জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

শেষ মুহূর্তের ঈদের কেনাকাটায় বৃষ্টির বাগড়া

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২৬, ২২: ১৪
বৃষ্টির বাগড়ায় শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা জমেনি। বসুন্ধরা মার্কেটের সামনের চিত্র। স্ট্রিম ছবি

রাজধানীতে শুক্রবার দুপুর থেকে ছিল বৃষ্টি। এতে ঈদের আগের দিন বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে আশানুরূপ ক্রেতার দেখা মেলেনি। রাজধানীর বসুন্ধরা শপিংমল, এলিফ্যান্ট রোড ও নিউ মার্কেট এলাকায় দেখা গেছে এমন চিত্র।

বিক্রেতারা জানান, গত মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার রাতে এবং আজ শুক্রবার প্রায় সারাদিন থেমে থেমে বৃষ্টির জেরে ঈদের আগ মুহূর্তে বেচাবিক্রি আশানুরূপ হয়নি। এ ছাড়া ঈদের চারদিন আগে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় রাজধানী ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় এবং সামগ্রিকভাবে মানুষের আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় শেষদিকে ক্রেতার চাপ কম ছিল। তবে চাঁদরাতে ক্রেতা কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশা তাদের।

ব্যবসায়ীরা হতাশা প্রকাশ করলেও ক্রেতারা জানিয়েছেন উল্টো কথা। কয়েকজন ক্রেতা জানান, মার্কেটে ভিড় ও গরম কম থাকায় শান্তিতে কেনাকাটা করা গেছে। আবার বৃষ্টির কারণে ফুটপাতের দোকানগুলো বন্ধ থাকায় হাঁটাচলাও সমস্যা হয়নি।

রাজধানী নিউ মার্কেটের দশের বেশি দোকান মালিক স্ট্রিমকে জানান, গতবারের তুলনায় এবার বিক্রি কম হয়েছে। সামগ্রিক অর্থনীতির দূরাবস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তায় মানুষ টাকা কম খরচ করছে, যার প্রভাব পড়েছে ঈদের বাজারে।

নিউ মার্কেটের দক্ষিণ ভবনের দ্বিতীয় তলায় টি-শার্টের দোকানদার তানভীর বেচাকেনা ভালো হয়েছে জানালেও পাশের প্যান্টের দোকানদার জুম্মন বলেন, এবার বেচাকেনা তেমন জমেনি। একই তলার শার্টের দোকানদার মেরাজ বলেন, ‘মোটামুটি বিক্রি হয়েছে। বেশিও না, কমও না।

তানভীর নামের আরেক শার্টের দোকানদার বলেন, ‘শেষ ৭ দিন ভালো বিক্রি হলেও সবমিলিয়ে গতবারের চেয়ে কম ব্যবসা হয়েছে।’

তবে আজ চাঁদরাতে ক্রেতার চাপ বাড়তে পারে বলে জানান অনেক বিক্রেতা। তারা জানান, চাঁদরাতকে ঘিরে তাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকে। সাধারণত এই রাতে গভীর রাত পর্যন্ত বাজার খোলা থাকে এবং অনেকে শেষ মুহূর্তে কেনাকাটা শেষ করেন।

রবিন নামের এক দোকানদার বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে দিনে ক্রেতা না থাকলেও রাতে ক্রেতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে ঢাকার অন্যান্য মার্কেটের স্টাফরা ডিউটি শেষ করে তাদের নিজেদের কেনাকাটা করতে নিউ মার্কেটে আসবেন। তাই আমরা সারারাত দোকান খোলা রাখব। ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত থেকে তারপর দোকান বন্ধ করে ঈদের নামাজ পড়তে যাব।’

তবে এক রাতের বিক্রি দিয়ে পুরো মৌসুমের যে কম বিক্রি হয়েছে সেটার ঘাটতি মেটানো যাবে না বলে জানান কয়েকজন। সাব্বির নামের এক দোকান মালিক বলেন, ‘গতবারের তুলনায় এবার বিক্রি কমেছে প্রায় অর্ধেক। মানুষের আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকায় আর অনলাইন শপিংয়ের কারণে মার্কেটে বিক্রি কম হয়েছে।’

চাঁদরাতে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের ভেতরেও ছিল প্রায় ফাঁকা। স্ট্রিম ছবি
চাঁদরাতে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের ভেতরেও ছিল প্রায় ফাঁকা। স্ট্রিম ছবি

অবশ্য ভিড় কম থাকায় ক্রেতারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। পুরান ঢাকার হাসান নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘এবার ভিড় কম থাকায় আরামেই কেনাকাটা করা যাচ্ছে। দামও একটু কম পাওয়া যাচ্ছে।’ জান্নাত নামের আরেক ক্রেতা বলেন, ‘ভিড় কম থাকায় জিনিসপত্র অনেক সময় নিয়ে দেখেশুনে কিনতে পারছি। তাই ভালো লাগছে।’

পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে গিয়েও ক্রেতার খুব বেশি চাপ দেখা যায়নি। কয়েকটি শোরুমের সেলসম্যান ও ম্যানেজাররা জানান, যারা কেনাকাটার করার তারা বৃষ্টি থাকুক আর নাই থাকুক শপিং করতে আসবেনই। বসুন্ধরা সিটিতে রাত ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকতে পারে।

বসুন্ধরা সিটির বড় ব্র্যান্ডের দোকানগুলোর ম্যানেজাররা জানিয়েছেন, এবার তাদের বিক্রি ভালো হয়েছে। তবে সাধারণ ব্র্যান্ডের দোকানগুলো বলছে, গতবারের চেয়ে এবার বিক্রি ভালো হয়নি।

বসুন্ধরার জেন্টল পার্ক, রিচম্যান, দর্জিবাড়ি, লুবনন, ইজি, ইনফিনিটি, ভার্গো ও ইয়েলোর মতো ব্রান্ডের শোরুমের ম্যানেজাররা জানিয়েছেন, শেষদিকে বৃষ্টির কারণে একটু কম হলেও সার্বিক বিক্রি ভালো হয়েছে। গতবারের চেয়ে ১০-২৫ শতাংশ বেশি ব্যবসা হয়েছে বলেও জানান কয়েকজন।

তবে প্লাস পয়েন্ট, লামিসা, সৌলমেট, সোহাগ, বাধন, জান্নাত মার্কসহ এমব্রেলার মতো ব্র্যান্ড সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আশানুরূপ বিক্রি হয়নি। এমব্রেলার ম্যানেজার বলেন, ‘বসুন্ধরা শপিং মলে ঢোকার পরই (প্রবেশ পথের বাঁ পাশে) আমাদের শোরুমটি চোখে পড়ে। অন্য বছর এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগই পেতেন না। অথচ এবার পুরো রোজায় তেমন ক্রেতার চাপই দেখিনি। আর আজ তো বৃষ্টি ছিল।’

সম্পর্কিত