সাংবাদিক আনিস আলমগীরের স্থায়ী জামিন, বিদেশে যেতে বাধা নেই

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬, ১৭: ০৩
আনিস আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে স্থায়ী জামিন দিয়েছেন আদালত। এর ফলে তাঁর বিদেশে যেতে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না। তবে ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন নাকচ করে মামলার ধার্য তারিখে তাঁকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন। আনিস আলমগীরের আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার মামলার নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজিরা দেন আনিস আলমগীর। এ সময় তাঁর পক্ষে স্থায়ী জামিন, ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ করে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা এবং যেকোনো সময় বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে তিনটি পৃথক আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদনটি নামঞ্জুর করলেও বাকি দুটি আবেদন মঞ্জুর করেন।

চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলাটি করে দুদক। পরে ২৮ জানুয়ারি তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকার স্থাবর এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার অস্থাবরসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদের তথ্য মিলেছে। পারিবারিক ও অন্যান্য ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়সহ তাঁর মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা।

এর বিপরীতে তাঁর বৈধ আয়ের উৎস থেকে পাওয়া যায় ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। অর্থাৎ তাঁর ঘোষিত ও গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া গেছে, যা তাঁর মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ। এটি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ বলে দাবি করেছে দুদক।

এর আগে গত বছরের (২০২৫) ১৪ ডিসেম্বর রাত আটটার দিকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরে 'জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স' নামের একটি সংগঠনের সদস্য আরিয়ান আহমেদ রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, ফ্যাশন মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং উপস্থাপক ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজকেও আসামি করা হয়।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ওই মামলায় আনিস আলমগীরকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাবন্দী থাকা অবস্থায় ২৮ জানুয়ারি তাঁকে দুদকের নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। পরে আইনি লড়াই শেষে গত ৫ মার্চ সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় এবং ১১ মার্চ দুদকের মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হন তিনি।

সম্পর্কিত