তাই পরেরবার ক্লাসে বা মিটিংয়ে হাসি পেলে নিজেকে দোষ দেবেন না। মনে রাখবেন, মানুষের মস্তিষ্ক এভাবেই কাজ করে। আর এই হাসি আছে বলেই আমাদের জীবনটা এত সুন্দর আর আনন্দময়!
তামান্না আনজুম

অফিসে খুব গুরুত্বপূর্ণ মিটিং চলছে। পুরো ঘরে পিনপতন নীরবতা। ঠিক এমন সময় আপনার হয়তো পুরোনো কোনো জোকসের কথা মনে পড়ে গেল। অথবা পাশের সহকর্মী খুব নিচু স্বরে মজার কিছু একটা বলল। অন্যদিকে তাকিয়ে আপনি হাসি গিলে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা করলেন। কিন্তু কোনো লাভ হলো না। হঠাৎ আপনি শব্দ করে হেসে ফেললেন! আপনার পাশের সহকর্মীও হেসে কুটিকুটি হয়ে গেলেন।
ছোটবেলাতেও আমরা এমন পরিস্থিতিতে পড়েছি অনেকবার। কোনো বিষয় নিয়ে ক্লাসের সবাই কানাকানি করছে আর মিটিমিটি হাসছে। শিক্ষক সামনে থাকার পরও সেই হাসি থামানো যাচ্ছে না। একসময় পুরো ক্লাস ফেটে পড়ে অট্টহাসিতে। কেউ কেউ ছিল, যারা জানত না কেন হাসছে। সবাই হাসছে, তাই তারাও হাসছে।
পরিস্থিতিটা মজার হলেও কিছু সময় এটা অস্বস্তিকর, তাই না? কিন্তু এই অনাকাঙ্ক্ষিত হাসির জন্য কি আমরা পুরোপুরি দায়ী? বিজ্ঞান বলছে, হাসি সবসময় আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
গবেষকদের মতে, মানুষের হাসি মূলত দুই ধরনের হয়। প্রথমটি হলো ভদ্রতাসূচক হাসি। অন্যটি স্বতঃস্ফূর্ত হাসি বা অনিয়ন্ত্রিত হাসি।
জেনে অবাক হবেন, মস্তিষ্কের আলাদা আলাদা অংশ এই দুই ধরনের হাসি নিয়ন্ত্রণ করে। মস্তিষ্কের যে অংশ আমাদের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে, সেখান থেকেই ইচ্ছাকৃত হাসি আসে। যখন আপনি জোর করে হাসেন, তখন মূলত মস্তিষ্কের এই অংশগুলো কাজ করে।
অন্যদিকে, মস্তিষ্কের যে অংশগুলো আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে, সেই অংশগুলো স্বতঃস্ফূর্ত বা অনিয়ন্ত্রিত হাসির জন্ম দেয়। আপনার চিন্তাশীল মস্তিষ্ক ‘না হাসার’ সংকেত দেওয়ার আগেই এই ধরনের হাসি শুরু হয়ে যেতে পারে।
তবে এর সঙ্গে বিরল স্নায়বিক রোগ ‘সিউডোবালবার অ্যাফেক্ট’-কে মেলানো ঠিক হবে না। এই রোগে আক্রান্তরা কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ হাসেন বা কাঁদেন। ২০১৯ সালের বিখ্যাত ‘জোকার’ সিনেমায় মূল চরিত্রের আর্থার ফ্লেকের অকারণে হাসির দৃশ্যগুলো এই রোগ থেকেই অনুপ্রাণিত।
জার্মানির গটিংজেন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডা. অ্যান শ্যাকট বলেন, ‘হাসি চেপে রাখা যতই কঠিন হোক না কেন, এটা মূলত খুবই স্বাভাবিক, আবেগীয় এবং একই সঙ্গে সামাজিক প্রতিক্রিয়া।’
একা থাকার চেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে থাকলে আমাদের হাসির সম্ভাবনা প্রায় ৩০ গুণ বেড়ে যায়। হাসি সংক্রামক। ডা. শ্যাকট এবং তাঁর দল এই বিষয়ে গবেষণা করেছেন।

তাঁরা স্বেচ্ছাসেবকদের কিছু জোকস শোনান। এ সময় বিজ্ঞানীদের যন্ত্র দিয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের মুখের পেশির খুব সূক্ষ্ম নড়াচড়া মাপা হচ্ছিল। স্বেচ্ছাসেবকদের বলা হয়েছিল, যেকোনো উপায়ে হাসি আটকাতে। কেউ কেউ অন্য বিষয় নিয়ে ভেবে হাসি আটকানোর চেষ্টা করেন। প্রথমদিকে কৌশলগুলো একটু কাজে দিলেও পরে তা ব্যর্থ হয়। বিশেষ করে যখনই কেউ অন্য কারও হাসির শব্দ শুনছেন, তখনই তাঁর গম্ভীর থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। এর কারণ হিসেবে গবেষকরা অন্যের হাসির শব্দকেই দায়ী করছেন। এই পরিস্থিতে মস্তিষ্ক সংকেত দেয়, ‘আশেপাশে মজার কিছু হচ্ছে, তুমিও যোগ দাও!’
হাসি থামানো কঠিন হওয়ার আরেকটি বড় কারণ হলো মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’। হাসলে আমাদের মস্তিষ্ক এক ধরনের প্রাকৃতিক রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে। একে বলা হয় ‘এন্ডোজেনাস ওপিওড’। এর মধ্যে এন্ডোরফিন অন্যতম।
এই রাসায়নিক পদার্থ আমাদের শরীরে প্রশান্তি দেয়, মানসিক চাপ কমাতে ও হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে। যেহেতু শরীর ও মন এতে আরাম পাচ্ছে, তখন মস্তিষ্ক চায় আপনি আরও হাসুন।
খুব চেষ্টা করে হাসি আটকালে মাঝে মাঝে ফল উল্টো হয়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘রিবাউন্ড ইফেক্ট’। মানুষকে যখন কোনো নির্দিষ্ট কাজ বা চিন্তা চেপে রাখতে বলা হয়, তখন তা নিয়েই বেশি ভাবে। হাসির ক্ষেত্রেও ঠিক তাই ঘটে। আপনি যখন গম্ভীর থাকার জন্য জোর করে হাসি চেপে রাখেন, তখন মস্তিষ্কের ওপর চাপ পড়ে। একটু পর সেই হাসির মাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে।
তাই পরেরবার ক্লাসে বা মিটিংয়ে হাসি পেলে নিজেকে দোষ দেবেন না। মনে রাখবেন, মানুষের মস্তিষ্ক এভাবেই কাজ করে। আর এই হাসি আছে বলেই আমাদের জীবনটা এত সুন্দর আর আনন্দময়!

অফিসে খুব গুরুত্বপূর্ণ মিটিং চলছে। পুরো ঘরে পিনপতন নীরবতা। ঠিক এমন সময় আপনার হয়তো পুরোনো কোনো জোকসের কথা মনে পড়ে গেল। অথবা পাশের সহকর্মী খুব নিচু স্বরে মজার কিছু একটা বলল। অন্যদিকে তাকিয়ে আপনি হাসি গিলে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা করলেন। কিন্তু কোনো লাভ হলো না। হঠাৎ আপনি শব্দ করে হেসে ফেললেন! আপনার পাশের সহকর্মীও হেসে কুটিকুটি হয়ে গেলেন।
ছোটবেলাতেও আমরা এমন পরিস্থিতিতে পড়েছি অনেকবার। কোনো বিষয় নিয়ে ক্লাসের সবাই কানাকানি করছে আর মিটিমিটি হাসছে। শিক্ষক সামনে থাকার পরও সেই হাসি থামানো যাচ্ছে না। একসময় পুরো ক্লাস ফেটে পড়ে অট্টহাসিতে। কেউ কেউ ছিল, যারা জানত না কেন হাসছে। সবাই হাসছে, তাই তারাও হাসছে।
পরিস্থিতিটা মজার হলেও কিছু সময় এটা অস্বস্তিকর, তাই না? কিন্তু এই অনাকাঙ্ক্ষিত হাসির জন্য কি আমরা পুরোপুরি দায়ী? বিজ্ঞান বলছে, হাসি সবসময় আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
গবেষকদের মতে, মানুষের হাসি মূলত দুই ধরনের হয়। প্রথমটি হলো ভদ্রতাসূচক হাসি। অন্যটি স্বতঃস্ফূর্ত হাসি বা অনিয়ন্ত্রিত হাসি।
জেনে অবাক হবেন, মস্তিষ্কের আলাদা আলাদা অংশ এই দুই ধরনের হাসি নিয়ন্ত্রণ করে। মস্তিষ্কের যে অংশ আমাদের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে, সেখান থেকেই ইচ্ছাকৃত হাসি আসে। যখন আপনি জোর করে হাসেন, তখন মূলত মস্তিষ্কের এই অংশগুলো কাজ করে।
অন্যদিকে, মস্তিষ্কের যে অংশগুলো আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে, সেই অংশগুলো স্বতঃস্ফূর্ত বা অনিয়ন্ত্রিত হাসির জন্ম দেয়। আপনার চিন্তাশীল মস্তিষ্ক ‘না হাসার’ সংকেত দেওয়ার আগেই এই ধরনের হাসি শুরু হয়ে যেতে পারে।
তবে এর সঙ্গে বিরল স্নায়বিক রোগ ‘সিউডোবালবার অ্যাফেক্ট’-কে মেলানো ঠিক হবে না। এই রোগে আক্রান্তরা কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ হাসেন বা কাঁদেন। ২০১৯ সালের বিখ্যাত ‘জোকার’ সিনেমায় মূল চরিত্রের আর্থার ফ্লেকের অকারণে হাসির দৃশ্যগুলো এই রোগ থেকেই অনুপ্রাণিত।
জার্মানির গটিংজেন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডা. অ্যান শ্যাকট বলেন, ‘হাসি চেপে রাখা যতই কঠিন হোক না কেন, এটা মূলত খুবই স্বাভাবিক, আবেগীয় এবং একই সঙ্গে সামাজিক প্রতিক্রিয়া।’
একা থাকার চেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে থাকলে আমাদের হাসির সম্ভাবনা প্রায় ৩০ গুণ বেড়ে যায়। হাসি সংক্রামক। ডা. শ্যাকট এবং তাঁর দল এই বিষয়ে গবেষণা করেছেন।

