তৌফিক হাসান

দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার অন্যতম কারিগর বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা। নিজের ও পরিবারের ভাগ্য বদলের আশায় তাঁরা পরবাসে পাড়ি জমালেও দিনশেষে তাঁদের ‘পরিচয়’ ও ‘অধিকার’ নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।
প্রবাসী, অভিবাসী কর্মী কিংবা রেমিট্যান্স যোদ্ধা—এমন হরেক নামে ডাকা হয় বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের। কিন্তু অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই নামকরণের ভিড়ে কর্মীদের প্রকৃত অধিকার ও সুরক্ষা অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত থেকে যায়।
বিদেশে অবস্থানরত কর্মীদের মতে, বিভিন্ন নামে তাঁদের সম্বোধন করা হলেও বাস্তবে তাঁদের প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করা হয় না। মালয়েশিয়া প্রবাসী মোহাম্মদ রানা স্ট্রিমকে বলেন, ‘সরকার পরিবর্তন হয়, আমাদের ট্যাগ বা নামও পরিবর্তন হয়। কিন্তু প্রবাসীদের জীবনের গল্প একই থাকে। জাস্ট শব্দের মারপ্যাঁচে আমাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়।’
ইতালিতে কর্মরত পেশাজীবী কর্মী ইমাম হোসেন রতন স্ট্রিমকে বলেন, ‘নামকরণের এই মারপ্যাঁচে এক ধরনের দায়সারা মনোভাব প্রকাশ পায়। ফলে শ্রমিকরা কর্মস্থলে যেমন অধিকারবঞ্চিত হয়, তেমনি নিজ দেশেও যথাযথ মূল্যায়ন পায় না।’
অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) চেয়ারপারসন শাকিরুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, ‘অভিবাসীদের অবদানের তুলনায় তাঁদের সুরক্ষা ও অধিকার রক্ষায় বাজেট বরাদ্দ সবচেয়ে কম।’
একই কথা জানিয়ে অভিবাসন ও শরণার্থীবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, ‘ট্রেড ইউনিয়নগুলো তাঁদের শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিতে চায়, যাতে শ্রমিক অধিকারের জায়গা থেকে দাবি আদায় সহজ হয়। এর বাইরে অন্য নামগুলো অনেক ক্ষেত্রে দায়সারা মনে হয়।’
তবে প্রবাসী কর্মী ও অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের বিরোধিতা করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে সরকার।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এবং ১৯৯০ সালের ইউএন কনভেনশন অনুযায়ী ‘মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার’ বা ‘অভিবাসী কর্মী’ শব্দটিই স্বীকৃত পেয়েছে। বাংলাদেশেও আইনি কাগজে এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়। তবে শাকিরুল ইসলাম ও আসিফ মুনীরের মতে, প্রচারের অভাবে সাধারণ মানুষের কাছে এই নামটি তেমন পরিচিত নয়। ফলে প্রবাসী বা প্রবাসী শ্রমিক শব্দগুলোই বেশি প্রচলিত হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিকভাবে যাই বলা হোক না কেন, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের বড় অংশ ‘প্রবাসী’ বা ‘প্রবাসী কর্মী’ পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে জানিয়েছেন।
ইতালি প্রবাসী ইমাম হোসেন রতন বলেন, ‘অধিকাংশ মানুষ যেহেতু কর্মের জন্যই বিদেশে আসেন এবং বিদেশে স্থায়ী হওয়ার হার কম, তাই প্রবাসী কর্মী পরিচয়টিই বেশি যুক্তিসংগত।’
মালয়েশিয়া প্রবাসী রানাও একই কথা জানিয়ে বলেন, ‘প্রবাসী পরিচয়টুকুই আমাদের জন্য যথেষ্ট, অন্য কোনো নামের প্রয়োজন নেই।’
প্রবাসী, প্রবাসী শ্রমিক, অভিবাসী কর্মী এ শব্দগুলোর চেয়ে ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ শব্দটি নিয়ে অভিবাসন সংশ্লিষ্ট ও শ্রমিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে। তবে সবার ভাষ্য, এ শব্দটি কর্মীদের চাইতে সরকারের পক্ষ থেকে বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি স্বীকার করা হয়। তাদের মতে, প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রয়েছে। সেজন্য তাদেরকে রেমিট্যান্স যোদ্ধা নামে অভিহিত করা হয়।
