ভিডিও গায়েব নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তামিমের, অনড় জোহা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ২২
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয় থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ গায়েবের অভিযোগ নিয়ে প্রসিকিউটর ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর জোহা হার্ডড্রাইভ বদল ও ফুটেজ গায়েবের দাবি করলে তা নাকচ করে দেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। তবে তামিমের এই বক্তব্যের পর জোহা প্রশ্ন তুলেছেন— যার বিরুদ্ধে তদন্ত, তিনি কীভাবে এ বিষয়ে কথা বলেন? একইসঙ্গে নিজের দেওয়া তথ্যে অনড় থাকার কথাও জানিয়েছেন জোহা।

বুধবার (১ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তানভীর জোহার বক্তব্যের পর গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পাঠানো হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় প্রসিকিউটর তামিম প্রতিক্রিয়া জানান।

তানভীর জোহার দাবি নাকচ করে প্রসিকিউটর তামিম তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় সাংবাদিকদের জানান, ‘ট্রাইব্যুনালের সিসিটিভি ফুটেজ থাকা না থাকার বিষয়ে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি এখনও কাজ শুরু করেনি। কমিটির পক্ষ থেকে প্রসিকিউটর জোহাকেও এ বিষয়ে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তিনিও এ বিষয়ে কমিটিকে কিছু জানাননি।’

জোহার বক্তব্যকে নিজস্ব মত উল্লেখ করে প্রসিকিউটর তামিম লিখিত বার্তায় বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ থাকা না থাকার বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য তার ব্যক্তিগত। অনুসন্ধান চলাকালে এ ধরনের বক্তব্য অনভিপ্রেত।’ ট্রাইব্যুনালের সিসিটিভি সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এই প্রসিকিউটর জানান, তাদের (ট্রাইব্যুনালে) কোনো ফুটেজ গায়েব হয়নি।

প্রসিকিউটর তামিমের এমন বক্তব্যের জবাবে পাল্টা মন্তব্য করেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ প্রসিকিউটির তানভীর জোহা। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘বিষয়টা তো আপনারা বুঝতেই পারছেন। তামিম ভাই সিনিয়র, তিনি প্রথমে বক্তব্যটা চিফ প্রসিকিউটরকে কোট করে দেন। কিন্তু পরে তা এডিট করে বাদ দেন। আর তদন্তটা তো তাঁর বিরুদ্ধে। তিনি কীভাবে এ বিষয়ে কথা বলেন?’

একইসঙ্গে তিনি জানান, ফুটেজ গায়েব ও হার্ডড্রাইভ বদলের বিষয়ে তিনি সকালে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে পুরোপুরি অটল আছেন।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয় থেকে জানা যায়, প্রসিকিউটর গাজী তামিমের কক্ষে আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানো মামলার আসামি আফজালুলের পরিবারের এক সদস্য টাকার ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ তুলেছিলেন অপর প্রসিকিউটর বিএম সুলতান। সেদিন আসলে কী ঘটেছিল, তা যাচাই করতে গত বছরের ১৩ অক্টোবরের সিসিটিভি ভিডিও সংগ্রহ করতে যান প্রসিকিউশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাসুদ রানা। কিন্তু তিনি দেখতে পান, নির্দিষ্ট ওই দিনের ভিডিওটি হার্ডড্রাইভে নেই।

ব্রিফিংয়ে গায়েব হওয়া ওই ভিডিও প্রযুক্তির সাহায্যে উদ্ধার করা যায়নি জানিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর জোহা বলেন, ‘প্রাথমিক অবস্থায় আমরা জানতে পেরেছি যে, সিজ-লগগুলোতে যে হার্ডড্রাইভগুলো থাকার কথা ছিল, সেখানে পুরনো-নতুন কিছু হার্ডড্রাইভ রিপ্লেস হয়েছে। সিজলগ এবং রেজিস্টার খাতায়ও আমরা প্রাথমিক অবস্থায় বিষয়টি দেখতে পেয়েছি।"

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটির সদস্য নই। তবে আদিষ্ট হয়ে এই তদন্ত করেছি।’

তদন্তে পাওয়া বিষয়গুলো কমিটিকে অবহিত করেছেন জানিয়ে প্রসিকিউটর জোহা বলেন, ‘এটা তদন্তাধীন বিষয়। আমরা ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটিকে বিষয়টি অবহিত করেছি। মন্ত্রণালয় দ্বারা আদিষ্ট হয়ে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে এবং রিকমেন্ডেশন করবে। সুতরাং আমি এ বিষয়ে অগ্রিম মন্তব্য করতে পারছি না।’

হার্ডড্রাইভ বদলের ঘটনাটি গত বছরের উল্লেখ করলেও নির্দিষ্ট তারিখটি এই মুহূর্তে তার মনে নেই বলে জানান জোহা।

এ ঘটনায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে কি না– এমন প্রশ্নে জোহা বলেন, ‘কোনো জিডির তথ্য আমার কাছে এই মুহূর্তে জানা নেই।’

সম্পর্কিত