ছোটরা খুব বেশি ভয়ের কিছু দেখলে সাময়িকভাবে কিছুটা ভয় পেতে পারে। এটাই স্বাভাবিক। হয়তো হঠাৎ অন্ধকারে ভয় পাবে। অচেনা মানুষ দেখলে ঘাবড়ে যাবে। ঘুমেও সমস্যা হতে পারে। হয়তো মাঝে মাঝে দুঃস্বপ্নও দেখবে।
তামান্না আনজুম

আপনার সন্তান কি আজকাল কার্টুন দেখতে চাইছে না? ‘মিকি মাউস’ ছেড়ে হয়তো ‘জিটিএ ৫’ বা ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর মতো গেম বা সিরিজের দিকে ঝুঁকছে। বাবা-মা হিসেবে এমন পরিস্থিতিতে পড়া খুব স্বাভাবিক।
শিশুরা বড় হচ্ছে, তাদের কৌতূহলও বাড়ছে। হয়তো এখন কার্টুন ছেড়ে নতুন কিছু দেখতে চায়। এতে চিন্তায় পড়ে যান অভিভাবকরা। এসব কি সন্তানের ক্ষতি করছে!
আমরা অনেক সময় রোলারকাস্টারে চড়ি। ভূতের বাড়ি রেস্টুরেন্টে যাই। কারণ ভয় পাওয়ার মাঝেও এক ধরনের উত্তেজনা থাকে। স্নায়ুবিজ্ঞানের ভাষায় এটা এক ধরনের ‘অ্যাড্রেনালিন রাশ’। শিশুরাও এমন উত্তেজনা উপভোগ করে।
গবেষকরা এমনিতে স্ক্রিনের নেতিবাচক প্রভাব বা ক্ষতিকে দুই ভাগে ভাগ করেন। একটি হলো সাময়িক ক্ষতি। যেমন রাতে অন্ধকারে একটু ভয় পাওয়া বা দুঃস্বপ্ন দেখা। অন্যটি দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ক্ষতি। যেমন চরম অ্যাংজাইটি বা উদ্বেগ।
স্ক্রিন টাইম বা হরর সিনেমা-গেম নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। এসব গবেষণা নিয়ে বিতর্কও আছে। তবে বেশকিছু গবেষণা বলছে, পরিমিত মাত্রায় এসব কন্টেন্ট সাধারণত শিশুদের স্থায়ী ক্ষতি করে না!
প্রযুক্তির প্রসারে শিশুরা এখন চাইলেই যেকোনো ধরনের কন্টেন্ট দেখতে পারে। আপনি মানা করলে তারা হয়তো বলে, ‘বন্ধুরা সবাই দেখছে, আমি কেন পারব না?’ অথবা, ‘বড় ভাই তো দেখছে, আমাকে কেন বকা দিচ্ছ?’ তখন আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ বন্ধুদের দল থেকে বাদ পড়ার ভয়ও শিশুদের মনে প্রভাব ফেলে। আবার বাবা-মা হিসেবে আমাদের নিজস্ব মূল্যবোধও থাকে। আমরা হয়তো চাই না আমাদের সন্তান অতিরিক্ত সহিংসতা বা ভীতিকর সিনেমা দেখুক।
এ কারণে সন্তানের সুস্থতা নিয়ে বাবা-মায়েদের দুশ্চিন্তা হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে গবেষকরা বলছেন অতিরিক্ত মাত্রায় না দেখলে এসব কনটেন্টের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বেশি না ভাবলেও চলবে। চার বছরের কোনো শিশু সারাদিন হরর গেম বা ভয়ের সিনেমা নিয়ে পড়ে থাকলে চিন্তা হবেই। কিন্তু স্বাভাবিক সীমার মধ্যে থেকে একটু-আধটু হরর সিনেমা দেখা বা গেম খেললে তেমন ভয়ের কিছু নেই।
ছোটরা খুব বেশি ভয়ের কিছু দেখলে সাময়িকভাবে কিছুটা ভয় পেতে পারে। এটাই স্বাভাবিক। হয়তো হঠাৎ অন্ধকারে ভয় পাবে। অচেনা মানুষ দেখলে ঘাবড়ে যাবে। ঘুমেও সমস্যা হতে পারে। হয়তো মাঝে মাঝে দুঃস্বপ্নও দেখবে।
এসব দেখে ছোটখাটো কিছু সমস্যা হতে পারে ঠিকই। তবে বড় বা স্থায়ী কোনো ক্ষতির আশঙ্কা খুবই সামান্য।
আধুনিক যুগে সন্তানদের পুরোপুরি স্ক্রিন থেকে দূরে রাখা সম্ভব নয়। তবে কিছু কৌশল মেনে চললে পরিস্থিতি সামলানো কিছুটা সহজ হয়।
প্রথমে গেম বা সিনেমার রেটিং দেখুন। বয়স অনুযায়ী কন্টেন্ট বাছাই করা জরুরি। একই রেটিংয়ের দুটি সিনেমার মাঝেও অনেক পার্থক্য থাকতে পারে। তাই নিজে একটু খোঁজ নিন। শুধু ‘না’ বলবেন না। কেন না বলছেন, তা বুঝিয়ে বলুন। সন্তানের অনুভূতিকে সম্মান দিন। বলুন যে আপনি তাদের নিয়ে চিন্তিত। সব সময় ‘হ্যাঁ অথবা না’ নীতিতে চলবেন না।
একসঙ্গে সিনেমা দেখার সময় ভীতিকর দৃশ্য সামনে এলে চোখ ঢেকে দিন। বা সেই অংশটুকু কেটে দিন। পুরো সিনেমা বন্ধ করার দরকার নেই। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই নিয়ম শিথিল করতে পারেন। আবার কিশোর বয়সে ছোটদের কার্টুন দেখতে বাধ্য করাটা উল্টো ক্ষতি করতে পারে। বুঝতে দিন বাস্তবের সঙ্গে স্ক্রিনের পার্থক্য কী।
সিনেমা একা দেখতে না দিয়ে, আপনিও বসুন। দেখুন এসব সিনেমায় কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। বারবার চোখ ঢাকছে? রাতে আলো জ্বালিয়ে ঘুমাতে চাইছে? তাহলে বুঝতে হবে কন্টেন্টটি বাচ্চার জন্য বেশি ভীতিকর হয়ে গেছে। একটি বিষয় মনে রাখবেন, প্রতিটি শিশুই আলাদা। একজন বাচ্চা যা দেখে ভয় পায়, অন্যজন হয়তো তা দেখে হাসে। তাদের নিজেদের পছন্দ বুঝতে সাহায্য করুন।
প্যারেন্টিং সহজ নয়। আবার এখানে নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা করা না করাই ভালো। বরং ‘যথেষ্ট ভালো’ হওয়ার চেষ্টা করুন। নিজের প্যারেন্টিংয়ের ওপর আস্থা রাখুন। বাচ্চাদের সঙ্গে সহজ সম্পর্ক তৈরি করুন। তাহলে দেখবেন, ভয়ের সিনেমা বা গেম আপনার সন্তানের কোনো গুরুতর ক্ষতি করতে পারবে না।
তথ্যসূত্র: সাইকোলজি টুডে

আপনার সন্তান কি আজকাল কার্টুন দেখতে চাইছে না? ‘মিকি মাউস’ ছেড়ে হয়তো ‘জিটিএ ৫’ বা ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর মতো গেম বা সিরিজের দিকে ঝুঁকছে। বাবা-মা হিসেবে এমন পরিস্থিতিতে পড়া খুব স্বাভাবিক।
শিশুরা বড় হচ্ছে, তাদের কৌতূহলও বাড়ছে। হয়তো এখন কার্টুন ছেড়ে নতুন কিছু দেখতে চায়। এতে চিন্তায় পড়ে যান অভিভাবকরা। এসব কি সন্তানের ক্ষতি করছে!
আমরা অনেক সময় রোলারকাস্টারে চড়ি। ভূতের বাড়ি রেস্টুরেন্টে যাই। কারণ ভয় পাওয়ার মাঝেও এক ধরনের উত্তেজনা থাকে। স্নায়ুবিজ্ঞানের ভাষায় এটা এক ধরনের ‘অ্যাড্রেনালিন রাশ’। শিশুরাও এমন উত্তেজনা উপভোগ করে।
গবেষকরা এমনিতে স্ক্রিনের নেতিবাচক প্রভাব বা ক্ষতিকে দুই ভাগে ভাগ করেন। একটি হলো সাময়িক ক্ষতি। যেমন রাতে অন্ধকারে একটু ভয় পাওয়া বা দুঃস্বপ্ন দেখা। অন্যটি দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ক্ষতি। যেমন চরম অ্যাংজাইটি বা উদ্বেগ।
স্ক্রিন টাইম বা হরর সিনেমা-গেম নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। এসব গবেষণা নিয়ে বিতর্কও আছে। তবে বেশকিছু গবেষণা বলছে, পরিমিত মাত্রায় এসব কন্টেন্ট সাধারণত শিশুদের স্থায়ী ক্ষতি করে না!
প্রযুক্তির প্রসারে শিশুরা এখন চাইলেই যেকোনো ধরনের কন্টেন্ট দেখতে পারে। আপনি মানা করলে তারা হয়তো বলে, ‘বন্ধুরা সবাই দেখছে, আমি কেন পারব না?’ অথবা, ‘বড় ভাই তো দেখছে, আমাকে কেন বকা দিচ্ছ?’ তখন আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ বন্ধুদের দল থেকে বাদ পড়ার ভয়ও শিশুদের মনে প্রভাব ফেলে। আবার বাবা-মা হিসেবে আমাদের নিজস্ব মূল্যবোধও থাকে। আমরা হয়তো চাই না আমাদের সন্তান অতিরিক্ত সহিংসতা বা ভীতিকর সিনেমা দেখুক।
এ কারণে সন্তানের সুস্থতা নিয়ে বাবা-মায়েদের দুশ্চিন্তা হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে গবেষকরা বলছেন অতিরিক্ত মাত্রায় না দেখলে এসব কনটেন্টের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বেশি না ভাবলেও চলবে। চার বছরের কোনো শিশু সারাদিন হরর গেম বা ভয়ের সিনেমা নিয়ে পড়ে থাকলে চিন্তা হবেই। কিন্তু স্বাভাবিক সীমার মধ্যে থেকে একটু-আধটু হরর সিনেমা দেখা বা গেম খেললে তেমন ভয়ের কিছু নেই।
ছোটরা খুব বেশি ভয়ের কিছু দেখলে সাময়িকভাবে কিছুটা ভয় পেতে পারে। এটাই স্বাভাবিক। হয়তো হঠাৎ অন্ধকারে ভয় পাবে। অচেনা মানুষ দেখলে ঘাবড়ে যাবে। ঘুমেও সমস্যা হতে পারে। হয়তো মাঝে মাঝে দুঃস্বপ্নও দেখবে।
এসব দেখে ছোটখাটো কিছু সমস্যা হতে পারে ঠিকই। তবে বড় বা স্থায়ী কোনো ক্ষতির আশঙ্কা খুবই সামান্য।
আধুনিক যুগে সন্তানদের পুরোপুরি স্ক্রিন থেকে দূরে রাখা সম্ভব নয়। তবে কিছু কৌশল মেনে চললে পরিস্থিতি সামলানো কিছুটা সহজ হয়।
প্রথমে গেম বা সিনেমার রেটিং দেখুন। বয়স অনুযায়ী কন্টেন্ট বাছাই করা জরুরি। একই রেটিংয়ের দুটি সিনেমার মাঝেও অনেক পার্থক্য থাকতে পারে। তাই নিজে একটু খোঁজ নিন। শুধু ‘না’ বলবেন না। কেন না বলছেন, তা বুঝিয়ে বলুন। সন্তানের অনুভূতিকে সম্মান দিন। বলুন যে আপনি তাদের নিয়ে চিন্তিত। সব সময় ‘হ্যাঁ অথবা না’ নীতিতে চলবেন না।
একসঙ্গে সিনেমা দেখার সময় ভীতিকর দৃশ্য সামনে এলে চোখ ঢেকে দিন। বা সেই অংশটুকু কেটে দিন। পুরো সিনেমা বন্ধ করার দরকার নেই। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই নিয়ম শিথিল করতে পারেন। আবার কিশোর বয়সে ছোটদের কার্টুন দেখতে বাধ্য করাটা উল্টো ক্ষতি করতে পারে। বুঝতে দিন বাস্তবের সঙ্গে স্ক্রিনের পার্থক্য কী।
সিনেমা একা দেখতে না দিয়ে, আপনিও বসুন। দেখুন এসব সিনেমায় কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। বারবার চোখ ঢাকছে? রাতে আলো জ্বালিয়ে ঘুমাতে চাইছে? তাহলে বুঝতে হবে কন্টেন্টটি বাচ্চার জন্য বেশি ভীতিকর হয়ে গেছে। একটি বিষয় মনে রাখবেন, প্রতিটি শিশুই আলাদা। একজন বাচ্চা যা দেখে ভয় পায়, অন্যজন হয়তো তা দেখে হাসে। তাদের নিজেদের পছন্দ বুঝতে সাহায্য করুন।
প্যারেন্টিং সহজ নয়। আবার এখানে নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা করা না করাই ভালো। বরং ‘যথেষ্ট ভালো’ হওয়ার চেষ্টা করুন। নিজের প্যারেন্টিংয়ের ওপর আস্থা রাখুন। বাচ্চাদের সঙ্গে সহজ সম্পর্ক তৈরি করুন। তাহলে দেখবেন, ভয়ের সিনেমা বা গেম আপনার সন্তানের কোনো গুরুতর ক্ষতি করতে পারবে না।
তথ্যসূত্র: সাইকোলজি টুডে
.png)

বেতন হাতে পেয়েই মনে হয়, এবার কিছু টাকা ঠিকই জমাব। কিন্তু কয়েক দিন যেতে না যেতেই শুরু হয় খরচের মিছিল। বাসাভাড়া, বাজার, বিদ্যুৎ-গ্যাসের বিল, যাতায়াত, কেনাকাটা; একে একে টাকা খরচ হতে থাকে। দেখতে দেখতে মাস শেষ, অথচ সঞ্চয়ের খাতায় যোগ হয়নি কিছুই। এভাবেই মাসের পর মাস কেটে যায়, কিন্তু সঞ্চয় আর হয়ে ওঠে না।
২১ আগস্ট ২০২৬
বিয়ের সবচেয়ে পরিচিত রীতিগুলোর একটি হলো বিয়ের আংটি পরানো। সাধারণত সেই আংটি পরানো হয় বাম হাতের অনামিকা আঙুলে। বিশেষ করে পশ্চিমা সংস্কৃতিতে বাগদান বা বিয়ের পর অনেক জুটিই এই আঙুলে আংটি পরেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিয়ের আংটি অন্য কোনো আঙুলে না পরে অনামিকাতেই কেন পরানো হয়? শুধু কি দেখতে সুন্দর লাগে বলে?
২০ আগস্ট ২০২৬
প্রতি মাসের শুরুতেই আমরা অনেকেই ঠিক করি, এবার কিছু টাকা জমাব। বেতন হাতে আসার পর মনে হয়, এই মাসে আর অযথা খরচ নয়। কিন্তু মাস যত গড়াতে থাকে, সেই পরিকল্পনাও ধীরে ধীরে ভুলে যাই। মাস শেষে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা পকেটের দিকে তাকিয়ে দেখা যায়, জমার মতো টাকা আর অবশিষ্ট নেই। ফলে সঞ্চয়ের পরিকল্পনা আবারও পিছিয়ে য
১৫ আগস্ট ২০২৬
একসঙ্গে থাকতে থাকতে অনেক দম্পতির জীবনেই একটা সময় আসে, যখন দুজনের মধ্যে আগের মতো ঘনিষ্ঠতা থাকে না। ভালোবাসা হয়তো আছে, কিন্তু কথা বলার সময় কমে যায়। কারও অফিস শেষ হতে রাত হয়ে যায়, কেউ আবার সারাদিন ঘরের কাজ সামলে ক্লান্ত। এর সঙ্গে যোগ হয় অভিমান, মানসিক চাপ কিংবা সম্পর্কের ছোট ছোট দূরত্ব। একসময় দেখা যায়,
১৪ আগস্ট ২০২৬