আমেরিকায় প্রবেশ নিষেধ–১২
ভূ-পর্যটক তারেক অণুর ধারাবাহিক ভ্রমণ-কাহিনি ‘আমেরিকায় প্রবেশ নিষেধ’-এর ১৩তম পর্ব প্রকাশিত হলো আজ। চোখ রাখুন বাংলা স্ট্রিমের ফিচার পাতায়।
তারেক অণু

লিটল বিভার হ্রদের পাশ দিয়ে সরু পায়ে চলা ট্রেইল চলে গেছে বনের গহীনে, সুপিরিয়র হ্রদের দিকে। মাঝে মাঝে জলা জায়গায় চলার জন্য সরু কাঠের তক্তা বিছিয়ে রাখা হয়েছে।
আর সেই জায়গাগুলো যে মশার আসল খনি, সেটা সেখানে ঢোকামাত্রই টের পেলাম! দলের সবার উদ্বাহু শাপশাপান্ত আর মশা মারার চড়-চাপড় শব্দে! এক মুহূর্তের জন্য জিরোনোর উপায় নেই, মশার দল যেন কামড়ে মাংস তুলে নেবে! তবে রক্ষে এখানকার মশার কামড়ে ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়া হয় না।

পথে কয়েকটা পাথরের গুহা দেখে মনে হলো এগুলো বুঝি কালো ভালুকের আস্তানা! প্রায় তিন কিলোমিটার পথ, কোথাও না থেমে দুলকি চালে হাঁটা আর আড়-দৌড় মিলিয়ে দেখা মিলল সুপিরিয়র হ্রদের মিহি বালির সৈকত আর দিগন্ত ছোঁয়া জলরাশির।
সেই সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হওয়ার চেয়েও বড় চিন্তা ছিল মশার হাত থেকে বাঁচা। ভেবেছিলাম রোদেলা সৈকতে গেলে বুঝি নিস্তার পাব, তাই ব্যাগ-বোঁচকা ফেলে বালুর দিকে দৌড় দিলাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে পড়লাম যেন তপ্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত আগুনে! সেখানে বিপদ আরও বেশি!

মাছি! মাছি! মাছি!
এরা আমাদের চেনা নিরীহ মাছি নয়, বরং ধারালো চোয়াল দিয়ে মাংস কামড়ে ধরা এক সন্ত্রাসী মাছির দল। মশাকে তাও চড়-চাপড় দিয়ে সামলানো যাচ্ছিল, কিন্তু এই মাছিদের সাথে আর পারা গেল না। দ্রুত ক্যাম্পিং এলাকায় গিয়ে বড় একটা তাঁবু খাটিয়ে ফেললাম, তবে উপরের ঢাকাটা দিলাম না। এতে জালের ভেতর দিয়ে বাইরের নিসর্গ উপভোগ করাও যাবে, মশাদের হুল থেকে রক্ষাও পাওয়া যাবে!

জন ডেনভারের সেই বিখ্যাত ‘Annie’s Song’ গানটা আমাদের সবার খুব প্রিয়।
‘You fill up my senses
Like a night in a forest
Like the mountains in springtime
Like a walk in the rain
Like a storm in the desert
Like a sleepy blue ocean’
গানের কথাগুলো যেন এখানে একদম মিলে গেল। বিশাল নীল লেক তো শান্ত মহাসাগরের মতোই। এখানে বসন্তকালে এলে ম্যাপল রাঙা পাহাড় দেখা যেত, আর বনে তো রাত কাটাচ্ছিই।

মিশিগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে অন্য অনেক অঙ্গরাজ্য থেকেও পর্যটকেরা এসেছেন। আমাদের মতো তাঁরাও তিতিবিরক্ত মশা-মাছি নিয়ে। গ্রেট লেকের বালির সৈকত আর অগুনতি মসৃণ নুড়িপাথরকে সাক্ষী রেখে সবাই মিলে যেন শিশির পড়ার মতোই নিঃশব্দে এক সন্ধ্যা নামালাম।
তাঁবুর জাল দিয়ে আকাশের জ্বলজ্বলে অনন্ত নক্ষত্রবীথি দেখা, ম্যাপলের সরসর বাতাসের হিমহিম অনুভূতি, আঁধার ঘেরা বনের ছমছমে আবহ আর হ্রদের সৈকতে আছড়ে পড়া তরঙ্গ ধ্বনি—সব মিলিয়ে খুব ভালো একটা স্মৃতি হয়ে থাকল মনে।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই তাঁবু গুটিয়ে আবার তিন কিলোমিটার হেঁটে গাড়ির কাছে ফিরলাম। প্রথমেই চলল পেটপুজো। ‘ভালুক-ফাঁদ’ নামের ৬০ বছরের পুরোনো এক জমকালো দোকানে বেশ সস্তাতেই জম্পেশ খাবার পাওয়া গেল। দোকানটা অনেকটা জাদুঘরের মতো; চারপাশে দোকানের ইতিহাস, শিকারিদের ছবি, কালো ভালুকের চামড়া, হরিণের মাথা, র্যাটল স্নেকের ঝুনঝুনি আর বিভারের দেহ খুব সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা।
খাওয়া শেষে তিন-তিন কাপ কফি খেয়েই সোজা ট্রেইলে হাঁটা শুরু করলাম। ১৭ কিলোমিটার হেঁটে, বিশাল এক বৃত্তাকার পথ ধরে আমরা আবার ফিরে আসব এই গাড়ি রাখার জায়গায়।

তখন কি আর জানতাম যে, এই ট্রেইলটাই হবে আমার জীবনের এ পর্যন্ত হাঁটা সবচেয়ে চমৎকার পথ! যেখানে আছে ঘন সবুজ বন, নীল হ্রদ, পান্না সবুজ জল, হরেক পাথরের মেলা, সাদা বালির সৈকত, পাখির গান, জলপ্রপাত আর নদীর কলতান। যদিও সেই নদীর নাম মশা নদী! হাহা! তবে সেখানে আগের দিনের তুলনায় লাখ ভাগের একভাগও মশা ছিল না।
আরও দেখলাম প্রাকৃতিক কারণে বিচিত্র রঙে রাঙানো বিশাল সব পাথুরে দেয়াল, যার খাঁজে খাঁজে গাংচিলেরা ডিম পেড়েছে। ছিল রূপকথার মতো দেখতে কিছু প্রাচীন গাছও।

তার মধ্যে সবচেয়ে নামকরা হলো ‘চ্যাপেল রক’-এর ওপর বেড়ে ওঠা সেই শতবর্ষী পাইন গাছটি। পাথরটির নিজের বয়স অবশ্য ৫ কোটি বছর! এই গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক নিদর্শনটি এখনকার আমেরিকান সিকি ডলারেও (কোয়ার্টার ডলারে) ব্যবহার করা হয়েছে।
১৭ কিলোমিটার পথ হাঁটা শেষে যখন ফিরলাম, মনটা তখন কেবল আনন্দে ভরা। আমাদের এখনকার গন্তব্য উইসকন্সিন অঙ্গরাজ্যের রাজধানী ম্যাডিসন।

লিটল বিভার হ্রদের পাশ দিয়ে সরু পায়ে চলা ট্রেইল চলে গেছে বনের গহীনে, সুপিরিয়র হ্রদের দিকে। মাঝে মাঝে জলা জায়গায় চলার জন্য সরু কাঠের তক্তা বিছিয়ে রাখা হয়েছে।
আর সেই জায়গাগুলো যে মশার আসল খনি, সেটা সেখানে ঢোকামাত্রই টের পেলাম! দলের সবার উদ্বাহু শাপশাপান্ত আর মশা মারার চড়-চাপড় শব্দে! এক মুহূর্তের জন্য জিরোনোর উপায় নেই, মশার দল যেন কামড়ে মাংস তুলে নেবে! তবে রক্ষে এখানকার মশার কামড়ে ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়া হয় না।

পথে কয়েকটা পাথরের গুহা দেখে মনে হলো এগুলো বুঝি কালো ভালুকের আস্তানা! প্রায় তিন কিলোমিটার পথ, কোথাও না থেমে দুলকি চালে হাঁটা আর আড়-দৌড় মিলিয়ে দেখা মিলল সুপিরিয়র হ্রদের মিহি বালির সৈকত আর দিগন্ত ছোঁয়া জলরাশির।
সেই সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হওয়ার চেয়েও বড় চিন্তা ছিল মশার হাত থেকে বাঁচা। ভেবেছিলাম রোদেলা সৈকতে গেলে বুঝি নিস্তার পাব, তাই ব্যাগ-বোঁচকা ফেলে বালুর দিকে দৌড় দিলাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে পড়লাম যেন তপ্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত আগুনে! সেখানে বিপদ আরও বেশি!

মাছি! মাছি! মাছি!
এরা আমাদের চেনা নিরীহ মাছি নয়, বরং ধারালো চোয়াল দিয়ে মাংস কামড়ে ধরা এক সন্ত্রাসী মাছির দল। মশাকে তাও চড়-চাপড় দিয়ে সামলানো যাচ্ছিল, কিন্তু এই মাছিদের সাথে আর পারা গেল না। দ্রুত ক্যাম্পিং এলাকায় গিয়ে বড় একটা তাঁবু খাটিয়ে ফেললাম, তবে উপরের ঢাকাটা দিলাম না। এতে জালের ভেতর দিয়ে বাইরের নিসর্গ উপভোগ করাও যাবে, মশাদের হুল থেকে রক্ষাও পাওয়া যাবে!

জন ডেনভারের সেই বিখ্যাত ‘Annie’s Song’ গানটা আমাদের সবার খুব প্রিয়।
‘You fill up my senses
Like a night in a forest
Like the mountains in springtime
Like a walk in the rain
Like a storm in the desert
Like a sleepy blue ocean’
গানের কথাগুলো যেন এখানে একদম মিলে গেল। বিশাল নীল লেক তো শান্ত মহাসাগরের মতোই। এখানে বসন্তকালে এলে ম্যাপল রাঙা পাহাড় দেখা যেত, আর বনে তো রাত কাটাচ্ছিই।

মিশিগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে অন্য অনেক অঙ্গরাজ্য থেকেও পর্যটকেরা এসেছেন। আমাদের মতো তাঁরাও তিতিবিরক্ত মশা-মাছি নিয়ে। গ্রেট লেকের বালির সৈকত আর অগুনতি মসৃণ নুড়িপাথরকে সাক্ষী রেখে সবাই মিলে যেন শিশির পড়ার মতোই নিঃশব্দে এক সন্ধ্যা নামালাম।
তাঁবুর জাল দিয়ে আকাশের জ্বলজ্বলে অনন্ত নক্ষত্রবীথি দেখা, ম্যাপলের সরসর বাতাসের হিমহিম অনুভূতি, আঁধার ঘেরা বনের ছমছমে আবহ আর হ্রদের সৈকতে আছড়ে পড়া তরঙ্গ ধ্বনি—সব মিলিয়ে খুব ভালো একটা স্মৃতি হয়ে থাকল মনে।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই তাঁবু গুটিয়ে আবার তিন কিলোমিটার হেঁটে গাড়ির কাছে ফিরলাম। প্রথমেই চলল পেটপুজো। ‘ভালুক-ফাঁদ’ নামের ৬০ বছরের পুরোনো এক জমকালো দোকানে বেশ সস্তাতেই জম্পেশ খাবার পাওয়া গেল। দোকানটা অনেকটা জাদুঘরের মতো; চারপাশে দোকানের ইতিহাস, শিকারিদের ছবি, কালো ভালুকের চামড়া, হরিণের মাথা, র্যাটল স্নেকের ঝুনঝুনি আর বিভারের দেহ খুব সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা।
খাওয়া শেষে তিন-তিন কাপ কফি খেয়েই সোজা ট্রেইলে হাঁটা শুরু করলাম। ১৭ কিলোমিটার হেঁটে, বিশাল এক বৃত্তাকার পথ ধরে আমরা আবার ফিরে আসব এই গাড়ি রাখার জায়গায়।

তখন কি আর জানতাম যে, এই ট্রেইলটাই হবে আমার জীবনের এ পর্যন্ত হাঁটা সবচেয়ে চমৎকার পথ! যেখানে আছে ঘন সবুজ বন, নীল হ্রদ, পান্না সবুজ জল, হরেক পাথরের মেলা, সাদা বালির সৈকত, পাখির গান, জলপ্রপাত আর নদীর কলতান। যদিও সেই নদীর নাম মশা নদী! হাহা! তবে সেখানে আগের দিনের তুলনায় লাখ ভাগের একভাগও মশা ছিল না।
আরও দেখলাম প্রাকৃতিক কারণে বিচিত্র রঙে রাঙানো বিশাল সব পাথুরে দেয়াল, যার খাঁজে খাঁজে গাংচিলেরা ডিম পেড়েছে। ছিল রূপকথার মতো দেখতে কিছু প্রাচীন গাছও।

তার মধ্যে সবচেয়ে নামকরা হলো ‘চ্যাপেল রক’-এর ওপর বেড়ে ওঠা সেই শতবর্ষী পাইন গাছটি। পাথরটির নিজের বয়স অবশ্য ৫ কোটি বছর! এই গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক নিদর্শনটি এখনকার আমেরিকান সিকি ডলারেও (কোয়ার্টার ডলারে) ব্যবহার করা হয়েছে।
১৭ কিলোমিটার পথ হাঁটা শেষে যখন ফিরলাম, মনটা তখন কেবল আনন্দে ভরা। আমাদের এখনকার গন্তব্য উইসকন্সিন অঙ্গরাজ্যের রাজধানী ম্যাডিসন।

ঢাকার রাস্তার চেহারা এখন বদলে গেছে। সন্ধ্যা হলেই দেখা যায় মোড়ে মোড়ে ছোট বা মাঝারি সাইজের ঝলমলে আলোয় সাজানো খাবারে ঠাসা ‘কার্ট’। কোনোটি থেকে কাবাবের ধোঁয়া উড়ে আসছে আবার কোথাও বানানো হচ্ছে লাইভ পিৎজা।
২ ঘণ্টা আগে
অফিস শেষে কফির মগে চুমুক দিয়ে ফোন স্ক্রল করতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে অন্যের রঙিন 'এস্থেটিক' জীবন। বিলাসবহুল ট্রিপ আর দামি প্রসাধনী দেখে কি আপনার নিজের জীবনটা পানসে লাগছে? 'সেলফ-লাভ' বা নিজেকে ভালোবাসার এই আধুনিক ট্রেন্ড কি সত্যিই মুক্তি?
১ দিন আগে
ইগোর কাজ হলো মানুষের মনের ভেতরে নিজের সম্পর্কে একটি কাল্পনিক শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা তৈরি করা। ইগো মানুষকে সারাক্ষণ বোঝাতে থাকে যে সে-ই সবচেয়ে বুদ্ধিমান, সে সবসময় সঠিক এবং তার চিন্তাভাবনাই সবার চেয়ে উন্নত। ইগোসম্পন্ন মানুষ নিজেকে এতটাই নিখুঁত মনে করে যে, সে অন্যের কোনো যৌক্তিক কথা বা পরামর্শ গ্রহণ করতে প
১ দিন আগে
আটলান্টিক মহাসাগরে ঘুরতে বেরিয়েছিল প্রমোদতরী ‘এমভি হন্ডিয়াস’। আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা এই জাহাজে ছড়িয়ে পড়েছে হান্টাভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, ভাইরাসের সংক্রমণে ইতিমধ্যে তিন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
২ দিন আগে