চুয়াডাঙ্গায় হামে ২ শিশুর মৃত্যু, আইসোলেশন ওয়ার্ডের মেঝেতে রোগীরা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গা

প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬, ১৮: ৩৫
চুয়াডাঙ্গা জেলা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছে হামের রোগীরা । স্ট্রিম ছবি

চুয়াডাঙ্গায় বাড়ছে হামের প্রার্দুভাব। ইতিমধ্যে এর উপসর্গ নিয়ে জেলায় মারা গেছে দুই শিশু। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদর হাসপাতালে খোলা হয়েছে আইসোলেশন ওয়ার্ড। তবে শয্যা সংকটে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেককে। পার্শ্ববর্তী অন্যান্য জেলার তুলনায় চুয়াডাঙ্গায় হামের সংক্রমণ কম মনে করছেন জেলার সিভিল সার্জন হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলর শুরুর দিকে চুয়াডাঙ্গায় হামের উপসর্গ দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১০ এপ্রিল জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হয়। বর্তমানে সেখানে ১৭ জন ভর্তি আছে। এতে ৭ জন রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সর্বশেষ গতকাল শনিবার (২ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ৮ মাস বয়সি আমির হামজা নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ালগাছি গ্রামের ইব্রাহীমের ছেলে। এর আগে হামের উপসর্গে গত ২৪ এপ্রিল জেলায় প্রথম মারা যায় ৯ মাস বয়সি হুমাইরা খাতুন। সে সদর উপজেলা মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের দীননাথপুর গ্রামের নিমতলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন ইকবাল আহমেদের মেয়ে।

সদর হাসপাতালের তথ্য মতে, আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৮০ জন। তাদের মধ্যে ৬৩ জন বাড়ি ফিরে গেছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সর্বশেষ মারা যাওয়া শিশু আমির হামজা হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৯ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। তাকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তবে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গতকাল শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়।

চুয়াডাঙ্গা জেলা হাসপাতালে হামের আইসোলেশন ওয়ার্ড। স্ট্রিম ছবি
চুয়াডাঙ্গা জেলা হাসপাতালে হামের আইসোলেশন ওয়ার্ড। স্ট্রিম ছবি

আইসোলেশন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, হামের উপসর্গ নিয়ে দিন দিন রোগী বাড়ছে। আক্রান্ত শিশুদের কান্নার আওয়াজে ভারি হয়ে উঠছে চারপাশ। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগী মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে। তবে চিকিৎসার কোনো ঘাটনি নেই জানিয়েছেন রোগীর স্বজনরা।

এক শিশুর মা রশিদা খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলের প্রথমে জ্বর-ঠান্ডা শুরু হয়। তারপর সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বেরোতে থাকে। হাসপাতালে এনে ভর্তির পর হাম ধরা পড়ে। এখন বাচ্চার চিকিৎসা চলছে।’

আরেক শিশুর মা কাকলি খাতুন বলেন, ‘তিন দিন আগে হাসপাতালে এনে আমার বাচ্চার ভর্তি করি। এখন ডাক্তার নিয়মিত দেখছে। তবে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে বেড সংকট।’

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে আছেন তানিয়া খাতুন নামে এক মা। তিনি বলেন, এখন ছেলের শরীরে লালচে ফুসকুড়ি কিছুটা কমেছে। কিন্তু বাচ্চার গায়ে জ্বর আছে। চিকিৎসা ভালোই চলছে।

হাসপাতালে দুজন শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) নাজমুস সাকিব বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি শিশু রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। নিয়মিত চিকিৎসায় অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছে। কিন্তু বর্তমানে হামের বিস্তার বাড়ছে। তবে সদর হাসপাতালে এর সব রকম চিকিৎসা চলমান আছে।

জেলার সিভিল সার্জন হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, অন্যান্য জেলার তুলনায় চুয়াডাঙ্গায় হামের প্রকোপ স্বাভাবিক আছে। হামের চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে হাম উপসর্গ ও আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছে। চলতি মাসের ১০ মে পর্যন্ত হামের টিকাদান কর্মসূচি চলবে।

সম্পর্কিত