প্রতিক্রিয়া
শেখ রোকন

বাংলাদেশ সরকার রাজবাড়ীর পাংশায় পদ্মা নদীর ওপর ৩৩,৪৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ (প্রথম পর্যায়) নির্মাণ প্রকল্প’ অনুমোদন করেছে। ২০৩৩ সালের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে সৃষ্ট শুষ্ক মৌসুমের পানি সংকট মোকাবিলাসহ এই বাঁধের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীপ্রবাহ পুনরুদ্ধার, লবণাক্ততা হ্রাস এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।
প্রথমত, প্রকল্পটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও নীতিগত ধারাবাহিকতা রয়েছে। ১৯৬১ সালে ভারতে ফারাক্কা ব্যারাজের নির্মাণ কাজ শুরুর প্রেক্ষিতে ১৯৬২-৬৩ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রথম জরিপ সম্পন্ন হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৫ সালে এর সম্ভাব্যতা যাচাই এবং ২০১৩ সালে প্রকল্পটি গৃহীত হলেও ২০১৫ সালে ভারতের আনুষ্ঠানিক আপত্তির মুখে পড়ে। এর জেরে ২০১৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘নকশায় ত্রুটি’র কথা উল্লেখ করে প্রকল্পটি নাকচ করে দেন।
দ্বিতীয়ত, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রকল্পটি নতুন করে গতি পায়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি প্রকল্প মূল্যায়ন সভায় এটিকে 'পদ্মা ব্যারাজ' নামে পুনরায় আলোচনার টেবিলে আনা হয়। যদিও ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে একনেকে পাশের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত হয়েছিল।
প্রকল্পটির নাম গঙ্গা ব্যারাজের বদলে পদ্মা ব্যারাজ রাখা ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে ভুল বলে আমি মনে করি। কারণ এর মাধ্যমে গঙ্গা নদীতে ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অধিকারকে ছেড়ে দেওয়া হয়, যা ভারতের জন্য সুবিধাজনক। ভৌগোলিকভাবে, গোয়ালন্দে যমুনার সঙ্গে মিলিত হওয়ার আগ পর্যন্ত নদীটি 'গঙ্গা' নামেই পরিচিত। গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র (যমুনা) এর মিলিত স্রোত থেকেই 'পদ্মা' নদীর সৃষ্টি।
প্রকল্পটি অনেক ভাটিতে সমতলে নির্মিত হওয়ার কারণে এর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে পলি বা সিল্টেশন ব্যবস্থাপনা। গঙ্গা বিশ্বের অন্যতম পলিবহুল নদী। খোদ ফারাক্কা ব্যারাজও পলি ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জে জর্জরিত, যার প্রভাবে উজানে বিহার রাজ্যে ব্যাপক নদী ভাঙনের সৃষ্টি হয়। যে কারণে রাজ্যটি ফারাক্কা তুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। এর পাশাপাশি, প্রতিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করাও আরেকটি চ্যালেঞ্জ হবে।
এ ধরনের বড় স্থাপনা নির্মাণের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো উজানের দেশের সঙ্গে কার্যকর পানি বণ্টন চুক্তি থাকা। এক্ষেত্রে, ভারতের সঙ্গে যদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন করা হয়, তবে এই ব্যারাজ নির্মাণ ও পরিচালনা প্রক্রিয়া অনেক সহজ ও ফলপ্রসূ হবে।
শেখ রোকন: লেখক ও নদী গবেষক; নাগরিক সংগঠন রিভারাইন পিপলের প্রতিষ্ঠাতা ও মহাসচিব।