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা স্ট্রিমকে বলেন, ‘শুরু থেকে বিদেশ যাওয়া কর্মীরা প্রবাসী কর্মী কিংবা অভিবাসী কর্মী নামেই পরিচিত ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার দ্বিতীয় আমলে এক অভিবাসী দিবসে তাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধা নামে পরিচিত করানো হয়। তারপর থেকে সরকারি ও বেসরকারিভাবে তাঁরা রেমিট্যান্স যোদ্ধা নামে পরিচিত হয়ে আসছেন।’
তবে সরকার রেমিট্যান্স যোদ্ধা শব্দটি অভিবাসী কর্মীদের ঠকানোর কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেন বলে মনে করেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘এটি একটি রাজনৈতিক বাহবা দেওয়ার শব্দ। যার মাধ্যমে কর্মীদের প্রকৃত সম্মান না দিয়ে দায় এড়িয়ে যাওয়া হয়।’
মালয়েশিয়া প্রবাসী আহমেদুল কবির ও ওকাপের শাকিরুল ইসলামের মতে, রেমিট্যান্স যোদ্ধা শব্দটি প্রবাসীদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি। মুক্তিযোদ্ধাদের মতো তাঁরাও পরিবারের সুখ বিসর্জন দিয়ে বিদেশের মাটিতে যুদ্ধ করে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করছেন। তাই ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ শব্দটি তাঁদের কনট্রিবিউশনকে সম্মান জানানোর একটি মাধ্যম।
একই কথা জানিয়ে ইতালি প্রবাসী ইমাম হোসেন রতন বলেন, ‘সরকার মূলত প্রবাসীদের বেশি বেশি রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতেই এই শব্দটি ব্যবহার করে।’

দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার অন্যতম কারিগর বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা। নিজের ও পরিবারের ভাগ্য বদলের আশায় তাঁরা পরবাসে পাড়ি জমালেও দিনশেষে তাঁদের ‘পরিচয়’ ও ‘অধিকার’ নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।
প্রবাসী, অভিবাসী কর্মী কিংবা রেমিট্যান্স যোদ্ধা—এমন হরেক নামে ডাকা হয় বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের। কিন্তু অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই নামকরণের ভিড়ে কর্মীদের প্রকৃত অধিকার ও সুরক্ষা অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত থেকে যায়।
বিদেশে অবস্থানরত কর্মীদের মতে, বিভিন্ন নামে তাঁদের সম্বোধন করা হলেও বাস্তবে তাঁদের প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করা হয় না। মালয়েশিয়া প্রবাসী মোহাম্মদ রানা স্ট্রিমকে বলেন, ‘সরকার পরিবর্তন হয়, আমাদের ট্যাগ বা নামও পরিবর্তন হয়। কিন্তু প্রবাসীদের জীবনের গল্প একই থাকে। জাস্ট শব্দের মারপ্যাঁচে আমাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়।’
ইতালিতে কর্মরত পেশাজীবী কর্মী ইমাম হোসেন রতন স্ট্রিমকে বলেন, ‘নামকরণের এই মারপ্যাঁচে এক ধরনের দায়সারা মনোভাব প্রকাশ পায়। ফলে শ্রমিকরা কর্মস্থলে যেমন অধিকারবঞ্চিত হয়, তেমনি নিজ দেশেও যথাযথ মূল্যায়ন পায় না।’
অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) চেয়ারপারসন শাকিরুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, ‘অভিবাসীদের অবদানের তুলনায় তাঁদের সুরক্ষা ও অধিকার রক্ষায় বাজেট বরাদ্দ সবচেয়ে কম।’
একই কথা জানিয়ে অভিবাসন ও শরণার্থীবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, ‘ট্রেড ইউনিয়নগুলো তাঁদের শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিতে চায়, যাতে শ্রমিক অধিকারের জায়গা থেকে দাবি আদায় সহজ হয়। এর বাইরে অন্য নামগুলো অনেক ক্ষেত্রে দায়সারা মনে হয়।’
তবে প্রবাসী কর্মী ও অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের বিরোধিতা করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে সরকার।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এবং ১৯৯০ সালের ইউএন কনভেনশন অনুযায়ী ‘মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার’ বা ‘অভিবাসী কর্মী’ শব্দটিই স্বীকৃত পেয়েছে। বাংলাদেশেও আইনি কাগজে এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়। তবে শাকিরুল ইসলাম ও আসিফ মুনীরের মতে, প্রচারের অভাবে সাধারণ মানুষের কাছে এই নামটি তেমন পরিচিত নয়। ফলে প্রবাসী বা প্রবাসী শ্রমিক শব্দগুলোই বেশি প্রচলিত হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিকভাবে যাই বলা হোক না কেন, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের বড় অংশ ‘প্রবাসী’ বা ‘প্রবাসী কর্মী’ পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে জানিয়েছেন।