তাঁরা স্বেচ্ছাসেবকদের কিছু জোকস শোনান। এ সময় বিজ্ঞানীদের যন্ত্র দিয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের মুখের পেশির খুব সূক্ষ্ম নড়াচড়া মাপা হচ্ছিল। স্বেচ্ছাসেবকদের বলা হয়েছিল, যেকোনো উপায়ে হাসি আটকাতে। কেউ কেউ অন্য বিষয় নিয়ে ভেবে হাসি আটকানোর চেষ্টা করেন। প্রথমদিকে কৌশলগুলো একটু কাজে দিলেও পরে তা ব্যর্থ হয়। বিশেষ করে যখনই কেউ অন্য কারও হাসির শব্দ শুনছেন, তখনই তাঁর গম্ভীর থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। এর কারণ হিসেবে গবেষকরা অন্যের হাসির শব্দকেই দায়ী করছেন। এই পরিস্থিতে মস্তিষ্ক সংকেত দেয়, ‘আশেপাশে মজার কিছু হচ্ছে, তুমিও যোগ দাও!’
হাসি থামানো কঠিন হওয়ার আরেকটি বড় কারণ হলো মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’। হাসলে আমাদের মস্তিষ্ক এক ধরনের প্রাকৃতিক রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে। একে বলা হয় ‘এন্ডোজেনাস ওপিওড’। এর মধ্যে এন্ডোরফিন অন্যতম।
এই রাসায়নিক পদার্থ আমাদের শরীরে প্রশান্তি দেয়, মানসিক চাপ কমাতে ও হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে। যেহেতু শরীর ও মন এতে আরাম পাচ্ছে, তখন মস্তিষ্ক চায় আপনি আরও হাসুন।
খুব চেষ্টা করে হাসি আটকালে মাঝে মাঝে ফল উল্টো হয়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘রিবাউন্ড ইফেক্ট’। মানুষকে যখন কোনো নির্দিষ্ট কাজ বা চিন্তা চেপে রাখতে বলা হয়, তখন তা নিয়েই বেশি ভাবে। হাসির ক্ষেত্রেও ঠিক তাই ঘটে। আপনি যখন গম্ভীর থাকার জন্য জোর করে হাসি চেপে রাখেন, তখন মস্তিষ্কের ওপর চাপ পড়ে। একটু পর সেই হাসির মাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে।
তাই পরেরবার ক্লাসে বা মিটিংয়ে হাসি পেলে নিজেকে দোষ দেবেন না। মনে রাখবেন, মানুষের মস্তিষ্ক এভাবেই কাজ করে। আর এই হাসি আছে বলেই আমাদের জীবনটা এত সুন্দর আর আনন্দময়!

মনে রাখবেন, টাকা জমানো আর জীবন উপভোগ করার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। নির্দিষ্ট সীমা মেনে চললে আজকের দিনটাও সুন্দর হবে। আবার ভবিষ্যতের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।
৫ ঘণ্টা আগে
অনেক সময় আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে, বিড়াল কি মানুষের মতো অতীত রোমন্থন করতে পারে? নাকি তাদের স্মৃতি কেবল খাবার আর বাসস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? বিজ্ঞান বলছে, বিড়ালের স্মৃতিশক্তি আমরা যতটা ভাবি, তার চেয়েও অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী।
১ দিন আগে
কখনো ভেবে দেখেছেন, আপনার সাধারণ জীবনযাপনের সঙ্গে দুনিয়া কাঁপানো সুপারস্টারদের দারুণ একটি মিল রয়েছে? শুনতে অবাক লাগলেও মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে কথাটি একদম সত্য। ক্যালিফোর্নিয়ার মনোবিজ্ঞানী রবার্ট পাফ তাঁর প্রবন্ধে এমন কথাই বলেছেন। আমাদের সবার জীবনেই ‘অদৃশ্য দর্শক’ বা ‘ইনভিজিবল অডিয়েন্স’ রয়েছে, যা
১ দিন আগে
সম্প্রতি ওমানে গাড়ির ভেতরে চার বাংলাদেশি ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনাতে ময়নাতদন্তের পর কার্বন মনোক্সাইডে শ্বাস গ্রহণকে কারণ হিসেবে নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ।
২ দিন আগে