বাংলাদেশ সরকার রাজবাড়ীর পাংশায় পদ্মা নদীর ওপর ৩৩,৪৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ (প্রথম পর্যায়) নির্মাণ প্রকল্প’ অনুমোদন করেছে। ২০৩৩ সালের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে সৃষ্ট শুষ্ক মৌসুমের পানি সংকট মোকাবিলাসহ এই বাঁধের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীপ্রবাহ পুনরুদ্ধার, লবণাক্ততা হ্রাস এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।
প্রথমত, প্রকল্পটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও নীতিগত ধারাবাহিকতা রয়েছে। ১৯৬১ সালে ভারতে ফারাক্কা ব্যারাজের নির্মাণ কাজ শুরুর প্রেক্ষিতে ১৯৬২-৬৩ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রথম জরিপ সম্পন্ন হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৫ সালে এর সম্ভাব্যতা যাচাই এবং ২০১৩ সালে প্রকল্পটি গৃহীত হলেও ২০১৫ সালে ভারতের আনুষ্ঠানিক আপত্তির মুখে পড়ে। এর জেরে ২০১৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘নকশায় ত্রুটি’র কথা উল্লেখ করে প্রকল্পটি নাকচ করে দেন।
দ্বিতীয়ত, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রকল্পটি নতুন করে গতি পায়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি প্রকল্প মূল্যায়ন সভায় এটিকে 'পদ্মা ব্যারাজ' নামে পুনরায় আলোচনার টেবিলে আনা হয়। যদিও ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে একনেকে পাশের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত হয়েছিল।
প্রকল্পটির নাম গঙ্গা ব্যারাজের বদলে পদ্মা ব্যারাজ রাখা ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে ভুল বলে আমি মনে করি। কারণ এর মাধ্যমে গঙ্গা নদীতে ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অধিকারকে ছেড়ে দেওয়া হয়, যা ভারতের জন্য সুবিধাজনক। ভৌগোলিকভাবে, গোয়ালন্দে যমুনার সঙ্গে মিলিত হওয়ার আগ পর্যন্ত নদীটি 'গঙ্গা' নামেই পরিচিত। গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র (যমুনা) এর মিলিত স্রোত থেকেই 'পদ্মা' নদীর সৃষ্টি।
প্রকল্পটি অনেক ভাটিতে সমতলে নির্মিত হওয়ার কারণে এর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে পলি বা সিল্টেশন ব্যবস্থাপনা। গঙ্গা বিশ্বের অন্যতম পলিবহুল নদী। খোদ ফারাক্কা ব্যারাজও পলি ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জে জর্জরিত, যার প্রভাবে উজানে বিহার রাজ্যে ব্যাপক নদী ভাঙনের সৃষ্টি হয়। যে কারণে রাজ্যটি ফারাক্কা তুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। এর পাশাপাশি, প্রতিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করাও আরেকটি চ্যালেঞ্জ হবে।
এ ধরনের বড় স্থাপনা নির্মাণের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো উজানের দেশের সঙ্গে কার্যকর পানি বণ্টন চুক্তি থাকা। এক্ষেত্রে, ভারতের সঙ্গে যদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন করা হয়, তবে এই ব্যারাজ নির্মাণ ও পরিচালনা প্রক্রিয়া অনেক সহজ ও ফলপ্রসূ হবে।
শেখ রোকন: লেখক ও নদী গবেষক; নাগরিক সংগঠন রিভারাইন পিপলের প্রতিষ্ঠাতা ও মহাসচিব।

‘ইউটোপিয়া’ টার্মটি সাধারণত নেতিবাচক অর্থে কাল্পনিক বা অবাস্তব বা আকাশকুসুম হিসেবে বেশি প্রচলিত। যে কারণে আমরা এর ইতিবাচক অর্থ ‘আনন্দলোক’ ব্যবহার করতে ভুলেই গেছি! জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সর্বার্থে-সর্বান্তকরণে তার সকল সন্তানের জন্যে ইউটোপিয়াই বটে। মেয়েদের জন্য তো আরও বেশি।
২ মিনিট আগে
ভোট-পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের পরাজয়ে বামপন্থীদের আত্মসন্তুষ্টি ও রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা দেখা যাচ্ছে। যুক্তিতর্ক ও শালীনতা বিসর্জন দিয়ে তারা কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তি-আক্রমণে ব্যস্ত। বর্তমান প্রজন্মের একাংশের কাছে বামপন্থা আজ আর কোনো আদর্শ বা জনমানুষের লড়াই নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়া বা টিভিতে..
১৮ ঘণ্টা আগে
ঢাকার একটি আদালত। সেখানে সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন এক বৃদ্ধা মা। তার ছেলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা। অথচ ঘটনার দিন ছেলেটি ছিল হাসপাতালে শয্যাশায়ী। আদালতে সেই কাগজও জমা হয়েছে। তবু জামিন হয়নি। কয়েক মাস পর খবর এল—কারাগারে অসুস্থ হয়ে তার ছেলে মারা গেছে। দেশের রাজনৈতিক পালাবদলের পর এ ধরনের গল্প এখন আর...
২০ ঘণ্টা আগে
ঢাকার বাসিন্দা যারা গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় মিরপুর-১০ থেকে কারওয়ান বাজারে গিয়েছেন তাদের সময় লেগেছে ন্যূনতম আড়াই ঘণ্টা থেকে ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। অথচ আবহাওয়া অফিস বলছে, বৃষ্টি হয়েছিল মাত্র ৩৫ মিনিট। বাসের জানালা দিয়ে যাত্রীরা দেখছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ তখন দূষিত বুড়িগঙ্গার শাখা।
২০ ঘণ্টা আগে