ইতালি প্রবাসী ইমাম হোসেন রতন বলেন, ‘অধিকাংশ মানুষ যেহেতু কর্মের জন্যই বিদেশে আসেন এবং বিদেশে স্থায়ী হওয়ার হার কম, তাই প্রবাসী কর্মী পরিচয়টিই বেশি যুক্তিসংগত।’
মালয়েশিয়া প্রবাসী রানাও একই কথা জানিয়ে বলেন, ‘প্রবাসী পরিচয়টুকুই আমাদের জন্য যথেষ্ট, অন্য কোনো নামের প্রয়োজন নেই।’
প্রবাসী, প্রবাসী শ্রমিক, অভিবাসী কর্মী এ শব্দগুলোর চেয়ে ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ শব্দটি নিয়ে অভিবাসন সংশ্লিষ্ট ও শ্রমিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে। তবে সবার ভাষ্য, এ শব্দটি কর্মীদের চাইতে সরকারের পক্ষ থেকে বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি স্বীকার করা হয়। তাদের মতে, প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রয়েছে। সেজন্য তাদেরকে রেমিট্যান্স যোদ্ধা নামে অভিহিত করা হয়।
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা স্ট্রিমকে বলেন, ‘শুরু থেকে বিদেশ যাওয়া কর্মীরা প্রবাসী কর্মী কিংবা অভিবাসী কর্মী নামেই পরিচিত ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার দ্বিতীয় আমলে এক অভিবাসী দিবসে তাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধা নামে পরিচিত করানো হয়। তারপর থেকে সরকারি ও বেসরকারিভাবে তাঁরা রেমিট্যান্স যোদ্ধা নামে পরিচিত হয়ে আসছেন।’
তবে সরকার রেমিট্যান্স যোদ্ধা শব্দটি অভিবাসী কর্মীদের ঠকানোর কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেন বলে মনে করেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘এটি একটি রাজনৈতিক বাহবা দেওয়ার শব্দ। যার মাধ্যমে কর্মীদের প্রকৃত সম্মান না দিয়ে দায় এড়িয়ে যাওয়া হয়।’
মালয়েশিয়া প্রবাসী আহমেদুল কবির ও ওকাপের শাকিরুল ইসলামের মতে, রেমিট্যান্স যোদ্ধা শব্দটি প্রবাসীদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি। মুক্তিযোদ্ধাদের মতো তাঁরাও পরিবারের সুখ বিসর্জন দিয়ে বিদেশের মাটিতে যুদ্ধ করে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করছেন। তাই ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ শব্দটি তাঁদের কনট্রিবিউশনকে সম্মান জানানোর একটি মাধ্যম।
একই কথা জানিয়ে ইতালি প্রবাসী ইমাম হোসেন রতন বলেন, ‘সরকার মূলত প্রবাসীদের বেশি বেশি রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতেই এই শব্দটি ব্যবহার করে।’

স্বৈরাচার আমলে দেশের খেটে খাওয়া মানুষকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
৫ মিনিট আগে
ইউনিসেফ সতর্ক করার পরেও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার গ্লোবাল ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের (গ্যাভি) মাধ্যমে হাম-রুবেলার টিকা কেনা স্থগিত করেছিল। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এটি কিনতে চেয়েছিল।
১৮ মিনিট আগে
শ্রমিকদের ভাগ্য পরিবর্তনে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে শ্রমিক দল। শুক্রবার (১ মে) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে এক সমাবেশে এসব প্রস্তাব দেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
১ ঘণ্টা আগে
বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেলের বিরুদ্ধে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স (এনএলএ)। শুক্রবার (১ মে) এক বিবৃতিতে এই নির্বাচনকে পরিকল্পিত জালিয়াতি ও ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী এই সংগঠন।
১ ঘণ্টা আগে