আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এইচআরডব্লিউর

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ২৩: ০৩
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট। সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। আজ বুধবার (২৯ জুলাই) সংস্থাটির এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি আজ বুধবার এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে।

সংস্থাটি দাবি করেছে, এতে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশের আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং নতুন করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা তৈরি হতে পারে।

গত ২৭ জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটররা। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন রাজনীতিক, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাংবাদিক। তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সময়ে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিচার চলছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলন দমনে ৮০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু ও হাজারো মানুষ আহত হওয়ার ঘটনাসহ বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের অভিযোগও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, ‘দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি হলেও অনেক বিচার আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের মান পূরণ করছে না।’ তিনি বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা সংস্কারেরও আহ্বান জানান।

সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালে চলমান একাধিক মামলায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একই লেখা একাধিক সাক্ষ্য বিবৃতিতে হুবহু ব্যবহার করা হয়েছে, যা এসব সাক্ষ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গভীর সন্দেহ তৈরি করেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ট্রাইব্যুনাল এ পর্যন্ত ছয়টি মামলার বিচার শেষ করেছে। এতে ৬২ জন দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪২ জনের বিচার হয়েছে অনুপস্থিতিতে। ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এইচআরডব্লিউ জানায়, ২০২৪ সালে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য করার চেষ্টা করলেও যথাযথ বিচারিক সুরক্ষা নিশ্চিত হয়নি। বর্তমান নির্বাচিত সরকারও এ আইনে আর কোনো সংশোধন আনেনি। বিদ্যমান আইনে পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই গ্রেপ্তার, দীর্ঘ সময় লিখিত কারণ ছাড়া আটকে রাখা, সীমিত আপিলের সুযোগ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য অত্যন্ত অল্প সময় দেওয়ার মতো বিতর্কিত বিধান রয়েছে।

প্রতিবেদনে গত ১৪ মে গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার বিষয়টির ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ নিয়ে ‘মিথ্যা তথ্য’ প্রচারের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়। পরে তাদেরও মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ৪১ জনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাদের আইনজীবীদের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় কোনো লিখিত কারণ জানানো হয়নি।

চট্টগ্রামের একটি মামলার উদাহরণ দিয়ে এইচআরডব্লিউ বলেছে, ৫৫টি সাক্ষ্যবিবৃতির মধ্যে অনেকগুলোতে একই ভাষা পুনরাবৃত্ত হয়েছে। একই মামলায় আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর জামিনের বিনিময়ে অর্থ দাবি করেছিলেন বলে এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগ প্রকাশের পর তিনি পদত্যাগ করলেও তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।

মীনাক্ষী গাঙ্গুলী আরও বলেন, অতীতের রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বিচারের যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের বর্তমান কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। একই ধরনের সাক্ষ্যবিবৃতির ওপর ভিত্তি করে মামলা পরিচালনা একটি বিশ্বাসযোগ্য বিচারপ্রক্রিয়ার গভীর অভাবকে তুলে ধরে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত