা যায়নি। আট মাসে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থেকে খুনের কোনো মামলা হয়নি বলে জানান তিনি।
সাজেদুর রহমান বলেন, ‘বেশিরভাগ খুনের ঘটনা পূর্ব শত্রুতা কিংবা পারিবারিক কলহ ও জমির বিরোধ নিয়ে ঘটেছে। আমরা কোনো ঘটনাই ছোট করে দেখছি না। সব ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছে জেলা পুলিশ।’
জানুয়ারি-আগস্টে মাদকদ্রব্য উদ্ধারসংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে ৫২৩ জন। এ সময়ে উদ্ধার করা হয়েছে ৩৭ লাখ ৩ হাজার ২৪১ পিস ইয়াবা, ৩ হাজার ৬৭ লিটার দেশি মদ, ৬২ কেজি ৩৫০ গ্রাম গাঁজা, ৫৪ বোতল বিয়ার ও ১ কেজি ২৫০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ। ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে গ্রেপ্তার হয়েছিল ১৫১ জন। গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ার বিষয়টি জেলা পুলিশের কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রমাণ করে বলে জানান পুলিশ সুপার।
সভায় সাজেদুর রহমান কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৩০টি ডাকাতির মামলার আসামি শাহজাহান আলম ওরফে ‘বাদইল্যা ডাকাতকে’ গ্রেপ্তারের তথ্য বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, চকরিয়া উপজেলার ‘সাহারবিলের নইব্যাচোরার’ ভাই হিসেবে পরিচিত বাদইল্যা ডাকাত জেলার বড় বড় ডাকাতির ঘটনার অন্যতম হোতা। পুলিশ সুপার আরও জানান, ধরা পড়লে আইনি সহায়তার জন্য তারা ডাকাতির টাকার নির্দিষ্ট অংশ আলাদা করে রাখে। ডাকাতদের আইনি সহায়তা দেয়—এমন কয়েকজন আইনজীবীর নামও তারা পেয়েছেন বলে জানান।
তবে তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘পুলিশ সুপারের এমন বক্তব্য আইনজীবীদের জন্য অসম্মানজনক। আইনজীবীদের কাজই জামিন চাওয়া। সেটা দেওয়া-না দেওয়ার বিষয়টি বিচারকের বিবেচনার ওপর নির্ভর করে।’
.png)
-3f0d26.jpeg)





-4f2d02-256x144.webp)