হিসাব থেকে করপোরেট নেতৃত্ব: যে কারণে পড়বেন সিএমএ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ৫১
স্ট্রিম গ্রাফিক

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দক্ষ পেশাজীবীদের চাহিদা বাড়ছে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এমন কর্মী খুঁজছে, যারা শুধু হিসাব রক্ষণে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্যয় বিশ্লেষণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।

এসব লক্ষ্যকে সামনে রেখে শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের কাছে পেশাগত যোগ্যতা হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্সি (সিএমএ) ডিগ্রি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন দেশের একমাত্র সংবিধিবদ্ধ পেশাদার হিসাববিদ তৈরির প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)। দীর্ঘদিন ধরে এই খাতের জনবল তৈরিতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

জানা গেছে, বর্তমানে করপোরেট খাতে ফাইন্যান্স ও ম্যানেজমেন্ট পেশাজীবীদের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সিএমএ ডিগ্রির গুরুত্বও বেড়েছে। ব্যাংক, বিমা, টেলিকমিউনিকেশন, উৎপাদন খাত ও বহুজাতিক কোম্পানিতে এ ডিগ্রিধারীদের কাজের সুযোগ রয়েছে।

আইসিএমএবি’র সিএমএ প্রোগ্রামে তিনভাবে ভর্তির সুযোগ রয়েছে। এইচএসসি বা সমমান উত্তীর্ণরা ‘ইন্টারমিডিয়েট এন্ট্রি রুট’, স্নাতক ডিগ্রিধারীরা ‘গ্র্যাজুয়েট এন্ট্রি রুট’ এবং অন্যান্য পেশাগত যোগ্যতাসম্পন্নরা ‘প্রফেশনাল এন্ট্রি রুটের’ মাধ্যমে এখানে ভর্তি হতে পারেন। বাণিজ্যের পাশাপাশি বিজ্ঞান বা মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরাও এই পেশায় আসার সুযোগ পাচ্ছেন।

পুরো শিক্ষা কার্যক্রমটি পাঁচটি স্তরে সাজানো হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নলেজ, বিজনেস, অপারেশনাল, ম্যানেজমেন্ট এবং স্ট্র্যাটেজিক লেভেল। মোট ২১টি কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ধাপে ধাপে মৌলিক হিসাব থেকে শুরু করে করপোরেট ফাইন্যান্স, ট্যাক্সেশন ও নেতৃত্বের দক্ষতা প্রদান করা হয়। নিয়মিত পড়াশোনা করলে সাধারণত দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে এই ডিগ্রি অর্জন করা সম্ভব।

শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে আইসিএমএবি ‘সিএমএ স্পেস’ নামক একটি ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা লাইভ ক্লাস, প্রি-রেকর্ডেড লেকচার ও ডিজিটাল স্টাডি ম্যাটেরিয়াল ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন, যা বিশেষ করে ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবী পেশাজীবীদের জন্য সহায়ক হয়েছে। এছাড়া বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য এখানে বাধ্যতামূলক ‘আর্টিকেলশিপ’ বা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে।

পেশাগত এই কোর্সটিকে শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী করতে নানাবিধ উদ্যোগ নিয়েছে আইসিএমএবি। আইসিএমএবির শিক্ষা শাখার অতিরিক্ত পরিচালক আব্দুর রহিম মাহমুদ বলেন, ধাপে ধাপে ফি পরিশোধের পাশাপাশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি ফির ওপর ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত মেধা বৃত্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। এমনকি পূর্ববর্তী শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট শর্তে সর্বোচ্চ ছয়টি কোর্স পর্যন্ত মওকুফ বা ওয়েভার পাওয়ার সুবিধাও রয়েছে। ভর্তি নেওয়া হয় বছরে দুবার।

সিএমএ সম্পন্ন করার পর একজন পেশাজীবী দ্রুত করপোরেট ফাইন্যান্স, অডিট বা কর বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে পরবর্তীতে এসিএমএ (এসিএমএ) এবং এফসিএমএ (এফসিএমএ) সদস্যপদ অর্জনের সুযোগ থাকে, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়নে করপোরেট সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিএমএ পেশাজীবীরা আগামী দিনে আরও বড় ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয়:

পড়াশোনা
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত