শপথ নিলেন নুসরাত তাবাসসুম, কাটেনি মনিরা শারমিনের আইনি জটিলতা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ১৯: ২২
নুসরাত তাবাসসুম এবং মনিরা শারমিন। স্ট্রিম গ্রাফিক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম শপথ নিয়েছেন। আজ বুধবার (৬ মে) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তাঁর কার্যালয়ে নুসরাত তাবাসসুমকে শপথবাক্য পাঠ করান।

নুসরাত তাবাসসুমের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে ৫০ জন নারী সদস্য সংসদীয় কার্যক্রমে যুক্ত হলেও আইনি জটিলতা এখনো কাটেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের আরেক প্রার্থী মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল জারির ফলে শেষ আসনটির ভাগ্য এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম গত ২২ এপ্রিল নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পরে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় শুরুতে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরে তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। হাইকোর্টের নির্দেশে তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে ইসি এবং ৫ মে তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।

জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন মোট ৫০টি। এর মধ্যে গত রোববার ৪৯ জন নির্বাচিত সদস্যের গেজেট প্রকাশিত হয় এবং তাঁরা শপথ নেন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের আনুপাতিক হারে ১৩টি আসন পাওয়ার কথা ছিল, তবে জোটের প্রার্থী সংখ্যা ছিল ১৪ জন। এর মধ্যে মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় এবং নুসরাত তাবাসসুমের প্রার্থিতা বৈধ হওয়ায় জোটের ১৩টি সংরক্ষিত আসন পূর্ণ হয়।

জোটের পদ পূর্ণ হলেও মনিরা শারমিনকে ১১-দলীয় জোট প্রথমে মনোনয়ন দিয়েছিল। তাঁর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় সেই সুযোগ পান এই জোটেরই আরেক প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুম। এর আগে মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ হিসেবে ইসি জানিয়েছিল, সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর তিন বছর অতিবাহিত না হওয়ায় তিনি আরপিও অনুযায়ী অযোগ্য।

তবে আজ বুধবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। মনিরা শারমিনের পক্ষে আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান আদালতে যুক্তি দেন যে, তিনি ব্যাংকের বিধি মেনে বেতন জমা দিয়ে চাকরি ছেড়েছেন এবং আরপিওর তিন বছরের বিধিনিষেধ মূলত প্রভাবশালী পদের ব্যক্তিদের জন্য। সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটার যেহেতু সংসদ সদস্যেরা, তাই এখানে কোনো প্রার্থীর সাধারণ ভোটারের ওপর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই।

আদালতের রুল জারির পর মনিরা শারমিন বলেন, ‘আইনটি আমলা ও আইজিপির মতো পদের জন্য তৈরি হয়েছিল। ব্যাংকের একজন সাধারণ কর্মকর্তার ক্ষেত্রে এই আইন প্রয়োগ করে আমাকে শপথ থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।’ নুসরাত তাবাসসুম শপথ নেওয়ায় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি আসন এখন পূর্ণ হলো। তবে প্রথম মনোনীত প্রার্থী মনিরা শারমিন এখনো তাঁর আইনি লড়াই অব্যাহত রেখেছেন।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত