আপনার আদরের বিড়ালটি কি বিষণ্ন? চিনে নিন এর লক্ষণগুলো

লেখা:
লেখা:
জেসিকা কিম ও ড. অ্যাশলে ডার্বি

ক্যাটস্টার থেকে নেওয়া ছবি

বিড়াল স্বভাবগতভাবেই একটু উদাসীন বা আত্মকেন্দ্রিক প্রাণী। তবে তারা নানা ধরনের আবেগ অনুভব করতে পারে। বিশেষ করে বিড়ালের জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসলে এদের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আচরণ দেখে তা কিছুটা ধারণা করা যায়। কোনো সঙ্গীকে হারানো, চলাফেরার ক্ষমতা কমে যাওয়া, অসুস্থতা বা একঘেয়েমি; বিষণ্নতার কারণ হতে পারে।

তবে প্রতিটি বিড়ালের বিষণ্নতার অভিজ্ঞতা আলাদা হয়। তাই একেকটি বিড়ালের ক্ষেত্রে এর প্রকাশও একেক রকম হতে পারে। মিলিয়ে দেখুন আপনার আদরের পোষা বিড়ালের মধ্যে এই বিষণ্ণতার লক্ষণগুলো আছে কি-না!

সবকিছুতে অনীহা

বিষণ্ন বিড়ালরা আগে যেসব বিষয় উপভোগ করত, সেগুলোর প্রতি তাদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে। হয়তো প্রিয় কোনো খাবার দেখলে আগের মতো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করবে না। অনেক সময় এমনও মনে হতে পারে, আপনার বিড়ালটি কেবল একাকী থাকতে চায়। হয়তো নিজেকে গুটিয়ে নেবে এবং এমন কোনো লুকানো জায়গা খুঁজে নেবে যেখানে কেউ তাকে বিরক্ত করবে না।

অলসতা বা নিস্তেজ ভাব

বিড়ালের বিষণ্নতার আরেকটি লক্ষণ হলো অলসতা। আপনার বিড়ালটি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঘুমাতে পারে। সাধারণত বিড়াল প্রচুর ঘুমায়। একটি সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক বিড়াল দিনে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমাতে পারে। তবে, বিষণ্ণ বিড়াল আরও বেশিক্ষণ শুয়ে থাকতে পারে বা ঘুমাতে পারে।

বিষণ্ন বিড়ালরা আগে যেসব বিষয় উপভোগ করত, সেগুলোর প্রতি তাদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে। হয়তো প্রিয় কোনো খাবার দেখলে আগের মতো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করবে না। অনেক সময় এমনও মনে হতে পারে, আপনার বিড়ালটি কেবল একাকী থাকতে চায়। হয়তো নিজেকে গুটিয়ে নেবে এবং এমন কোনো লুকানো জায়গা খুঁজে নেবে যেখানে কেউ তাকে বিরক্ত করবে না।

দেখবেন, এরা খাবার খাওয়া বা খেলার চেয়ে শুয়ে থাকাই বেশি পছন্দ করছে। এ সময় বিড়ালকে নড়ানো আপনার জন্য কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তবে, এই অলসতা অন্য কোনো অসুস্থতা বা আঘাতের লক্ষণও হতে পারে। তাই আপনার বিড়ালের মধ্যে যদি কোনো লক্ষণ দেখায়, তবে শারীরিক কোনো অসুস্থতা আছে কি না তা নিশ্চিত করতে একজন পশু চিকিৎসকের (ভেটেরিনারি সার্জন) পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় অনীহা

বিড়াল স্বভাবতই নিজেদের পরিষ্কার রাখতে ভালোবাসে। সাধারণত নিজেদের পরিষ্কার রাখার কাজটা এরা বেশ ভালোভাবেই করে। কিন্তু বিষণ্নতার কারণে এদের এই অভ্যাসে পরিবর্তন আসতে পারে এবং নিজের যত্ন নেওয়ার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।কিছু বিড়াল নিজেকে পরিষ্কার করার আগ্রহ বা ইচ্ছাও হারিয়ে ফেলতে পারে।

লিটার বক্সের অভ্যাসে পরিবর্তন

বিষণ্ন থাকলে বিড়ালের লিটার বক্স (যেখানে তারা মলমূত্র ত্যাগ করে) ব্যবহারের অভ্যাসে পরিবর্তন আসতে পারে। হয়তো দেখবেন লিটার বক্স ব্যবহারে অভ্যস্ত বিড়াল হঠাৎ বক্সের বাইরে প্রস্রাব করতে শুরু করেছে।

আবার মানসিক চাপের কারণে বিড়ালদের ‘সিস্টাইটিস’ (মূত্রাশয়ের প্রদাহ), এমনকি ‘ইউরিনারি অবস্ট্রাকশন’ (মূত্রনালিতে বাধা) হতে পারে। যদি আপনার বিড়ালের প্রস্রাব করতে কষ্ট হয়, প্রস্রাবের সাথে রক্ত যায়, বা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি প্রস্রাব করে, তবে দ্রুত পশু চিকিৎসকের কাছে নেওয়া উচিত।

সারাক্ষণ আঁকড়ে ধরে থাকা (ক্লিংগিনেস)

বিষণ্ন হলে বিড়াল মালিকের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীল বা আঁকড়ে ধরে থাকতে পারে। এরা হয়তো মালিকের পিছু পিছু সারা বাড়ি ঘুরে বেড়াবে বা মালিকের ওপর বসে বা শুয়ে থাকবে। কিছু বিড়ালের ক্ষেত্রে ‘সেপারেশন অ্যাংজাইটি’ (মালিক থেকে আলাদা হওয়ার ভয়) দেখা দিতে পারে। মালিক বাড়ি থেকে বের হলে তারা প্রচণ্ড বিচলিত হয়ে উঠতে পারে।

বিড়ালের আচরণে পরিবর্তন দেখলে অবহেলা করবেন না। আপনার আদরের বিড়ালের আচরণে পরিবর্তন দেখা দিলে প্রথমেই পশু চিকিৎসকের কাছে যান। সেই সঙ্গে বমি হওয়া, অতিরিক্ত তৃষ্ণা বা মলমূত্র ত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তনের মতো অসুস্থতার কোনো লক্ষণ আছে কি না, সেদিকেও নজর রাখুন। এই তথ্যগুলো পশু চিকিৎসককে সঠিক রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করতে পারে।

এমনকি বিষণ্নতায় ভুগলে আত্মবিশ্বাসী বা মিশুকে স্বভাবের বিড়ালদের মধ্যে ‘স্ট্রেঞ্জার অ্যাংজাইটি’ (অপরিচিতদের ভয়) তৈরি হতে পারে।

উত্তেজনা বা আক্রমণাত্মক আচরণ বৃদ্ধি

কিছু বিড়াল বিষণ্ন হলে উল্টো আচরণও করতে পারে। এরা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। এমনকি সাধারণত শান্ত প্রকৃতির হয়, তারাও আক্রমণাত্মক আচরণ দেখাতে পারে। তারা হয়তো চাইবে না কেউ তাদের স্পর্শ করুক, কোলে তুলে নিক বা আদর করুক।

বিড়ালের আক্রমণাত্মক আচরণের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে হিসহিস শব্দ করা, কামড়ানো, দাঁত কিড়মিড় করা, আঁচড় দেওয়া এবং গরগর শব্দ করা (গ্রাউলিং)।

খাওয়ার রুচিতে পরিবর্তন

বিষণ্ণতার কারণে বিড়ালের খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আসে। যেহেতু এটা একেকটি বিড়ালের ওপর একেকভাবে প্রভাব ফেলে, তাই কিছু বিড়াল খাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে। আবার হয়তো আগের চেয়ে বেশি খেতে চাইতে পারে। যেমন যদি বিড়ালের মন খারাপ হওয়া কোনো ব্যথা বা উদ্বেগের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তবে এর ক্ষুধা কমে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আবার যদি বিষণ্ণতা একঘেয়েমির কারণে হয়, তবে সে হয়তো অতিরিক্ত খেতে পারে।

ব্যথা

দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বা অসুস্থতার কারণেও বিড়ালের বিষণ্নতা দেখা দিতে পারে। যেসব বিড়ালের দীর্ঘস্থায়ী কোনো শারীরিক সমস্যা হলে তারা বিষণ্ন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে যদি সেই সমস্যা তাদের জীবনযাত্রায় অনেক পরিবর্তন নিয়ে আসে।

উদাহরণস্বরূপ, আর্থ্রাইটিসে (বাতের ব্যথা) আক্রান্ত বয়স্ক বিড়ালরা যখন আগের মতো উঁচু কাউন্টারে লাফিয়ে উঠতে বা ক্যাট ট্রিতে চড়তে পারে না, তখন এদের মধ্যে লক্ষণ দেখা যেতে পারে।

বিষণ্ন বিড়ালকে কীভাবে সাহায্য করবেন

বিড়ালের আচরণে পরিবর্তন দেখলে অবহেলা করবেন না। আপনার আদরের বিড়ালের আচরণে পরিবর্তন দেখা দিলে প্রথমেই পশু চিকিৎসকের কাছে যান। সেই সঙ্গে বমি হওয়া, অতিরিক্ত তৃষ্ণা বা মলমূত্র ত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তনের মতো অসুস্থতার কোনো লক্ষণ আছে কি না, সেদিকেও নজর রাখুন। এই তথ্যগুলো পশু চিকিৎসককে সঠিক রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করতে পারে।

একঘেয়েমি কাটাতে বিড়ালের রুটিন বদলে দিন। নতুন খেলনা দিন ও মজাদার খাবার দিন। এদের পরিবেশ আকর্ষণীয় করতে ‘ক্যাট টিভি’ বা গান শোনাতে পারেন।

এ ছাড়া সঙ্গীর শোকে কাতর বিড়ালকে বেশি সময় দিন। গায়ে হাত বুলিয়ে আদর করুন এবং বেশি যত্ন দিন।

শারীরিক ব্যথার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ বা ম্যাসাজের ব্যবস্থা করতে পারেন। বয়স্ক বিড়াল উঁচু জায়গায় উঠতে না পারলে ছোট সিঁড়ি বা ঢালু পথ (র‍্যাম্প) বানিয়ে দিন। চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধও দেওয়া যেতে পারে।

ক্যাট বিহেভিয়ারিস্ট বা বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। তাঁরা বিড়ালের মন ভালো করার জন্য সঠিক প্রশিক্ষণ বা রুটিন তৈরি করে দিতে পারবেন।

  • ক্যাটস্টার থেকে অনুবাদ করেছেন ফাবিহা বিনতে হক
Ad 300x250

সম্পর্কিত